পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

দাদন ব্যবসায়ীর ভয়ে ঘর ছাড়া চা বিক্রেতা সুদ আসলে পরিশোধ করেও আসামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
চড়া সুদে ঋন নিয়ে দাদন ব্যবসায়ীর জালে ফেঁসে গেছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী এলাকার মিটন মিয়া (৪২) নামে এক চা বিক্রেতা। ৫০ হাজার টাকা ঋনের ৫ বছরে সুদ আসলে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেও মামলার আসামী হয়েছেন তিনি। এখন মামলা ও দাদন ব্যবসায়ীর লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই চা বিক্রেতা।

পরে উপায়ান্তর না পেয়ে নিজের নিরাপত্তা ও আইনী সহায়তা চেয়ে সোমবার দুপুরে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চা বিক্রেতা। লিটন মিয়া ওই দিঘলটারী এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে।

জানাগেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার দুরাকুটি এলাকার মৃত বদর উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে দাদন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (৫৮) দীর্ঘদিন থেকে এলাকার অভাবী লোকজনকে সুদের উপর টাকা ধার দিয়ে আসছে । ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির সময় চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় জিবন বাঁচাতে রফিকুলের কাছ থেকে দুইটি ফাঁকা ব্যাংক চেক দিয়ে চড়া সুদে ৫০হাজার টাকা ঋন নেয় লিটন মিয়া। কয়েক মাস সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারলেও পরবর্তীতে অভাবে পড়ে আর টাকা দিতে পারেনি লিটন। এই সুযোগে দাদন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রবিউলের সুদের সুদ (চক্রবর্তী সুদ) দাবী করেন। একপর্যায়ে চক্রবর্তী সুদ হিসাবে ২০২৫ সালে হয় ৬লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পরে দাদন ব্যবসায়ী রবিউলের ভয়ে লিটন গরু, ছাগল, জমি বিক্রয় করে কয়েকজনকে স্বাক্ষী রেখে গত ২ ফেব্রুয়ারি ৬লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু এসময় রবিউল আরো টাকা দাবী করে চেকের পাতা ফেরত না দিয়া ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষীগনসহ মিটনকে তারিয়ে দেয়। পরে দাদন ব্যবসায়ী রবিউল ফাঁকা চেকের পাতায় ১৫ লাখ টাকার অংক বসিয়ে মিটন মিয়ার নামে মামলা করে। এখন মামলা ও দাদন ব্যবসায়ীর লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই চা বিক্রেতা। অবশেষে সোমবার দুপুরে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চা বিক্রেতা।

ভুক্তভোগী লিটন মিয়া জানান, দাদন ব্যবসায়ী রফিকুলের লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে আমি বাড়িতে যেতে পারছি না। আত্মীয়দের বাড়িতে বাড়িতে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। নিজের নিরাপত্তা ও আইনী সহযোগিতা চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি, দেখি থানা পুলিশ আমাকে কি সাহায্য করে।

এ ব্যাপারে দাদন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রবিউল মুঠোফোনে বলেন, প্রায় ৫ বছর হয় লিটনকে ৫০হাজার টাকা ধার দিয়েছি। সে টাকা শোধ না করে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে ‘গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকালে সুদ আসলে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলে ফাঁকা চেক দু’টি ফেরত দেননি কেন?’ এমন প্রশ্ন করতেই সে ফোন কেটে দেয়।

আদিতমারী থানার ওসি আলী আকবর জানান, সুদে টাকা লেনদেনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

দাদন ব্যবসায়ীর ভয়ে ঘর ছাড়া চা বিক্রেতা সুদ আসলে পরিশোধ করেও আসামী

আপডেট টাইম : ০৬:২১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
চড়া সুদে ঋন নিয়ে দাদন ব্যবসায়ীর জালে ফেঁসে গেছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী এলাকার মিটন মিয়া (৪২) নামে এক চা বিক্রেতা। ৫০ হাজার টাকা ঋনের ৫ বছরে সুদ আসলে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেও মামলার আসামী হয়েছেন তিনি। এখন মামলা ও দাদন ব্যবসায়ীর লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই চা বিক্রেতা।

পরে উপায়ান্তর না পেয়ে নিজের নিরাপত্তা ও আইনী সহায়তা চেয়ে সোমবার দুপুরে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চা বিক্রেতা। লিটন মিয়া ওই দিঘলটারী এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে।

জানাগেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার দুরাকুটি এলাকার মৃত বদর উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে দাদন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (৫৮) দীর্ঘদিন থেকে এলাকার অভাবী লোকজনকে সুদের উপর টাকা ধার দিয়ে আসছে । ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির সময় চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় জিবন বাঁচাতে রফিকুলের কাছ থেকে দুইটি ফাঁকা ব্যাংক চেক দিয়ে চড়া সুদে ৫০হাজার টাকা ঋন নেয় লিটন মিয়া। কয়েক মাস সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারলেও পরবর্তীতে অভাবে পড়ে আর টাকা দিতে পারেনি লিটন। এই সুযোগে দাদন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রবিউলের সুদের সুদ (চক্রবর্তী সুদ) দাবী করেন। একপর্যায়ে চক্রবর্তী সুদ হিসাবে ২০২৫ সালে হয় ৬লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পরে দাদন ব্যবসায়ী রবিউলের ভয়ে লিটন গরু, ছাগল, জমি বিক্রয় করে কয়েকজনকে স্বাক্ষী রেখে গত ২ ফেব্রুয়ারি ৬লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু এসময় রবিউল আরো টাকা দাবী করে চেকের পাতা ফেরত না দিয়া ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষীগনসহ মিটনকে তারিয়ে দেয়। পরে দাদন ব্যবসায়ী রবিউল ফাঁকা চেকের পাতায় ১৫ লাখ টাকার অংক বসিয়ে মিটন মিয়ার নামে মামলা করে। এখন মামলা ও দাদন ব্যবসায়ীর লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই চা বিক্রেতা। অবশেষে সোমবার দুপুরে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চা বিক্রেতা।

ভুক্তভোগী লিটন মিয়া জানান, দাদন ব্যবসায়ী রফিকুলের লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে আমি বাড়িতে যেতে পারছি না। আত্মীয়দের বাড়িতে বাড়িতে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। নিজের নিরাপত্তা ও আইনী সহযোগিতা চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি, দেখি থানা পুলিশ আমাকে কি সাহায্য করে।

এ ব্যাপারে দাদন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রবিউল মুঠোফোনে বলেন, প্রায় ৫ বছর হয় লিটনকে ৫০হাজার টাকা ধার দিয়েছি। সে টাকা শোধ না করে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে ‘গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকালে সুদ আসলে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলে ফাঁকা চেক দু’টি ফেরত দেননি কেন?’ এমন প্রশ্ন করতেই সে ফোন কেটে দেয়।

আদিতমারী থানার ওসি আলী আকবর জানান, সুদে টাকা লেনদেনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।