পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

প্রাণীজগতের প্রথম যৌনকর্ম

বাংলার খবর২৪.কম500x350_52a02d268eed3b3840f1996946ff676e_download.jsp_ ডেস্ক : বিজ্ঞানীগণ যৌনকর্ম ও প্রজননের মূল উৎস খুঁজতে গিয়ে জেনেছেন যে প্রায় সাড়ে ৩৮ কোটি বছর আগে আর্মার্ড প্লাসোডার্ম (armoured placoderm) নামক মাছের মাধ্যমেই যৌনকর্ম শুরু হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রাগৈতিহাসিক স্কটিশ (Microbrachius dicki) মাছের জীবাশ্ম পর্যবেক্ষণ করে এক যুগান্তকারী সন্ধান পান যে- লম্বা কাঁটাযুক্ত “এল” (L) আকৃতির আঁকশির মাধ্যমে এরা স্ত্রী মাছের ভেতর শুক্রাণু প্রতিস্থাপন করে। তাঁরা আরো দেখেন যে এইসব স্ত্রী মাছের পেছনে কাঁটাযুক্ত ছোট একটি অবয়ব ছিলো, যেটার মাধ্যমে তারা পুরুষ প্রত্যঙ্গকে মিলনের অবস্থানে ধরে রাখতো।
এই চমৎকার আবিষ্কারের তথ্য নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, যাতে মানুষসহ সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মাঝে সর্বপ্রথম অভ্যন্তরীণ নিষেক ও রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানা যায়। মাছটির অনন্য শারীরিক গঠনের মাধ্যমে এটা বোঝা যায় যে তারা পাশাপাশি থেকে তাদের কাঁটাযুক্ত সংযুক্ত অংশ একত্রে আটকে একে অন্যের সাথে যৌনকর্মে মিলিত হতো।
এই গবেষণাপত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রথম উদাহরণ, যেখানে পুরুষ ও স্ত্রী ভিন্ন সত্ত্বা হিসেবে প্রজনন অঙ্গের সহায়তা নিয়েছে। এবিসি’র সংবাদ হতে জানা যায়, প্রধান গবেষক জন লং-এর ভাষ্যমতে- “এই ‘এল’ আকৃতির আঁকশিগুলো দিয়ে পুরুষগুলো স্ত্রীর কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে, যেখানে স্ত্রী মাছে দুটি ক্ষুদ্রাকৃতির এবং বেশ ধারালো ও খাঁজকাটা প্রজননাঙ্গ রয়েছে, যেগুলো দিয়ে স্ত্রীগুলো পুরুষের আঁকশিকে আটকে রাখে অনেকটা ভেলক্রো’র (হুক ও লুপের সাহায্যে বেঁধে রাখা) মতো।” তিনি আরো বলেন, “এর মাধ্যমে পুরুষগুলো তাদের জননাঙ্গকে মিলনক্রিয়ার জন্যে সঠিক স্থানে নেয়ার জন্য নাড়াতে সক্ষম হতো।” এই মাছগুলো একধরনের প্ল্যাসোডার্ম (placoderm), যেগুলো কিনা মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন মেরুদণ্ডী পূর্বসুরি হিসেবে এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় চিহ্নিত হয়েছিল। এই কাঁটাযুক্ত প্ল্যাসোডার্ম মাছগুলো ৮ সেন্টিমিটার লম্বা হতো এবং প্রায় সাড়ে ৩৮ কোটি বছর পূর্বে স্কটল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক জলাশয়গুলোতে বিচরণ করত। এটা জানা ছিলো যে মাইক্রোব্র্যাকিয়াস (Microbrachius) (অর্থ “ক্ষুদ্র বাহুগুলো”) কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই বাহুগুলোর ব্যবহার বিজ্ঞানীদের নিকট জানা ছিলো না। এই জীবাশ্মগুলোর আবিষ্কার এই গুঢ় রহস্যের সমাধান করেছে, এবং এখন এটা ধারণা করা হচ্ছে যে এই বাহুগুলো পুরুষগুলোকে তাদের আঁকশির অবস্থান স্ত্রী প্রজননাঙ্গের ভেতর প্রবেশ করাতে সাহায্য করতো।
অপরদিকে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিওবায়োলজিস্ট(জৈবজীবাশ্মবিদ) ডঃ ফ্রীডম্যান এক সংবাদ বিবৃতিতে জানান- “এই মাছগুলোর আঁকশি দুটো ব্যাপারের মাঝে যেকোনো একটি ব্যাপার নিশ্চিত করেঃ এটা হয় মেরুদণ্ডের কোনো অভূতপূর্ব অভ্যন্তরীণ প্রজনন সক্ষমতার অনুপস্থিতি অথবা এই কাঁটাময় প্ল্যাসোডার্ম জীবনবৃক্ষের একটি স্বতন্ত্র ডাল।” তিনি যোগ করেন “এই দুটি উপসংহারই নতুন প্রাপ্ত জ্ঞানের মুখে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, এবং এটাই নির্দেশ করে যে আমাদের আরো অনেক কিছুই আবিষ্কার করতে হবে আমাদের জীবনের বিবর্তনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে সুনিশ্চিত ভাবে জানার জন্য।”

