পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ডাক্তারের পরামর্শে ইনহেলার নিন

ঢাকা: শীতকাল মানে যেমন ঝোলা গুড়ে চোবানো রুটি জিভে দিয়ে ‘আহা! আহা!’ স্বর্গসুখ, লেপ জড়িয়ে শুধু মাথাটুকু বের করে গরমাগরম কফিতে চুমুক, তেমনি আবার সঙ্গে চাপা একটা ভয়। যাদের রোগটা নেই তবু ঠিক আছে, কিন্তু অ্যাজমা বা হাঁপানির বাসা যে শরীরে আছে, শীতের আদর হাত বাড়ালেই তাদের প্রাণটা ছ্যাঁত করে ওঠে- আবার সমস্যাটা বাড়বে না তো? ঘা নেই, কাটা-ছেঁড়া নেই, সমস্যা হল নিঃশ্বাস নিতে, প্রত্যেকবার। প্রতিটা নিঃশ্বাসের সময় কষ্টে চোখ-মুখ ঠিকরে আসাক্ট প্রতিটা নিঃশ্বাসই শেষবারের হওয়ার ভয়।

রোগটা কী?
সহজভাবে বললে সমস্যাটা ফুসফুস ও শ্বাসনালির। শ্বাসনালির মাধ্যমে ফুসফসে বায়ু চলাচল করে। এবার যাদের অ্যাজমা আছে, শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হয়ে তাদের বায়ু চলাচলের পথটা সঙ্কুচিত হয়ে যায়। বুকের ভেতর আঁট ভাব লাগে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট, সঙ্গে কাশি। কাশিটা মূলত রাত ও ভোরের দিকে হয়ে থাকে।

কেন হয়?
একেবারে এই কারণটার জন্যই লোকের অ্যাজমা হয়ে থাকেক্ট এমনভাবে নির্দিষ্ট করে এখনও কিছু বলা যায় না। তবু কিছু জিনগত ও পরিবেশগত বিষয়কে অ্যাজমার জন্য দায়ী করা হয়৷ বংশগত ভাবে অ্যালার্জির প্রবণতা বা অ্যাটোপি একটা বড় কারণ বংশে কারও থাকলে, বিশেষ করে বাবা-মার ছোটবেলায় কোনও শ্বাসকার্য জনিত সংক্রমণ হয়ে থাকলে ধূমপান অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য সেবন।

ঝুঁকিতে কারা?
রোগের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলেই সহজে বোঝা যায় যে এর ঝুঁকিতে কারা কারা রয়েছেন। বংশে কারও যদি অ্যাজমা হয়ে থাকে, বিশেষ করে বাবা-মা’র, সম্তানের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেকটা যাঁরা ধূমপান করেন বা অন্য কোনও তামাকজাত দ্রব্য সেবন করেন, তাদের হাঁপানি ধরার ভয় ভীষণভাবে অল্পবয়সে শ্বাসকার্য জনিত কোনও সংক্রমণ বা অন্য কোনও অ্যালার্জির আক্রমণ হয়ে থাকলে। অ্যাজমার থাবা যে-কোনও বয়সেই হতে পারে, তবে অল্প বয়সেই শুরু হয় বেশি। ছয় বছরের পর থেকে কোনও অ্যালার্জি, একজিমা হলে অথবা বাবা মা’র অ্যাজমার সমস্যা থাকলে কিন্তু বাচ্চা তখন থেকেই ঝুঁকিতে রইল। ছেলে-মেয়ে সকলেই ভুগে থাকে এই রোগে, তবু ছোটবেলায় মেয়েদের তুলনায় ছেলেরাই রোগের ঝুঁকিতে থাকে বেশি। আবার ১৫ বছর বয়সের পর ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়ায় ঠিক উল্টো। অর্থাৎ, মহিলাদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় বেড়ে যায়।

