পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই

ঢাকা : ‘ঘর ভাড়া দিতে পারি নাই। দ্যাশেও যাইতে পারি না। লগে টাকা নাই। তিন দিন, তিন রাত অফিসের গেটে বইসা আছিলাম। তাই তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই। পারলে বিজিএমইএর খাবার কাইড়া খামু।’ কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিক হালিমা বেগম।

এটা শুধু হালিমার কথা নয়। হালিমার মতো শত শত গার্মেন্টস শ্রমিকের কথা। শনিবার দুপুরে মিরপুর-১ এ অবস্থিত পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

অবস্থানরত শ্রমিকরা জানায়, ঈদের পর থেকে কারখানার মালিক বেতন-ভাতা নিয়ে টালবাহানা করছে। ঈদেও পুরোপুরি বেতন দেয়নি। গত (১৩ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার কারখানায় বেতন নিতে গেলে কারখানার কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানার মালিক পালিয়েছে।

কারখানাটির শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা বিজিএমইএ এর কাছে এসে কোন সমাধান পাইনি। তারা আরো আমাদের উস্কে দিচ্ছে। বিজিএমইএ’র কর্মকর্তারা বলছে, বেতন না পেলে তোমরা কারখানার মালামাল বিক্রি করে দাও। কারখানায় ভাঙচুর কর। আমাদের কাছে কেন এসেছ? আমরা কোনো সমাধান দিতে পারব না।

এ কথার সত্যতা মিলল বিজিএমইএ’র এডিশনাল সেক্রেটারি (লেবার) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে।

তিনি বলেন, কারখানার মালিক পালিয়েছে। সেখানে আমাদের করার কী আছে। আমরা তো আর মালিককে খুঁজে দেব না। মালিক থাকলে সমস্যার সমাধান করা যেত। যেহেতু মালিক নেই। তাই আমরা কিছুই করতে পারব না।

কারখানার আরেক শ্রমিক রাসেল উদ্দিন শীর্ষ নিউজের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই কী লেখেন? আমগো কথা লেইখ্যা লাভ কী? এই ল্যাখা পড়ব কে? পড়লেই বা কী হইব। বেতন দিতে পারবে না। তাইলে কারখানা চালাইয়া লাভ কী? বন্ধ কইরা দেক।’

বিজিএমইএ ভবনের দেয়ালে লেখা ‘আমার মাইয়া একদিন ডাক্তার হইব’ এমন ছোট-বড় স্বপ্নে এগিয়ে যায় মানুষ। এই লেখার দিকে দৃষ্টি দিয়ে রহিমা নামের আরেক শ্রমিক বলে উঠে ‘এইসব ঢাহা মিথ্যা কথা। আমার মাইয়া স্কুলে যাইতে পারে না। কারণ পরীক্ষার ফিস দিতে পারি নাই। তাইলে আবার ডাক্তার হইব ক্যামনে?’ –

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই

আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকা : ‘ঘর ভাড়া দিতে পারি নাই। দ্যাশেও যাইতে পারি না। লগে টাকা নাই। তিন দিন, তিন রাত অফিসের গেটে বইসা আছিলাম। তাই তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই। পারলে বিজিএমইএর খাবার কাইড়া খামু।’ কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিক হালিমা বেগম।

এটা শুধু হালিমার কথা নয়। হালিমার মতো শত শত গার্মেন্টস শ্রমিকের কথা। শনিবার দুপুরে মিরপুর-১ এ অবস্থিত পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

অবস্থানরত শ্রমিকরা জানায়, ঈদের পর থেকে কারখানার মালিক বেতন-ভাতা নিয়ে টালবাহানা করছে। ঈদেও পুরোপুরি বেতন দেয়নি। গত (১৩ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার কারখানায় বেতন নিতে গেলে কারখানার কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানার মালিক পালিয়েছে।

কারখানাটির শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা বিজিএমইএ এর কাছে এসে কোন সমাধান পাইনি। তারা আরো আমাদের উস্কে দিচ্ছে। বিজিএমইএ’র কর্মকর্তারা বলছে, বেতন না পেলে তোমরা কারখানার মালামাল বিক্রি করে দাও। কারখানায় ভাঙচুর কর। আমাদের কাছে কেন এসেছ? আমরা কোনো সমাধান দিতে পারব না।

এ কথার সত্যতা মিলল বিজিএমইএ’র এডিশনাল সেক্রেটারি (লেবার) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে।

তিনি বলেন, কারখানার মালিক পালিয়েছে। সেখানে আমাদের করার কী আছে। আমরা তো আর মালিককে খুঁজে দেব না। মালিক থাকলে সমস্যার সমাধান করা যেত। যেহেতু মালিক নেই। তাই আমরা কিছুই করতে পারব না।

কারখানার আরেক শ্রমিক রাসেল উদ্দিন শীর্ষ নিউজের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই কী লেখেন? আমগো কথা লেইখ্যা লাভ কী? এই ল্যাখা পড়ব কে? পড়লেই বা কী হইব। বেতন দিতে পারবে না। তাইলে কারখানা চালাইয়া লাভ কী? বন্ধ কইরা দেক।’

বিজিএমইএ ভবনের দেয়ালে লেখা ‘আমার মাইয়া একদিন ডাক্তার হইব’ এমন ছোট-বড় স্বপ্নে এগিয়ে যায় মানুষ। এই লেখার দিকে দৃষ্টি দিয়ে রহিমা নামের আরেক শ্রমিক বলে উঠে ‘এইসব ঢাহা মিথ্যা কথা। আমার মাইয়া স্কুলে যাইতে পারে না। কারণ পরীক্ষার ফিস দিতে পারি নাই। তাইলে আবার ডাক্তার হইব ক্যামনে?’ –