অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

‘রাজনীতিবিদদের এখন ব্যবসাও করতে হবে’

বাংলার খবর২৪.কম : 1414486614আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, শুধু অনুদান দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ। রাজনীতি এখন ব্যায়বহুল। তাই রাজনীতিবিদদের এখন রাজনীতির সঙ্গে ব্যবসাও করতে হবে। বৈধভাবে আয় করতে হবে। এরপর জনগণকে সাহায্যও করতে হবে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকালে ‘ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, ‘রাজনীতি হচ্ছে রাজার নীতি। কংগ্রেস মুসলিম লীগের সময় বিত্তবানরা রাজনীতি করতেন। তাই রাজনীতিবিদদের শুধু রাজনীতি করে ঘুরে বেড়ালেই চলবে না। ব্যবসায়ীরাও এখন আগের মতো রাজনীতিতে ফান্ডিং করতে চায় না।’

এ সময় তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এক ব্যক্তি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে রাজনীতে আসতে চাইলেন। এরপরই মানুষ জন সাহায্য সহযোগিতা চাওয়া শুরু করল। তিনি প্রথমে কয়েকদিন দেওয়ার পরে আর দিতে পারলেন না। পেনশনের টাকা দিয়ে আর কত সাহায্য করা যায়।সেই মানুষটি যখন সাহায্য দিতে পারলেন না তখন মানুষ বলা শুরু করল, ‘ব্যাটা কঞ্জুস’। সাহায্য করতে পারে না তো রাজনীতিতে আসল কেন? এই হচ্ছে আমাদের বাস্তবতা।”

দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়নে জাতীয় ঐক্যমতে ওপর গুরুত্বারোপ করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যমত ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। অনেক উন্নয়নমূলক কাজও জাতীয় ঐক্যমতের অভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় ঐক্যমতের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। যার কারণে আমাদের প্রথমবারের মত সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন গঠন করার পর অনেকে এটা নিযে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেয়েছে।’

এ সময় বাংলাদেশের রাজনীতে অর্থায়ন দিয়ে বিতর্কের কথা স্বীকার করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগে মনোনয়নে বাণিজ্যের সুযোগ নেই। তৃণমূল নেতাদের সমর্থন নিয়ে আমাদের দলের সংসদীয় বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করে। তবে তৃণমূল নেতাদের কনভিন্স করতে কেউ যদি অর্থ ব্যয় করে সেক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না।’

হানিফ বলেন, ‘দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে দলে গণতন্ত্র থাকতে হবে। দলে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অন্য যেকোনো দলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। আমাদের দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়।’

প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশের পক্ষ নিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করা উচিত। যদিও আমার হলফনামা নিয়ে বিভ্রান্তি হয়েছিল। তবুও আমরা বলেছিলাম প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করতে। কিন্তু কেন নির্বাচন কমিশন হলফনামা প্রকাশ করে না সেটা কমিশনকে জিজ্ঞেস করুন।’

এ সময় তিনি সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন।

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদের পরিচালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মুহম্মদ কাদের, টিআইবির নির্বাহী পরিচাক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ডেমোক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান ও ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক আব্দুল আলীম প্রমুখ।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

‘রাজনীতিবিদদের এখন ব্যবসাও করতে হবে’

আপডেট টাইম : ০২:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম : 1414486614আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, শুধু অনুদান দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ। রাজনীতি এখন ব্যায়বহুল। তাই রাজনীতিবিদদের এখন রাজনীতির সঙ্গে ব্যবসাও করতে হবে। বৈধভাবে আয় করতে হবে। এরপর জনগণকে সাহায্যও করতে হবে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকালে ‘ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, ‘রাজনীতি হচ্ছে রাজার নীতি। কংগ্রেস মুসলিম লীগের সময় বিত্তবানরা রাজনীতি করতেন। তাই রাজনীতিবিদদের শুধু রাজনীতি করে ঘুরে বেড়ালেই চলবে না। ব্যবসায়ীরাও এখন আগের মতো রাজনীতিতে ফান্ডিং করতে চায় না।’

এ সময় তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এক ব্যক্তি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে রাজনীতে আসতে চাইলেন। এরপরই মানুষ জন সাহায্য সহযোগিতা চাওয়া শুরু করল। তিনি প্রথমে কয়েকদিন দেওয়ার পরে আর দিতে পারলেন না। পেনশনের টাকা দিয়ে আর কত সাহায্য করা যায়।সেই মানুষটি যখন সাহায্য দিতে পারলেন না তখন মানুষ বলা শুরু করল, ‘ব্যাটা কঞ্জুস’। সাহায্য করতে পারে না তো রাজনীতিতে আসল কেন? এই হচ্ছে আমাদের বাস্তবতা।”

দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়নে জাতীয় ঐক্যমতে ওপর গুরুত্বারোপ করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যমত ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। অনেক উন্নয়নমূলক কাজও জাতীয় ঐক্যমতের অভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় ঐক্যমতের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। যার কারণে আমাদের প্রথমবারের মত সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন গঠন করার পর অনেকে এটা নিযে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেয়েছে।’

এ সময় বাংলাদেশের রাজনীতে অর্থায়ন দিয়ে বিতর্কের কথা স্বীকার করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগে মনোনয়নে বাণিজ্যের সুযোগ নেই। তৃণমূল নেতাদের সমর্থন নিয়ে আমাদের দলের সংসদীয় বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করে। তবে তৃণমূল নেতাদের কনভিন্স করতে কেউ যদি অর্থ ব্যয় করে সেক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না।’

হানিফ বলেন, ‘দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে দলে গণতন্ত্র থাকতে হবে। দলে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অন্য যেকোনো দলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। আমাদের দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়।’

প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশের পক্ষ নিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করা উচিত। যদিও আমার হলফনামা নিয়ে বিভ্রান্তি হয়েছিল। তবুও আমরা বলেছিলাম প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করতে। কিন্তু কেন নির্বাচন কমিশন হলফনামা প্রকাশ করে না সেটা কমিশনকে জিজ্ঞেস করুন।’

এ সময় তিনি সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন।

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদের পরিচালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মুহম্মদ কাদের, টিআইবির নির্বাহী পরিচাক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ডেমোক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান ও ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক আব্দুল আলীম প্রমুখ।