পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক Logo মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ জন দালাল আটক

নওগাঁ হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

(নওগাঁ) প্রতিনিধি : গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’। বাংলাদেশের গ্রাম নিয়ে প্রচলিত প্রবাদটি আজও মানুষের মুখে শোনা যায়। কিন্তু গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও দেখতে পাওয়া যায় না বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান ও গম সংরক্ষণের গ্রামীণ পদ্ধতি গোলা।
নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের এ ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। একসময় মেয়ে দিতেও ছেলেপক্ষের বাড়িতে ধানের গোলা আছে কিনা খবর নিতেন মেয়ে পক্ষের লোকজন যা এখন শুধু রূপকথা গল্পের মতো। আগে প্রতিটি কৃষকের বাড়িতে ধান রাখার জন্য গোলা ছিল। এখন যেন স্মৃতি হয়ে রয়েছে এসব গোলা। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে নেই ধান মজুত করে রাখার বাঁশ-বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলাঘর। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়ায় গ্রামের প্রতিটি পরিবারে ছিল মাটির তৈরি ধানের গোলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর জন্য শুকনা খাবার মজুদ থাকত এসব গোলায়। রাজাকার আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী তা লুটপাট করে গ্রামের অনেক গোলাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির তৈরি করা ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত টিনের বা খড়ের তৈরি পিরামিড আকৃতির মতো ছাউনি। গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ ফাটিয়ে ও কঞ্চি দিয়ে প্রথমে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বর্গ অথবা আয়তক্ষেত্র আকারে গোলা তৈরি করা হতো। এরপর তার গায়ের ভেতরে-বাইরে মাটির আস্তরণ লাগানো হতো। এর মধ্যে মুখ বা প্রবেশপথ রাখা হতো। যাতে করে প্রয়োজনে ধান রাখা বা বের করা যায়।
নিয়ামতপুর উপজেলার দেওয়ানপাড়ায় গ্রামের প্রয়াত আজিজুর রহমানের বাড়ির সামনে তাদের বংশীয় ধারার চিহ্ন এসব গোলা চোখে পড়ে সবার। মাটির তৈরি গোলাতে ধান ভালো থাকে। একটি গোলায় বছরের অধিক সময় পর্যন্ত ৫০০-৬০০ মণ ধান ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়। দেওয়ানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, আমার নিজস্ব গোলা রয়েছে। এতে আমি অনায়াসে ৪৫০-৫০০ মণ ধান রাখতে পারি। যখন প্রয়োজন মনে করি সেখান থেকে ধান বিক্রি করি। এ ছাড়া মাটি থেকে গোলার মূল স্তম্ভ কিছুটা উঁচুতে থাকায় তাতে ইঁদুর ধান খেতে পারে না। এতে করে ধানটাও ভালো থাকে। একটি গোলা তৈরিতে সব মিলিয়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বলেন, ধানের গোলা পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক বহনের পাশাপাশি কৃষকের চিন্তামুক্তির একটি বিষয় হতে পারে। কৃষক নিজে ধান মজুদ করতে না পেরে দাম কমের সময় সকল ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু

নওগাঁ হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

আপডেট টাইম : ০৩:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪

(নওগাঁ) প্রতিনিধি : গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’। বাংলাদেশের গ্রাম নিয়ে প্রচলিত প্রবাদটি আজও মানুষের মুখে শোনা যায়। কিন্তু গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও দেখতে পাওয়া যায় না বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান ও গম সংরক্ষণের গ্রামীণ পদ্ধতি গোলা।
নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের এ ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। একসময় মেয়ে দিতেও ছেলেপক্ষের বাড়িতে ধানের গোলা আছে কিনা খবর নিতেন মেয়ে পক্ষের লোকজন যা এখন শুধু রূপকথা গল্পের মতো। আগে প্রতিটি কৃষকের বাড়িতে ধান রাখার জন্য গোলা ছিল। এখন যেন স্মৃতি হয়ে রয়েছে এসব গোলা। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে নেই ধান মজুত করে রাখার বাঁশ-বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলাঘর। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়ায় গ্রামের প্রতিটি পরিবারে ছিল মাটির তৈরি ধানের গোলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর জন্য শুকনা খাবার মজুদ থাকত এসব গোলায়। রাজাকার আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী তা লুটপাট করে গ্রামের অনেক গোলাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির তৈরি করা ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত টিনের বা খড়ের তৈরি পিরামিড আকৃতির মতো ছাউনি। গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ ফাটিয়ে ও কঞ্চি দিয়ে প্রথমে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বর্গ অথবা আয়তক্ষেত্র আকারে গোলা তৈরি করা হতো। এরপর তার গায়ের ভেতরে-বাইরে মাটির আস্তরণ লাগানো হতো। এর মধ্যে মুখ বা প্রবেশপথ রাখা হতো। যাতে করে প্রয়োজনে ধান রাখা বা বের করা যায়।
নিয়ামতপুর উপজেলার দেওয়ানপাড়ায় গ্রামের প্রয়াত আজিজুর রহমানের বাড়ির সামনে তাদের বংশীয় ধারার চিহ্ন এসব গোলা চোখে পড়ে সবার। মাটির তৈরি গোলাতে ধান ভালো থাকে। একটি গোলায় বছরের অধিক সময় পর্যন্ত ৫০০-৬০০ মণ ধান ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়। দেওয়ানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, আমার নিজস্ব গোলা রয়েছে। এতে আমি অনায়াসে ৪৫০-৫০০ মণ ধান রাখতে পারি। যখন প্রয়োজন মনে করি সেখান থেকে ধান বিক্রি করি। এ ছাড়া মাটি থেকে গোলার মূল স্তম্ভ কিছুটা উঁচুতে থাকায় তাতে ইঁদুর ধান খেতে পারে না। এতে করে ধানটাও ভালো থাকে। একটি গোলা তৈরিতে সব মিলিয়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বলেন, ধানের গোলা পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক বহনের পাশাপাশি কৃষকের চিন্তামুক্তির একটি বিষয় হতে পারে। কৃষক নিজে ধান মজুদ করতে না পেরে দাম কমের সময় সকল ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।