অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত, পতাকা বৈঠকে দুঃখ প্রকাশ বিএসএফের

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে আলী হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত পৌনে তিনটার দিকে ছ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল গফুরের ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ও বিজিবি জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার সাতগ্রাম সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের পানিয়ারটারী সীমান্ত এলাকা। এসব এলাকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৪-এর ৫ নম্বর উপপিলার সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের গরু পারাপারকারীদের সহায়তায় বাংলাদেশি ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল অবৈধভাবে গরু পারাপারকারীরা ভারতের প্রায় দুই শ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতীয় ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতমাথা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় দেশের চোরাকারবারীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে আলী হোসেন নিহত হন। নিহতের লাশ বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
গুলির ঘটনার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)- এর ধবলগুড়ি ক্যাম্পের টহল দল সীমান্তে যায় ও পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানায়।

এদিকে সকাল ১১ টায় ওই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৫-এর ১ নম্বর উপপিলারের নিকট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পর্যায়ে ২০ মিনিট স্থায়ী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের পক্ষে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট মিস্টার সৌরভ। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্য নিয়ে অংশ নেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম।
বিজিবি জানায়, সভায় বিএসএফকে সীমান্তে গুলি করে এ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিএসএফ জানায়, চোরাচালানীর সাথে জড়িতরা ভারতের ভেতরে ঢুকে বিএসএফকে আঘাত করে। বিএসএফ আত্নরক্ষার্থে গুলি করে। এতে এ অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট। বর্তমানে নিহতের লাশ মাথাভাঙা থানা পুলিশের নিকট দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার ভাই বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। রাতে সীমান্তে গিয়েছিল এটা মানুষের কাছে শুনেছি। সেখানে ঠিক কী হয়েছে, জানি না।’
এ বিষয়ে জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মজিবর রহমান জানায় ‘রাতে সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটে। শুনেছি আলী হোসেন নামে আমার ইউনিয়নের একজন ব্যক্তি গুলিতে মারা গেছেন।’
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহতের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাঁরা (বিএসএফ) দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তর পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ ফেরত আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত, পতাকা বৈঠকে দুঃখ প্রকাশ বিএসএফের

আপডেট টাইম : ০৮:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে আলী হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত পৌনে তিনটার দিকে ছ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল গফুরের ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ও বিজিবি জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার সাতগ্রাম সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের পানিয়ারটারী সীমান্ত এলাকা। এসব এলাকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৪-এর ৫ নম্বর উপপিলার সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের গরু পারাপারকারীদের সহায়তায় বাংলাদেশি ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল অবৈধভাবে গরু পারাপারকারীরা ভারতের প্রায় দুই শ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতীয় ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতমাথা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় দেশের চোরাকারবারীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে আলী হোসেন নিহত হন। নিহতের লাশ বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
গুলির ঘটনার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)- এর ধবলগুড়ি ক্যাম্পের টহল দল সীমান্তে যায় ও পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানায়।

এদিকে সকাল ১১ টায় ওই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৫-এর ১ নম্বর উপপিলারের নিকট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পর্যায়ে ২০ মিনিট স্থায়ী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের পক্ষে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট মিস্টার সৌরভ। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্য নিয়ে অংশ নেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম।
বিজিবি জানায়, সভায় বিএসএফকে সীমান্তে গুলি করে এ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিএসএফ জানায়, চোরাচালানীর সাথে জড়িতরা ভারতের ভেতরে ঢুকে বিএসএফকে আঘাত করে। বিএসএফ আত্নরক্ষার্থে গুলি করে। এতে এ অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট। বর্তমানে নিহতের লাশ মাথাভাঙা থানা পুলিশের নিকট দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার ভাই বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। রাতে সীমান্তে গিয়েছিল এটা মানুষের কাছে শুনেছি। সেখানে ঠিক কী হয়েছে, জানি না।’
এ বিষয়ে জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মজিবর রহমান জানায় ‘রাতে সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটে। শুনেছি আলী হোসেন নামে আমার ইউনিয়নের একজন ব্যক্তি গুলিতে মারা গেছেন।’
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহতের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাঁরা (বিএসএফ) দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তর পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ ফেরত আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’