অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

‘শুনছি গরিবের ঘর আইছে, আমি ঘুষ দিমু ক্যামনে’

ডেস্ক: ৯ শতাংশ জমির ওপর দুটি ছনের ঘর। তার একটির একপাশে গরু-ছাগল, আরেকপাশে মেয়ের বিছানা। অন্য ঘরটিতে স্ত্রীসহ থাকেন হেলাল মিয়া। বৃষ্টি নামলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। পরের জমিতে কাজ করে কোনো রকমে মাথা গোজার ঠাঁই নিয়ে এভাবেই কাটছে দিন। তাই ৩০ বছর ধরেও মাথার ওপরে চালাটাও শক্তপোক্ত করতে পারেননি তিনি।

হেলারের বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামে। কথা প্রসঙ্গে তিনি আক্ষেপ করেন, সারা জীবনের স্বপ্ন সন্তানদের জন্য একটি ঘর করতে পারেননি। তার বাড়িতে সরকারের দেওয়া একটি সোলার (সৌর বিদ্যুৎ) আছে। কিন্তু ঘরের চাল মজবুত না হওয়ায়, বাঁশের খুঁটি দিয়ে লাগানো হয়েছে সোলার প্যানেল।

হেলাল বলেন, ‘শুনছি গরিবের ঘর আইছে, হাসিনা আপা (প্রধানমন্ত্রী) অনেক মানুষরে নাকি ঘর দিতাছে। এমন কথা শুনার পর থেকে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বর, নেতাদের পেছনে ঘুরেও ঘর পাইনি। আবার অনেকেই ঘুষ চাইছে। আমি কামলা দিয়ে যা পাই তা খাই। নিজের পেটই চলে না, আমি ঘুষ দিমু ক্যামনে।’

তিনি জানান, তার ঘর করার সামর্থ্য নেই। একটি ঘর ভিক্ষা চান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাঁচতে চান। অনেক আক্ষেপ করেই এসব বলছিলেন ষাটোর্ধ দিনমজুর মো. হেলাল মিয়া।

হেলাল জানান, ৩০ বছর আগে ৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। কিন্তু তার উর্পাজিত আয় দিয়ে বাড়ি করা সম্ভব হয়নি। কোনো রকমে ছন দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দিন পার করছেন। টাকার জন্য বসতভিটায় মাটি কেটে উঁচুও করতে পারে না। তাই বর্ষা মৌসুমে বাড়িতে পানি উঠে।

হেলালের স্ত্রী রহিমা বেগম জানান তাদের দুটা ছনের ঘর। একটা ঘরে তারা স্বামী-স্ত্রী থাকেন। অপর ঘরটাতে একপাশে গরু-ছাগল, অন্যপাশে মেয়েটা থাকে। তাদের ছেলেটা মাদ্রাসায় পড়ে। মাদ্রাসা থেকে ছুটিতে আসলে, মেয়েটা তাদের সঙ্গেই রাত্রিযাপন করে।

রহিমা জানান, বৃষ্টির দিনে ঘরে থাকতে পারেন না। ঘরে যাতে বৃষ্টির পানি না ঢুকে তার জন্য কয়েকদিন আগে ঘরের চালে কাগজ লাগানো হয়েছে। স্বামী দিনমজুর। তিনি নিজেও অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এ অবস্থায় তাদের বাড়ি নির্মাণ অসম্ভব। তার স্বামীর মত তিনিও সরকারের কাছে একটি ঘর প্রত্যাশা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মামুদ বলেন, ‘সরকার এমন অসহায় লোকই খুঁজছে। তার বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্প আসলে তাকে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সরকারের অন্যান্য সহায়তা তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

‘শুনছি গরিবের ঘর আইছে, আমি ঘুষ দিমু ক্যামনে’

আপডেট টাইম : ০৪:১৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মে ২০২১

ডেস্ক: ৯ শতাংশ জমির ওপর দুটি ছনের ঘর। তার একটির একপাশে গরু-ছাগল, আরেকপাশে মেয়ের বিছানা। অন্য ঘরটিতে স্ত্রীসহ থাকেন হেলাল মিয়া। বৃষ্টি নামলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। পরের জমিতে কাজ করে কোনো রকমে মাথা গোজার ঠাঁই নিয়ে এভাবেই কাটছে দিন। তাই ৩০ বছর ধরেও মাথার ওপরে চালাটাও শক্তপোক্ত করতে পারেননি তিনি।

হেলারের বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামে। কথা প্রসঙ্গে তিনি আক্ষেপ করেন, সারা জীবনের স্বপ্ন সন্তানদের জন্য একটি ঘর করতে পারেননি। তার বাড়িতে সরকারের দেওয়া একটি সোলার (সৌর বিদ্যুৎ) আছে। কিন্তু ঘরের চাল মজবুত না হওয়ায়, বাঁশের খুঁটি দিয়ে লাগানো হয়েছে সোলার প্যানেল।

হেলাল বলেন, ‘শুনছি গরিবের ঘর আইছে, হাসিনা আপা (প্রধানমন্ত্রী) অনেক মানুষরে নাকি ঘর দিতাছে। এমন কথা শুনার পর থেকে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বর, নেতাদের পেছনে ঘুরেও ঘর পাইনি। আবার অনেকেই ঘুষ চাইছে। আমি কামলা দিয়ে যা পাই তা খাই। নিজের পেটই চলে না, আমি ঘুষ দিমু ক্যামনে।’

তিনি জানান, তার ঘর করার সামর্থ্য নেই। একটি ঘর ভিক্ষা চান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাঁচতে চান। অনেক আক্ষেপ করেই এসব বলছিলেন ষাটোর্ধ দিনমজুর মো. হেলাল মিয়া।

হেলাল জানান, ৩০ বছর আগে ৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। কিন্তু তার উর্পাজিত আয় দিয়ে বাড়ি করা সম্ভব হয়নি। কোনো রকমে ছন দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দিন পার করছেন। টাকার জন্য বসতভিটায় মাটি কেটে উঁচুও করতে পারে না। তাই বর্ষা মৌসুমে বাড়িতে পানি উঠে।

হেলালের স্ত্রী রহিমা বেগম জানান তাদের দুটা ছনের ঘর। একটা ঘরে তারা স্বামী-স্ত্রী থাকেন। অপর ঘরটাতে একপাশে গরু-ছাগল, অন্যপাশে মেয়েটা থাকে। তাদের ছেলেটা মাদ্রাসায় পড়ে। মাদ্রাসা থেকে ছুটিতে আসলে, মেয়েটা তাদের সঙ্গেই রাত্রিযাপন করে।

রহিমা জানান, বৃষ্টির দিনে ঘরে থাকতে পারেন না। ঘরে যাতে বৃষ্টির পানি না ঢুকে তার জন্য কয়েকদিন আগে ঘরের চালে কাগজ লাগানো হয়েছে। স্বামী দিনমজুর। তিনি নিজেও অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এ অবস্থায় তাদের বাড়ি নির্মাণ অসম্ভব। তার স্বামীর মত তিনিও সরকারের কাছে একটি ঘর প্রত্যাশা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মামুদ বলেন, ‘সরকার এমন অসহায় লোকই খুঁজছে। তার বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্প আসলে তাকে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সরকারের অন্যান্য সহায়তা তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।