অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, বাবা-মায়ের ৫ বছর করে কারাদণ্ড Logo পাটগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo পাটগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় নদী পারাপার, ব্যাহত কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা Logo দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল Logo লালমনিরহাটে আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত ‎ Logo রুপগঞ্জ প্রেসক্লাব কমিটির সভাপতি খলিল শিকদার, সাধারণ সম্পাদক আলম হোসাইন Logo লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী গ্রেপ্তার Logo প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে হামলা ও মারধরের ঘটনায় বহিষ্কারের কয়েক ঘন্টা পরেই গ্রেফতার কৃষক দল নেতা Logo অনুমোদনহীন স্লিপার বাস তৈরি ও মেরামত গ্যারেজ এ বিআরটিএ মোবাইল কোর্টে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, বাবা-মায়ের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রোববার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু নন্দিনীর স্বজনরা। তারা দ্রুত এ রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন বলেন, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট। প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করা হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

গত ১৬ জুন বিকেলে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটি অস্বাভাবিকভাবে নরম দেখতে পান স্থানীয়রা। সন্দেহ হলে সেখানে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বিধান চন্দ্রকে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বহরে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, আদালতের দেওয়া রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, বাবা-মায়ের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, বাবা-মায়ের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

আপডেট টাইম : ০৮:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রোববার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু নন্দিনীর স্বজনরা। তারা দ্রুত এ রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন বলেন, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট। প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করা হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

গত ১৬ জুন বিকেলে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটি অস্বাভাবিকভাবে নরম দেখতে পান স্থানীয়রা। সন্দেহ হলে সেখানে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বিধান চন্দ্রকে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বহরে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, আদালতের দেওয়া রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে।