
বগুড়া প্রতিনিধি : ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে গণধর্ষণ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। ট্রেনে নারী যাত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সর্বত্রই উদ্বেগ-শঙ্কা। এরমধ্যেই দায়িত্ব অবহেলার কারণে চারজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা মাদক সংশ্লিষ্টতার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
বুধবার (২ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল উদ্দীন। তিনি জানান, ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনে ৪৪ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয়কে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এরআগে, সোমবার সকালে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন নাটোর এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। চিৎকার শুনে ট্রেনের যাত্রীরা ওই নারীকে উদ্ধার করে। অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয়কে আটক করে ধোলাই দিয়ে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে। ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তিনি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে যাত্রা করছিলেন। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্র জানায়, ট্রেনে যাত্রার সময় ওই নারীকে ক্যান্টিনে নিয়ে ধর্ষণ করে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন। রেলওয়ে পুলিশের দুই সদস্য জড়িত থাকার কথাও বলেছেন ভুক্তভোগী। তল্লাশির সময় ইয়াবা (মাদক) সংশ্লিষ্টতার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
ওই নারী অভিযোগ করেছেন, চলন্ত ট্রেনে দুই পুলিশ সদস্য তাকে তল্লাশির জন্য ক্যান্টিনে নিয়ে যায়। তার কাছে ইয়াবা রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। এ সময় ক্যান্টিন বয় তাকে ধর্ষণ করে। তবে মামলায় পুলিশ সদস্যদের নাম আছে-কিনা তথ্য জানতে গড়িমসি করেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন।
তিনি জানান, আদালতে জবানবন্দিতে অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর একাই ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে। ওই নারী কীভাবে ক্যান্টিনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। ক্যান্টিন বয় দাবি করেছে, যাত্রী নিজেই ক্যান্টিনে গিয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্য জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্য অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 










