অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

‘পায়ের শিকল খুলে দাও, আমি ঢাকা যাবো’

বাংলার খবর২৪.কম : image_1_76লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অসুস্থ মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে বাবা-মা। আদুরী খাতুন (১৩) চিৎকার শুনে আশপাশের কেউ কেউ বলছে মেয়েটিকে ভূতে ধরেছে আবার কেউ বলছে জিনের আছর লেগেছে। তবে লোকজনের এমন কথায় অসুস্থ মেয়েকে শিকল দিয়ে বেধে রাখবেন বাবা-মা তা শুনে অনেকেই আবাক। বারবার চিৎকার করছে আদুরী। ‘আমার পায়ের শিকল খুলে দাও। আমি ঢাকা যাবো।’ ঘটনাটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা এলাকায় ঘটেছে।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভিতরে খাটের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে মেয়েটিকে। এমন দৃশ্য দেখতে বাড়িতে এসে ভিড় করছেন পাড়া প্রতিবেশীরা। মা মনি বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করেন। বাবা নুরুজ্জামান দিনমজুর। মা অসুস্থ্ মেয়েকে ছেড়ে কোথাও কাজে যেতে পারেছে না। মেয়ের চিকিৎসা না করে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার কারণ জানতে চাইলে মনি বেগম বলেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরে আদুরী খাতুন ঘরে থাকতে চায় না। বাঁধা দিলে ঘরের জিনিষপত্র ভাংচুর করে।
মাঝেমধ্যে সংঙ্গাহীন হয়ে পড়ায় ভূত-পেতের আচর লেগেছে ভেবে গ্রাম্য এক কবিরাজ দিয়ে নয়শত টাকার বিনিময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তাতে তেমন কোন কাজ হয়নি। এবার আদুরী বায়না ধরেছে ঢাকায় গার্মেন্টেসে কর্মরত দুই বোনের কাছে যেতে। তাই তাকে আটকাতে শিকল বেঁধে রাখা হয়েছে বলে দাবি মা মনি বেগমের।
জানা গেছে, আদুরী স্থানীয় শাহ্ গরীবুল্ল্যাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। প্রায় ৮ মাস আগে সে ঢাকায় দুই বোনের কাছে গিয়ে ছিল গার্মেন্টেসে কাজ করতে। সেখান থেকে গত রোজার মাসে বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আদুরী।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ বিমল কুমার জানান, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় জিন ও ভুতে আছর বলতে কিছুই নেই। মেয়েটি’র মানসিক সমস্যা হতে পারে। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ্য করা সম্ভব।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

‘পায়ের শিকল খুলে দাও, আমি ঢাকা যাবো’

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম : image_1_76লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অসুস্থ মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে বাবা-মা। আদুরী খাতুন (১৩) চিৎকার শুনে আশপাশের কেউ কেউ বলছে মেয়েটিকে ভূতে ধরেছে আবার কেউ বলছে জিনের আছর লেগেছে। তবে লোকজনের এমন কথায় অসুস্থ মেয়েকে শিকল দিয়ে বেধে রাখবেন বাবা-মা তা শুনে অনেকেই আবাক। বারবার চিৎকার করছে আদুরী। ‘আমার পায়ের শিকল খুলে দাও। আমি ঢাকা যাবো।’ ঘটনাটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা এলাকায় ঘটেছে।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভিতরে খাটের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে মেয়েটিকে। এমন দৃশ্য দেখতে বাড়িতে এসে ভিড় করছেন পাড়া প্রতিবেশীরা। মা মনি বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করেন। বাবা নুরুজ্জামান দিনমজুর। মা অসুস্থ্ মেয়েকে ছেড়ে কোথাও কাজে যেতে পারেছে না। মেয়ের চিকিৎসা না করে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার কারণ জানতে চাইলে মনি বেগম বলেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরে আদুরী খাতুন ঘরে থাকতে চায় না। বাঁধা দিলে ঘরের জিনিষপত্র ভাংচুর করে।
মাঝেমধ্যে সংঙ্গাহীন হয়ে পড়ায় ভূত-পেতের আচর লেগেছে ভেবে গ্রাম্য এক কবিরাজ দিয়ে নয়শত টাকার বিনিময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তাতে তেমন কোন কাজ হয়নি। এবার আদুরী বায়না ধরেছে ঢাকায় গার্মেন্টেসে কর্মরত দুই বোনের কাছে যেতে। তাই তাকে আটকাতে শিকল বেঁধে রাখা হয়েছে বলে দাবি মা মনি বেগমের।
জানা গেছে, আদুরী স্থানীয় শাহ্ গরীবুল্ল্যাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। প্রায় ৮ মাস আগে সে ঢাকায় দুই বোনের কাছে গিয়ে ছিল গার্মেন্টেসে কাজ করতে। সেখান থেকে গত রোজার মাসে বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আদুরী।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ বিমল কুমার জানান, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় জিন ও ভুতে আছর বলতে কিছুই নেই। মেয়েটি’র মানসিক সমস্যা হতে পারে। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ্য করা সম্ভব।