
নিজস্ব সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশইনের একটি প্রচেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলারের ৮ নম্বর সাব পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমঝোল সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তিকে বহনকারী একটি গাড়ি এসে থামে। অভিযোগ রয়েছে, বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেট ব্যবহার করে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করে দ্রুত সতর্ক হয়ে ওঠেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে মাইকিং করে গ্রামবাসীদের একত্রিত করেন এবং বিজিবিকে অবহিত করেন। পরে স্থানীয় জনসাধারণ ও বিজিবির সম্মিলিত অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েকশ মানুষ রাতেই সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তারা সীমান্তজুড়ে সতর্ক নজরদারি বজায় রাখেন। একপর্যায়ে প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির ফলে পুশইনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও তারা জানান।
আমঝোল সীমান্তের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার বিষয়টি প্রথমে আমাদের নজরে আসে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের লোকজনের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে অন্তিম মুহূর্ত বিজিবিকে অবহিত করি। এরপর কয়েকশ গ্রামবাসী সীমান্তে জড়ো হই। বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে আমরা অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করি। পরে বিএসএফ সদস্যরা লোকজনদের শূন্যরেখা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রামের অনেকেই রাতভর সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিয়েছেন। আমাদের ধারণা, রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের সতর্কতা ও বিজিবির উপস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
মো:রশিদুল ইসলাম 






