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

প্রাণীজগতের প্রথম যৌনকর্ম

আপডেট টাইম : ০৪:২৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম500x350_52a02d268eed3b3840f1996946ff676e_download.jsp_ ডেস্ক : বিজ্ঞানীগণ যৌনকর্ম ও প্রজননের মূল উৎস খুঁজতে গিয়ে জেনেছেন যে প্রায় সাড়ে ৩৮ কোটি বছর আগে আর্মার্ড প্লাসোডার্ম (armoured placoderm) নামক মাছের মাধ্যমেই যৌনকর্ম শুরু হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রাগৈতিহাসিক স্কটিশ (Microbrachius dicki) মাছের জীবাশ্ম পর্যবেক্ষণ করে এক যুগান্তকারী সন্ধান পান যে- লম্বা কাঁটাযুক্ত “এল” (L) আকৃতির আঁকশির মাধ্যমে এরা স্ত্রী মাছের ভেতর শুক্রাণু প্রতিস্থাপন করে। তাঁরা আরো দেখেন যে এইসব স্ত্রী মাছের পেছনে কাঁটাযুক্ত ছোট একটি অবয়ব ছিলো, যেটার মাধ্যমে তারা পুরুষ প্রত্যঙ্গকে মিলনের অবস্থানে ধরে রাখতো।
এই চমৎকার আবিষ্কারের তথ্য নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, যাতে মানুষসহ সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মাঝে সর্বপ্রথম অভ্যন্তরীণ নিষেক ও রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানা যায়। মাছটির অনন্য শারীরিক গঠনের মাধ্যমে এটা বোঝা যায় যে তারা পাশাপাশি থেকে তাদের কাঁটাযুক্ত সংযুক্ত অংশ একত্রে আটকে একে অন্যের সাথে যৌনকর্মে মিলিত হতো।
এই গবেষণাপত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রথম উদাহরণ, যেখানে পুরুষ ও স্ত্রী ভিন্ন সত্ত্বা হিসেবে প্রজনন অঙ্গের সহায়তা নিয়েছে। এবিসি’র সংবাদ হতে জানা যায়, প্রধান গবেষক জন লং-এর ভাষ্যমতে- “এই ‘এল’ আকৃতির আঁকশিগুলো দিয়ে পুরুষগুলো স্ত্রীর কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে, যেখানে স্ত্রী মাছে দুটি ক্ষুদ্রাকৃতির এবং বেশ ধারালো ও খাঁজকাটা প্রজননাঙ্গ রয়েছে, যেগুলো দিয়ে স্ত্রীগুলো পুরুষের আঁকশিকে আটকে রাখে অনেকটা ভেলক্রো’র (হুক ও লুপের সাহায্যে বেঁধে রাখা) মতো।” তিনি আরো বলেন, “এর মাধ্যমে পুরুষগুলো তাদের জননাঙ্গকে মিলনক্রিয়ার জন্যে সঠিক স্থানে নেয়ার জন্য নাড়াতে সক্ষম হতো।” এই মাছগুলো একধরনের প্ল্যাসোডার্ম (placoderm), যেগুলো কিনা মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন মেরুদণ্ডী পূর্বসুরি হিসেবে এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় চিহ্নিত হয়েছিল। এই কাঁটাযুক্ত প্ল্যাসোডার্ম মাছগুলো ৮ সেন্টিমিটার লম্বা হতো এবং প্রায় সাড়ে ৩৮ কোটি বছর পূর্বে স্কটল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক জলাশয়গুলোতে বিচরণ করত। এটা জানা ছিলো যে মাইক্রোব্র্যাকিয়াস (Microbrachius) (অর্থ “ক্ষুদ্র বাহুগুলো”) কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই বাহুগুলোর ব্যবহার বিজ্ঞানীদের নিকট জানা ছিলো না। এই জীবাশ্মগুলোর আবিষ্কার এই গুঢ় রহস্যের সমাধান করেছে, এবং এখন এটা ধারণা করা হচ্ছে যে এই বাহুগুলো পুরুষগুলোকে তাদের আঁকশির অবস্থান স্ত্রী প্রজননাঙ্গের ভেতর প্রবেশ করাতে সাহায্য করতো।
অপরদিকে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিওবায়োলজিস্ট(জৈবজীবাশ্মবিদ) ডঃ ফ্রীডম্যান এক সংবাদ বিবৃতিতে জানান- “এই মাছগুলোর আঁকশি দুটো ব্যাপারের মাঝে যেকোনো একটি ব্যাপার নিশ্চিত করেঃ এটা হয় মেরুদণ্ডের কোনো অভূতপূর্ব অভ্যন্তরীণ প্রজনন সক্ষমতার অনুপস্থিতি অথবা এই কাঁটাময় প্ল্যাসোডার্ম জীবনবৃক্ষের একটি স্বতন্ত্র ডাল।” তিনি যোগ করেন “এই দুটি উপসংহারই নতুন প্রাপ্ত জ্ঞানের মুখে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, এবং এটাই নির্দেশ করে যে আমাদের আরো অনেক কিছুই আবিষ্কার করতে হবে আমাদের জীবনের বিবর্তনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে সুনিশ্চিত ভাবে জানার জন্য।”