পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’: দিপু ভূইয়া

বাউফলে রাতে মাইকিং ও শোডাউন: হাতপাখার প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন

মিজানুর রহমান (বাউফল)
প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফলে গত ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রবিবার) রাতে বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা গভীর রাত পর্যন্ত মাইক ও সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করেও উচ্চস্বরে প্রচারণা, মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল চালিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আচরণবিধির প্রকাশ্য লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কালিশুরী বাজার ও কালিশুরী স্কুল মাঠ এলাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের উদ্যোগে বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চরমোনাইর শায়েখ মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মালেক আনসারীর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে কালিশুরী বাজারে একাধিকবার মিছিল ও শোডাউন দেওয়া হয়। রাত ১১টা পেরিয়ে গেলেও মাইকিং বন্ধ না করে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা হয়। এতে আশপাশের এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্বাচন কমিশনের আইন ও নির্দেশনার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।

আরও অভিযোগ উঠেছে, সমাবেশে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক লোক অংশ নেন, যাদের মধ্যে একসময়কার চিহ্নিত আওয়ামী লীগের দোসর ও বিতর্কিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব ব্যক্তিরা এখন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ব্যানারে সক্রিয় হয়ে নতুন পরিচয়ে এলাকায় অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

এছাড়া রাত ১২টা পর্যন্ত একটি স্থানে গরুর গোস্ত ও রুটি দিয়ে আপ্যায়নের আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী নিজে, তাঁর নেতাকর্মী ও চরমোনাইর শায়েখ উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। নির্বাচনকালীন সময়ে এ ধরনের আয়োজন আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, কোনো দল বা প্রার্থীকে আইন ভাঙার সুযোগ দিলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সকলের জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

বাউফলে রাতে মাইকিং ও শোডাউন: হাতপাখার প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন

আপডেট টাইম : ০৫:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিজানুর রহমান (বাউফল)
প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফলে গত ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রবিবার) রাতে বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা গভীর রাত পর্যন্ত মাইক ও সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করেও উচ্চস্বরে প্রচারণা, মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল চালিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আচরণবিধির প্রকাশ্য লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কালিশুরী বাজার ও কালিশুরী স্কুল মাঠ এলাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের উদ্যোগে বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চরমোনাইর শায়েখ মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মালেক আনসারীর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে কালিশুরী বাজারে একাধিকবার মিছিল ও শোডাউন দেওয়া হয়। রাত ১১টা পেরিয়ে গেলেও মাইকিং বন্ধ না করে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা হয়। এতে আশপাশের এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্বাচন কমিশনের আইন ও নির্দেশনার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।

আরও অভিযোগ উঠেছে, সমাবেশে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক লোক অংশ নেন, যাদের মধ্যে একসময়কার চিহ্নিত আওয়ামী লীগের দোসর ও বিতর্কিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব ব্যক্তিরা এখন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ব্যানারে সক্রিয় হয়ে নতুন পরিচয়ে এলাকায় অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

এছাড়া রাত ১২টা পর্যন্ত একটি স্থানে গরুর গোস্ত ও রুটি দিয়ে আপ্যায়নের আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী নিজে, তাঁর নেতাকর্মী ও চরমোনাইর শায়েখ উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। নির্বাচনকালীন সময়ে এ ধরনের আয়োজন আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, কোনো দল বা প্রার্থীকে আইন ভাঙার সুযোগ দিলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সকলের জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।