অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo মিরপুর বিআরটিএতে দালাল চক্রের ২ সদস্য আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ দিনের কারাদণ্ড Logo লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, বাবা-মায়ের ৫ বছর করে কারাদণ্ড Logo পাটগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo পাটগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় নদী পারাপার, ব্যাহত কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা Logo দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল Logo লালমনিরহাটে আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত ‎ Logo রুপগঞ্জ প্রেসক্লাব কমিটির সভাপতি খলিল শিকদার, সাধারণ সম্পাদক আলম হোসাইন Logo লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী গ্রেপ্তার Logo প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে হামলা ও মারধরের ঘটনায় বহিষ্কারের কয়েক ঘন্টা পরেই গ্রেফতার কৃষক দল নেতা

বগুড়ায় শিশু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরে আট বছর বয়সী শিশু রিফাত হোসেন হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস এলাকার আবুল কালাম আজাদ, সাগর, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম পাঁচফুল। এদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

এ ছাড়া, অপরাধ সংঘটনের সময় নাবালক হওয়ায় আরও পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। তারাও একই এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই তাদের প্রতিবেশী ও পরিচিত ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই রিফাতকে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করা হয়। পরে ১৮ জুলাই মরদেহ উদ্ধার হলে নিহত শিশুর বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হক প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর প্রধান আসামি আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময় তার কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এনামুল হকের কাছে ১ লাখ টাকা ধার চান। তবে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেল থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় রিফাত।

পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও ছেলেকে না পেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এনামুল হক। তিন দিন পর স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি খবর পান, পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের একটি সেতুর নিচে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। সেখানে গিয়ে তিনি রিফাতের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হলে মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। তবে বিচার চলাকালে মাসুদ রানা নামে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলী আসগার বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর বিআরটিএতে দালাল চক্রের ২ সদস্য আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ দিনের কারাদণ্ড

বগুড়ায় শিশু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট টাইম : ১২:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরে আট বছর বয়সী শিশু রিফাত হোসেন হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস এলাকার আবুল কালাম আজাদ, সাগর, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম পাঁচফুল। এদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

এ ছাড়া, অপরাধ সংঘটনের সময় নাবালক হওয়ায় আরও পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। তারাও একই এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই তাদের প্রতিবেশী ও পরিচিত ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই রিফাতকে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করা হয়। পরে ১৮ জুলাই মরদেহ উদ্ধার হলে নিহত শিশুর বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হক প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর প্রধান আসামি আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময় তার কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এনামুল হকের কাছে ১ লাখ টাকা ধার চান। তবে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেল থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় রিফাত।

পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও ছেলেকে না পেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এনামুল হক। তিন দিন পর স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি খবর পান, পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের একটি সেতুর নিচে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। সেখানে গিয়ে তিনি রিফাতের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হলে মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। তবে বিচার চলাকালে মাসুদ রানা নামে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলী আসগার বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।