অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার বিলিয়ে দিলেন মারিয়া

ডেস্ক: নির্জনে একা একা বসবাস করেন এরকম এক সার্বিয়ান নারী তার নিজের অজান্তেই উত্তরাধিকার সূত্রে স্বামীর কাছ থেকে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

স্বামীর কাছ থেকে তার পাওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় দশ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

এই নারীর নাম মারিয়া জ্লাটিচ। বয়স ৮৬। বসবাস করেন সার্বিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় একটি পাহাড়ের ওপর তৈরি মাটির ঘরে।

স্বামীর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে পাঁচ বছর আগে। এক সময় তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামী অস্ট্রেলিয়াতে মারা গেছেন।

তারপর তিনি তার প্রতিবেশীর সাথে এনিয়ে কথা বলেন এবং তার মৃত স্বামীর ব্যাপারে আরো তথ্য সংগ্রহের জন্যে তাকে বলেন।

এর চার বছর পর তিনি জানতে পারেন যে স্বামীর কাছ থেকে তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন।

এরপর সব অর্থ তিনি দরিদ্র লোকজনের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন। ওই দরিদ্র মানুষেরাই তার দেখাশোনা করে।

তিনি বলেন, “আমার কোনো টাকা পয়সার দরকার নেই। সামান্য রুটি, পানি আর শীতে আগুন জ্বালানোর জন্যে আমার কিছু কাঠ হলেই চলবে” ।

“আমি খুব শীঘ্রই যেখানে চলে যাবো সেখানে অর্থের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই আমি সব দিয়ে দিয়েছি।তাদের টাকা পয়সার বেশি দরকার।”

মারিয়া জানান যে তিনি তার স্বামীকে নিয়ে ১৯৫৬ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় চলে গিয়েছিলেন।

তার স্বামী ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। একটি কারখানায় কাজ করতেন। আর তিনি নিজে ছিলেন গৃহিনী। কিন্তু তার অসুস্থ মাকে দেখাশোনা করতে এর দেড় বছর পরেই তিনি সার্বিয়ায় ফিরে আসেন।

মায়ের মৃত্যুর পর তিনি আর কখনো অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান নি। কিন্তু স্বামীর সাথে তার চিঠি চালাচালি চলছিলো।

স্বামীও অবসর নেওয়ার পর সার্বিয়ায় ফিরে আসতে চাইতেন।

চার বছর আগে মারিয়া গুজব শুনতে পান যে তার স্বামী মারা গেছেন। তারপরই তিনি তার প্রতিবেশীকে খোঁজ খবর নিতে বলেন।

ওই প্রতিবেশী তখন বেলগ্রেডে অস্ট্রেলিয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ায় সার্বিয়ান দূতাবাসে খোঁজ নেন।

তবে অস্ট্রেলিয়ায় একজন আইনজীবীর মাধ্যমেই মারিয়ার স্বামীর মারা যাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেন তিনি।

বহু খোঁজ খবরের পর গতবছরই তিনি তার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদের কথা জানতে পারেন।

সেখান থেকে করের টাকা কেটে নিয়ে মারিয়া যা পেয়েছেন সেটা ১০ লাখ ডলারের মতো।

প্রতিবেশীরা এখন মারিয়াকে দেখাশোনা করেন। আগুন জ্বালানোর জন্যে কাঠ কেটে দেন।

তবে মারিয়ার সেরা বন্ধু এখন তার কুকুরই বলে জানান তিনি।

সূত্র: বিবিসি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪

স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার বিলিয়ে দিলেন মারিয়া

আপডেট টাইম : ০১:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৬

ডেস্ক: নির্জনে একা একা বসবাস করেন এরকম এক সার্বিয়ান নারী তার নিজের অজান্তেই উত্তরাধিকার সূত্রে স্বামীর কাছ থেকে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

স্বামীর কাছ থেকে তার পাওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় দশ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

এই নারীর নাম মারিয়া জ্লাটিচ। বয়স ৮৬। বসবাস করেন সার্বিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় একটি পাহাড়ের ওপর তৈরি মাটির ঘরে।

স্বামীর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে পাঁচ বছর আগে। এক সময় তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামী অস্ট্রেলিয়াতে মারা গেছেন।

তারপর তিনি তার প্রতিবেশীর সাথে এনিয়ে কথা বলেন এবং তার মৃত স্বামীর ব্যাপারে আরো তথ্য সংগ্রহের জন্যে তাকে বলেন।

এর চার বছর পর তিনি জানতে পারেন যে স্বামীর কাছ থেকে তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন।

এরপর সব অর্থ তিনি দরিদ্র লোকজনের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন। ওই দরিদ্র মানুষেরাই তার দেখাশোনা করে।

তিনি বলেন, “আমার কোনো টাকা পয়সার দরকার নেই। সামান্য রুটি, পানি আর শীতে আগুন জ্বালানোর জন্যে আমার কিছু কাঠ হলেই চলবে” ।

“আমি খুব শীঘ্রই যেখানে চলে যাবো সেখানে অর্থের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই আমি সব দিয়ে দিয়েছি।তাদের টাকা পয়সার বেশি দরকার।”

মারিয়া জানান যে তিনি তার স্বামীকে নিয়ে ১৯৫৬ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় চলে গিয়েছিলেন।

তার স্বামী ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। একটি কারখানায় কাজ করতেন। আর তিনি নিজে ছিলেন গৃহিনী। কিন্তু তার অসুস্থ মাকে দেখাশোনা করতে এর দেড় বছর পরেই তিনি সার্বিয়ায় ফিরে আসেন।

মায়ের মৃত্যুর পর তিনি আর কখনো অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান নি। কিন্তু স্বামীর সাথে তার চিঠি চালাচালি চলছিলো।

স্বামীও অবসর নেওয়ার পর সার্বিয়ায় ফিরে আসতে চাইতেন।

চার বছর আগে মারিয়া গুজব শুনতে পান যে তার স্বামী মারা গেছেন। তারপরই তিনি তার প্রতিবেশীকে খোঁজ খবর নিতে বলেন।

ওই প্রতিবেশী তখন বেলগ্রেডে অস্ট্রেলিয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ায় সার্বিয়ান দূতাবাসে খোঁজ নেন।

তবে অস্ট্রেলিয়ায় একজন আইনজীবীর মাধ্যমেই মারিয়ার স্বামীর মারা যাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেন তিনি।

বহু খোঁজ খবরের পর গতবছরই তিনি তার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদের কথা জানতে পারেন।

সেখান থেকে করের টাকা কেটে নিয়ে মারিয়া যা পেয়েছেন সেটা ১০ লাখ ডলারের মতো।

প্রতিবেশীরা এখন মারিয়াকে দেখাশোনা করেন। আগুন জ্বালানোর জন্যে কাঠ কেটে দেন।

তবে মারিয়ার সেরা বন্ধু এখন তার কুকুরই বলে জানান তিনি।

সূত্র: বিবিসি