
নিজস্ব সংবাদদাতা
বিশেষ ট্রেন বরাদ্দের দাবিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা লালমনিরহাট রেলস্টেশনে প্রায় আট ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করার পর অবশেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ বিকেল ৪টার দিকে রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে প্রত্যাহার করা হয়।
দীর্ঘ সময় রেলপথ অবরোধের ফলে লালমনিরহাট থেকে ঢাকা, বুড়িমারী, সান্তাহার ও পার্বতীপুরগামী মোট চারটি ট্রেনের সিডিউল মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়। এতে স্টেশনে আসা শত শত যাত্রী পড়েন চরম ভোগান্তিতে। শীতের সকালে শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
লালমনিরহাট রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আব্দুর সুবাহান জানান, লালমনিরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আন্তঃনগর ট্রেন ‘লালমনি এক্সপ্রেস’–এর নির্ধারিত ছাড়ার সময় ছিল সকাল ১০টা। তবে অবরোধের কারণে ট্রেনটি সারাদিন স্টেশনেই আটকে থাকে। বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যাত্রী টিকিট ফেরত দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। ফলে অল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়েই লালমনি এক্সপ্রেস ঢাকার পথে যাত্রা করে। একই সঙ্গে পদ্মরাগ আপ ও ডাউন ট্রেন এবং একটি কমিউটার ট্রেনের সিডিউলেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে।
রেলপথ অবরোধে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য লালমনিরহাট থেকে বিশেষ ট্রেন বরাদ্দের দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করেছেন। রেল কর্তৃপক্ষ দাবি পূরণে আশ্বাস দেওয়ায় বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান আনিস বলেন, “আমরা লালমনিরহাট থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন বরাদ্দের জন্য আগেই আবেদন করেছিলাম। প্রথমে রেল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও পরে কালক্ষেপণ করে হঠাৎ সোমবার রাতে জানানো হয়—বিশেষ ট্রেন দেওয়া হবে না। এতে বাধ্য হয়েই আমরা রেলপথ অবরোধে যেতে বাধ্য হই।”
তিনি আরও বলেন, “রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেন বরাদ্দের ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়ায় আমরা অবরোধ কর্মসূচি তুলে নিয়েছি। বিকেল ৪টার পর থেকেই লালমনিরহাট থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।”
ঢাকাগামী যাত্রী মেহেরুল ইসলাম বলেন, “অনেক যাত্রী টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। আমাদের ঢাকায় যাওয়া জরুরি ছিল, তাই সকাল থেকেই স্টেশনে অপেক্ষা করছিলাম।”
তিনি জানান, সকাল ৯টায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে স্টেশনে এসেছিলেন তিনি। “আজ শীতের প্রকোপ অনেক বেশি ছিল। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেই পরিবার নিয়ে স্টেশনে বসে থাকতে হয়েছে। জানি না ট্রেনটি কত রাতে ঢাকায় পৌঁছাবে,”—বলেন তিনি।
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মোস্তফা আবুহেনা আলম বলেন,
“বিএনপির রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যায্য ভাড়ায় একটি বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।”
মো:রশিদুল ইসলাম 














