অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল

রাজশাহীতে টিসিবির পণ্য নিতে ডিলারদের অনীহা

রাজশাহী : রাজশাহীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য উত্তোলনে আগ্রহ নেই ডিলারদের। চতুর্থ ধাপে বরাদ্দ উত্তোলনে শেষ দিন ছিলো বৃহস্পতিবার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ ডিলারই তাদের পণ্য উত্তোলন করেননি।

তাদের ভাষ্য, তেলের মেয়াদ রয়েছে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। মেয়াদের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে। কিন্তু তেল না তুললে অন্য পণ্য দেয়া হবে না, সে জন্য টিসিবির পণ্য উত্তোলনে ডিলারদের আগ্রহ নেই।

তবে খোলাবাজারের পণ্যের সঙ্গে টিসিবি পণ্যের দামের পার্থক্য কম হওয়ায় ডিলাররা পণ্যে আগ্রহী হচ্ছেন না। যারা পণ্য উত্তোলন করেননি খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক অফিস জানায়, রাজশাহী বিভাগে তাদের ডিলার রয়েছেন ৪২০ জন। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ৮৮জন এবং জেলায় ২৭জন। চতুর্থ ধাপে ডিলারপ্রতি বরাদ্দ ছিলো ৫০০ থেকে দেড় হাজার কেজি চিনি, ১০০ থেকে ২০০ কেজি ডাল, ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি ছোলা ও ৩০০ থেকে ৮০০ লিটার পর্যন্ত তেল।

গত ৪ জুন থেকে উত্তোলন শুরু হয়ে চলেছে ২৫ জুন পর্যন্ত। ওই সময়ের মধ্যে মাত্র ১১৪জন ডিলার তাদের বারাদ্দ উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ১৬জন এবং জেলায় মাত্র একজন ডিলার রয়েছেন। অন্যরা পণ্য উত্তোলন করেননি।

টিসিবির ডিলার নগরীর তুষার স্টোরের মালিক সুজাত মিঞা জানান, তেলের মেয়াদ খুব কম। আর রঙটাও লালচে। চিনিটা একটু ভেজা ভেজা। টিসিবির চিনি ৩৭ টাকা কেজি। কিন্তু বাইরে সাদা চিনি ৩৮ টাকা। ওটার দিকেই ক্রেতাদের নজর বেশি। টিসিবির ছোলার মান খুব ভালো। কিন্তু ছোলা ৩০০ থেকে ৫০০ কেজির বেশি দেয়া হচ্ছে না। আবার তেল না কিনলে অন্যগুলো দেয়া হয় না। এই জটিলতার কারণে বেশির ভাগ ডিলার পণ্য তুলেননি না।

তিনি বলেন, তিনি ৫০০ লিটার তেল তুলেছেন। সব তেল এখনো বিক্রি হয়নি। মেয়াদের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে ক্ষতি নিশ্চিত।

তেলের মেয়াদ শেষের দিকে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন টিসিবির রাজশাহী অফিস প্রধান আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, এসব তেল প্রায় মাস দুয়েক থেকে মজুদ রয়েছে। এ কারণেই মেয়াদ শেষের দিকে। এছাড়া চিনি রাজশাহীর হরিয়ান মিল থেকে সরবরাহকৃত উৎকৃষ্ট মানের। প্রথম দিকে আবহাওয়া জনিত কারনে কিছুটা ভেজা ভেজা মনে হচ্ছিলো, তবে এখন তা আর নেই।

তার দাবি, টিসিবির পণ্যের সঙ্গে খোলাবাজারের পণ্যের দামের পার্থক্য কম হওয়ায় ডিলাররা টিসিবির পণ্যে আগ্রহী হচ্ছেন না। তবে যেসব ডিলার পণ্য উত্তোলন করেননি তাদের ডিলারশীপ বাতিলসহ যাথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে জানান আনিছুর রহমান।

Tag :

