অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় নদী পারাপার, ব্যাহত কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা Logo দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল Logo লালমনিরহাটে আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত ‎ Logo রুপগঞ্জ প্রেসক্লাব কমিটির সভাপতি খলিল শিকদার, সাধারণ সম্পাদক আলম হোসাইন Logo লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী গ্রেপ্তার Logo প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে হামলা ও মারধরের ঘটনায় বহিষ্কারের কয়েক ঘন্টা পরেই গ্রেফতার কৃষক দল নেতা Logo অনুমোদনহীন স্লিপার বাস তৈরি ও মেরামত গ্যারেজ এ বিআরটিএ মোবাইল কোর্টে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা Logo অনুমোদনহীন স্লিপার কোচের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান বিআরটিএ’ র Logo চট্টগ্রাম বিআরটিএ’তে দালালবিরোধী অভিযান, ২ জনের কারাদণ্ড Logo মিরপুর বিআরটিএতে ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার এর অভিযানে দালাল চক্রের ৩ সদস্য আটক, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

পাটগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় নদী পারাপার, ব্যাহত কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সিংগীমারী নদীর ওপর সেতু না থাকায় যুগের পর যুগ ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলা ও নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজপড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার কুচলীবাড়ি ইউনিয়নের সমশেরনগর এলাকায় সিংগীমারী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে কয়েক হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল হলেই বই-খাতা বুকে চেপে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নদী পার হতে হয় ভেলা কিংবা নৌকায়। বর্ষাকালে নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এ পারাপার হয়ে ওঠে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানান, সামান্য অসাবধানতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পান। তারপরও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী মোহনা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় হাত থেকে বই-খাতা পানিতে পড়ে ভিজে যায়, স্কুলের পোশাকও নষ্ট হয়। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।”

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, সেতুর অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে কিংবা গর্ভবতী নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এলাকায় আগুন লাগলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষিকা রহিমা বেগম বলেন, “নদীর ওপারে আমার বাসা। প্রতিদিন স্কুলে আসার সময় নৌকা বা ভেলাই আমাদের একমাত্র ভরসা। কেউ অসুস্থ হলে রোগীকে খাটিয়ায় করে হাসপাতালে নিতে হয়। ছোট ছোট বাচ্চারা যখন নদী পার হয়, তখন আমরা আতঙ্কে থাকি। স্বাধীনতার পর থেকেই এভাবে নৌকা ও কলাগাছের ভেলার ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। ভেলা বা নৌকার অপেক্ষায় অনেক সময় স্কুলে আসতে দেরি হয়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতির কথা আর মনে থাকে না। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।

দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের বিষয়টি এবার উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুত সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দীবজন মিত্র।

তিনি বলেন, “কুচলীবাড়ি ইউনিয়নের ওই এলাকার মানুষকে নদী পার হয়ে এপারে আসতে হয়। সেখানে একটি ব্রিজ খুবই প্রয়োজন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু পাটগ্রাম উপজেলায় এসে বিষয়টি অবগত হয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলীসহ কারিগরি টিম খুব দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করবে। জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিজটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সিংগীমারী নদীর ওপর দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। নিরাপদ হবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কমবে ঝুঁকি,আলোকিত হবে তাদের শিক্ষার পথ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় নদী পারাপার, ব্যাহত কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা

পাটগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় নদী পারাপার, ব্যাহত কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা

আপডেট টাইম : ০৬:৫৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সিংগীমারী নদীর ওপর সেতু না থাকায় যুগের পর যুগ ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলা ও নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজপড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার কুচলীবাড়ি ইউনিয়নের সমশেরনগর এলাকায় সিংগীমারী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে কয়েক হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল হলেই বই-খাতা বুকে চেপে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নদী পার হতে হয় ভেলা কিংবা নৌকায়। বর্ষাকালে নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এ পারাপার হয়ে ওঠে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানান, সামান্য অসাবধানতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পান। তারপরও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী মোহনা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় হাত থেকে বই-খাতা পানিতে পড়ে ভিজে যায়, স্কুলের পোশাকও নষ্ট হয়। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।”

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, সেতুর অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে কিংবা গর্ভবতী নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এলাকায় আগুন লাগলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষিকা রহিমা বেগম বলেন, “নদীর ওপারে আমার বাসা। প্রতিদিন স্কুলে আসার সময় নৌকা বা ভেলাই আমাদের একমাত্র ভরসা। কেউ অসুস্থ হলে রোগীকে খাটিয়ায় করে হাসপাতালে নিতে হয়। ছোট ছোট বাচ্চারা যখন নদী পার হয়, তখন আমরা আতঙ্কে থাকি। স্বাধীনতার পর থেকেই এভাবে নৌকা ও কলাগাছের ভেলার ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। ভেলা বা নৌকার অপেক্ষায় অনেক সময় স্কুলে আসতে দেরি হয়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতির কথা আর মনে থাকে না। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।

দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের বিষয়টি এবার উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুত সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দীবজন মিত্র।

তিনি বলেন, “কুচলীবাড়ি ইউনিয়নের ওই এলাকার মানুষকে নদী পার হয়ে এপারে আসতে হয়। সেখানে একটি ব্রিজ খুবই প্রয়োজন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু পাটগ্রাম উপজেলায় এসে বিষয়টি অবগত হয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলীসহ কারিগরি টিম খুব দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করবে। জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিজটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সিংগীমারী নদীর ওপর দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। নিরাপদ হবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কমবে ঝুঁকি,আলোকিত হবে তাদের শিক্ষার পথ।