পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

‘পথবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার দিতে সরকার ব্যর্থ’

ঢাকা : পথবাসী ও বস্তিবাসী মানুষের প্রতি সাংবিধানিক অধিকার দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নগর পথবাসী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় চিহ্নিত সমস্যা নিরসনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. মিজান বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আমরা চাই সমতা, ন্যায় বিচার এবং মানবতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।

তিনি বলেন, পথবাসী জনগণের ক্ষেত্রে বর্তমান ঠিকানা না থাকায় অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছেন না এবং ভোটার হতে পারছেন না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঠিকানা না থাকার অযুহাতে তাদেরকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। কিন্তু আইনে এটা কোনো বাধা নয়। একজন মানুষ সে যেখানেই থাকুন না কেন তিনি তার নাগরিক অধিকার প্রাপ্য হবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি আইনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি একটি জনবান্ধব আইন। তবে আইনের বাস্তবায়নকারীরা জনবান্ধব নয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই এর বড় বাধা।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত জনগণরা অ-জনগণে রুপান্তরিত হচ্ছে।

এ থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে প্রথমে সড়ষে থেকে ভূত তাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভার বিশেষ অতিথি মো. ইসরাফিল আলম এমপি বলেন, বাংলাদেশে পথবাসীদের সংখ্যা কতো তার সঠিক হিসেব সরকারের কাছে নেই। ধারণা করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার হবে। তাদের অনেক নাগরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিন্তু বিষয়টা যতোটা না আইনগত তার চেয়ে বেশি দৃষ্টিভঙ্গিজনিত। তাই সকলকে সচেতনতার বিষয়ে জোড় দিতে হবে।

তিনি বলেন, পথবাসীদের মধ্যে নারী এবং শিশু পথবাসীদের সমস্যটা বেশি। এজন্য সরকারের খাস জায়গাগুলোতে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেইসঙ্গে দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সহযোগিতা ঠিক ব্যক্তিকে দেয়া হলে এই সমস্যা কিছুটা কমবে।

সভায় পথবাসী মানুষের নাগরিক অধিকারের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ধারণাপত্র পড়ে শোনান ব্লাস্ট-এর অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কমিশনের সচিব এম.এ সালাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. এ জাফর সরকার, কনসার্ন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম মুসা প্রমুখ।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

‘পথবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার দিতে সরকার ব্যর্থ’

আপডেট টাইম : ১০:৪৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকা : পথবাসী ও বস্তিবাসী মানুষের প্রতি সাংবিধানিক অধিকার দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নগর পথবাসী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় চিহ্নিত সমস্যা নিরসনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. মিজান বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আমরা চাই সমতা, ন্যায় বিচার এবং মানবতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।

তিনি বলেন, পথবাসী জনগণের ক্ষেত্রে বর্তমান ঠিকানা না থাকায় অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছেন না এবং ভোটার হতে পারছেন না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঠিকানা না থাকার অযুহাতে তাদেরকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। কিন্তু আইনে এটা কোনো বাধা নয়। একজন মানুষ সে যেখানেই থাকুন না কেন তিনি তার নাগরিক অধিকার প্রাপ্য হবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি আইনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি একটি জনবান্ধব আইন। তবে আইনের বাস্তবায়নকারীরা জনবান্ধব নয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই এর বড় বাধা।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত জনগণরা অ-জনগণে রুপান্তরিত হচ্ছে।

এ থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে প্রথমে সড়ষে থেকে ভূত তাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভার বিশেষ অতিথি মো. ইসরাফিল আলম এমপি বলেন, বাংলাদেশে পথবাসীদের সংখ্যা কতো তার সঠিক হিসেব সরকারের কাছে নেই। ধারণা করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার হবে। তাদের অনেক নাগরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিন্তু বিষয়টা যতোটা না আইনগত তার চেয়ে বেশি দৃষ্টিভঙ্গিজনিত। তাই সকলকে সচেতনতার বিষয়ে জোড় দিতে হবে।

তিনি বলেন, পথবাসীদের মধ্যে নারী এবং শিশু পথবাসীদের সমস্যটা বেশি। এজন্য সরকারের খাস জায়গাগুলোতে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেইসঙ্গে দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সহযোগিতা ঠিক ব্যক্তিকে দেয়া হলে এই সমস্যা কিছুটা কমবে।

সভায় পথবাসী মানুষের নাগরিক অধিকারের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ধারণাপত্র পড়ে শোনান ব্লাস্ট-এর অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কমিশনের সচিব এম.এ সালাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. এ জাফর সরকার, কনসার্ন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম মুসা প্রমুখ।