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

রাজশাহীতে টিসিবির পণ্য নিতে ডিলারদের অনীহা

আপডেট টাইম : ০৫:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০১৫

রাজশাহী : রাজশাহীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য উত্তোলনে আগ্রহ নেই ডিলারদের। চতুর্থ ধাপে বরাদ্দ উত্তোলনে শেষ দিন ছিলো বৃহস্পতিবার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ ডিলারই তাদের পণ্য উত্তোলন করেননি।

তাদের ভাষ্য, তেলের মেয়াদ রয়েছে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। মেয়াদের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে। কিন্তু তেল না তুললে অন্য পণ্য দেয়া হবে না, সে জন্য টিসিবির পণ্য উত্তোলনে ডিলারদের আগ্রহ নেই।

তবে খোলাবাজারের পণ্যের সঙ্গে টিসিবি পণ্যের দামের পার্থক্য কম হওয়ায় ডিলাররা পণ্যে আগ্রহী হচ্ছেন না। যারা পণ্য উত্তোলন করেননি খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক অফিস জানায়, রাজশাহী বিভাগে তাদের ডিলার রয়েছেন ৪২০ জন। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ৮৮জন এবং জেলায় ২৭জন। চতুর্থ ধাপে ডিলারপ্রতি বরাদ্দ ছিলো ৫০০ থেকে দেড় হাজার কেজি চিনি, ১০০ থেকে ২০০ কেজি ডাল, ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি ছোলা ও ৩০০ থেকে ৮০০ লিটার পর্যন্ত তেল।

গত ৪ জুন থেকে উত্তোলন শুরু হয়ে চলেছে ২৫ জুন পর্যন্ত। ওই সময়ের মধ্যে মাত্র ১১৪জন ডিলার তাদের বারাদ্দ উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ১৬জন এবং জেলায় মাত্র একজন ডিলার রয়েছেন। অন্যরা পণ্য উত্তোলন করেননি।

টিসিবির ডিলার নগরীর তুষার স্টোরের মালিক সুজাত মিঞা জানান, তেলের মেয়াদ খুব কম। আর রঙটাও লালচে। চিনিটা একটু ভেজা ভেজা। টিসিবির চিনি ৩৭ টাকা কেজি। কিন্তু বাইরে সাদা চিনি ৩৮ টাকা। ওটার দিকেই ক্রেতাদের নজর বেশি। টিসিবির ছোলার মান খুব ভালো। কিন্তু ছোলা ৩০০ থেকে ৫০০ কেজির বেশি দেয়া হচ্ছে না। আবার তেল না কিনলে অন্যগুলো দেয়া হয় না। এই জটিলতার কারণে বেশির ভাগ ডিলার পণ্য তুলেননি না।

তিনি বলেন, তিনি ৫০০ লিটার তেল তুলেছেন। সব তেল এখনো বিক্রি হয়নি। মেয়াদের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে ক্ষতি নিশ্চিত।

তেলের মেয়াদ শেষের দিকে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন টিসিবির রাজশাহী অফিস প্রধান আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, এসব তেল প্রায় মাস দুয়েক থেকে মজুদ রয়েছে। এ কারণেই মেয়াদ শেষের দিকে। এছাড়া চিনি রাজশাহীর হরিয়ান মিল থেকে সরবরাহকৃত উৎকৃষ্ট মানের। প্রথম দিকে আবহাওয়া জনিত কারনে কিছুটা ভেজা ভেজা মনে হচ্ছিলো, তবে এখন তা আর নেই।

তার দাবি, টিসিবির পণ্যের সঙ্গে খোলাবাজারের পণ্যের দামের পার্থক্য কম হওয়ায় ডিলাররা টিসিবির পণ্যে আগ্রহী হচ্ছেন না। তবে যেসব ডিলার পণ্য উত্তোলন করেননি তাদের ডিলারশীপ বাতিলসহ যাথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে জানান আনিছুর রহমান।