পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই

ঢাকা : ‘ঘর ভাড়া দিতে পারি নাই। দ্যাশেও যাইতে পারি না। লগে টাকা নাই। তিন দিন, তিন রাত অফিসের গেটে বইসা আছিলাম। তাই তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই। পারলে বিজিএমইএর খাবার কাইড়া খামু।’ কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিক হালিমা বেগম।

এটা শুধু হালিমার কথা নয়। হালিমার মতো শত শত গার্মেন্টস শ্রমিকের কথা। শনিবার দুপুরে মিরপুর-১ এ অবস্থিত পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

অবস্থানরত শ্রমিকরা জানায়, ঈদের পর থেকে কারখানার মালিক বেতন-ভাতা নিয়ে টালবাহানা করছে। ঈদেও পুরোপুরি বেতন দেয়নি। গত (১৩ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার কারখানায় বেতন নিতে গেলে কারখানার কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানার মালিক পালিয়েছে।

কারখানাটির শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা বিজিএমইএ এর কাছে এসে কোন সমাধান পাইনি। তারা আরো আমাদের উস্কে দিচ্ছে। বিজিএমইএ’র কর্মকর্তারা বলছে, বেতন না পেলে তোমরা কারখানার মালামাল বিক্রি করে দাও। কারখানায় ভাঙচুর কর। আমাদের কাছে কেন এসেছ? আমরা কোনো সমাধান দিতে পারব না।

এ কথার সত্যতা মিলল বিজিএমইএ’র এডিশনাল সেক্রেটারি (লেবার) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে।

তিনি বলেন, কারখানার মালিক পালিয়েছে। সেখানে আমাদের করার কী আছে। আমরা তো আর মালিককে খুঁজে দেব না। মালিক থাকলে সমস্যার সমাধান করা যেত। যেহেতু মালিক নেই। তাই আমরা কিছুই করতে পারব না।

কারখানার আরেক শ্রমিক রাসেল উদ্দিন শীর্ষ নিউজের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই কী লেখেন? আমগো কথা লেইখ্যা লাভ কী? এই ল্যাখা পড়ব কে? পড়লেই বা কী হইব। বেতন দিতে পারবে না। তাইলে কারখানা চালাইয়া লাভ কী? বন্ধ কইরা দেক।’

বিজিএমইএ ভবনের দেয়ালে লেখা ‘আমার মাইয়া একদিন ডাক্তার হইব’ এমন ছোট-বড় স্বপ্নে এগিয়ে যায় মানুষ। এই লেখার দিকে দৃষ্টি দিয়ে রহিমা নামের আরেক শ্রমিক বলে উঠে ‘এইসব ঢাহা মিথ্যা কথা। আমার মাইয়া স্কুলে যাইতে পারে না। কারণ পরীক্ষার ফিস দিতে পারি নাই। তাইলে আবার ডাক্তার হইব ক্যামনে?’ –

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই

আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকা : ‘ঘর ভাড়া দিতে পারি নাই। দ্যাশেও যাইতে পারি না। লগে টাকা নাই। তিন দিন, তিন রাত অফিসের গেটে বইসা আছিলাম। তাই তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই। পারলে বিজিএমইএর খাবার কাইড়া খামু।’ কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিক হালিমা বেগম।

এটা শুধু হালিমার কথা নয়। হালিমার মতো শত শত গার্মেন্টস শ্রমিকের কথা। শনিবার দুপুরে মিরপুর-১ এ অবস্থিত পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

অবস্থানরত শ্রমিকরা জানায়, ঈদের পর থেকে কারখানার মালিক বেতন-ভাতা নিয়ে টালবাহানা করছে। ঈদেও পুরোপুরি বেতন দেয়নি। গত (১৩ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার কারখানায় বেতন নিতে গেলে কারখানার কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানার মালিক পালিয়েছে।

কারখানাটির শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা বিজিএমইএ এর কাছে এসে কোন সমাধান পাইনি। তারা আরো আমাদের উস্কে দিচ্ছে। বিজিএমইএ’র কর্মকর্তারা বলছে, বেতন না পেলে তোমরা কারখানার মালামাল বিক্রি করে দাও। কারখানায় ভাঙচুর কর। আমাদের কাছে কেন এসেছ? আমরা কোনো সমাধান দিতে পারব না।

এ কথার সত্যতা মিলল বিজিএমইএ’র এডিশনাল সেক্রেটারি (লেবার) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে।

তিনি বলেন, কারখানার মালিক পালিয়েছে। সেখানে আমাদের করার কী আছে। আমরা তো আর মালিককে খুঁজে দেব না। মালিক থাকলে সমস্যার সমাধান করা যেত। যেহেতু মালিক নেই। তাই আমরা কিছুই করতে পারব না।

কারখানার আরেক শ্রমিক রাসেল উদ্দিন শীর্ষ নিউজের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই কী লেখেন? আমগো কথা লেইখ্যা লাভ কী? এই ল্যাখা পড়ব কে? পড়লেই বা কী হইব। বেতন দিতে পারবে না। তাইলে কারখানা চালাইয়া লাভ কী? বন্ধ কইরা দেক।’

বিজিএমইএ ভবনের দেয়ালে লেখা ‘আমার মাইয়া একদিন ডাক্তার হইব’ এমন ছোট-বড় স্বপ্নে এগিয়ে যায় মানুষ। এই লেখার দিকে দৃষ্টি দিয়ে রহিমা নামের আরেক শ্রমিক বলে উঠে ‘এইসব ঢাহা মিথ্যা কথা। আমার মাইয়া স্কুলে যাইতে পারে না। কারণ পরীক্ষার ফিস দিতে পারি নাই। তাইলে আবার ডাক্তার হইব ক্যামনে?’ –