লক্ষণ
কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায় অ্যাজমার ক্ষেত্রেক্ট কাশি হয় খুব। কাশির প্রকোপ বাজে ভাবে বেড়ে যায় রাতে এবং ভোরবেলায়। এক এক সময় এত কাশি হয় যে ঘুমোনো মুশকিল হয়ে যায় নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় শিসের মতো বা সাঁই সাঁই শব্দ পাওয়া যায় ন্ন বুকের মধ্যে আঁট ভাব লাগে, যেন বুকটা কেউ চেপে ধরে আছে বা বুকের ওপর কেউ বসে পড়েছে শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। অনেকে নিঃশ্বাস নিতেই পারেন না। রোগীর মনে হয় ফুসফুসে বাতাস যেন ঢুকছেই না, তিনি বাতাসটা নিতেই পারছেন না৷।

অ্যাজমার লক্ষণগুলি কখন হয়?
অবশ্যই অ্যাজমা থাকা মানে সবসময় এই লক্ষণগুলি হতে থাকে, তা নয়। এক এক সময় বেড়ে যায় বেশি, যেমনক্ট ন্ন শীতকালে কোল্ড ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ধুলোবালি লাগলে পশুর গায়ের লোম ঢুকে গেলে ফুলের রেণু ঢুকে গেলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ধূমপান দূষিত বায়ু (যেমন যানবাহন বা কলকারখানা) কাজের জায়গায় দূষিত আবহাওয়া অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ কোনও কোনও এক্সাসাইজ করার সময় মানসিক স্ট্রেস স্লিপ অ্যাপনিয়া সাইনাস সংক্রমণ ইত্যাদি।

ডায়াগনসিসের উপায়
আপনার লক্ষণগুলি জানার পর চিকিৎসক যে যে বিষয়ে ফোকাস করে ডায়াগনসিস চালাতে পারেনক্ট পারিবারিক ইতিহাসে অ্যাজমা আছে কিনা আপনার লক্ষণগুলি কখন, কীভাবে দেখা গেছে বা কখন মারাত্মক আকার নিচ্ছে ন্ন আপনার নিঃশ্বাসের সময় কোনও শব্দ হচ্ছে কিনা কতটা সর্দি হয়েছে ফুসফুস কতখানি কার্যকর রয়েছে বায়ু চলাচল কতটা স্বাভাবিক আছে অথবা আদৌ আছে কিনা কোনও অ্যালার্জেন আক্রমণ করেছে কিনা জানতে পরীক্ষা রিফ্লা‘ ডিজিজ, ভোকাল কর্ড, স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা আছে কিনা জানতে পরীক্ষা বুকের এক্স-রে বা ইলেকট্রো কার্ডিওগ্রাম।

চিকিৎসা
রোগটা অল্প বা মারাত্মক যে অবস্থাতেই আপনার থাকুক, আপনার জন্য ঠিক কোন ওষুধটা দরকার তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন। তাই রোগের চিকিৎসার জন্য একজন বিশিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ আবশ্যিক। ইনহেলারের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই। অতএব, ওষুধের দোকানের পরামর্শ নিয়ে ইনহেলার কখনও নয়, চিকিৎসক যেটি বলবেন, নিতে হবে সেইটাই৷ হাঁপানি যাদের আছে তাদের অনেককেই দীর্ঘ সময়ের বা লং টার্মের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। এতে লক্ষণগুলি চট করে মাথা চাড়া দিতে পারে না। তবে এই ওষুধগুলো কিন্তু শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেলে সেটা চট করে কমাতে পারে না। কুইক রিলিফের জন্য অন্য ওষুধ আছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ডাক্তারের পরামর্শে ইনহেলার নিন

আপডেট টাইম : ০২:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৪

ঢাকা: শীতকাল মানে যেমন ঝোলা গুড়ে চোবানো রুটি জিভে দিয়ে ‘আহা! আহা!’ স্বর্গসুখ, লেপ জড়িয়ে শুধু মাথাটুকু বের করে গরমাগরম কফিতে চুমুক, তেমনি আবার সঙ্গে চাপা একটা ভয়। যাদের রোগটা নেই তবু ঠিক আছে, কিন্তু অ্যাজমা বা হাঁপানির বাসা যে শরীরে আছে, শীতের আদর হাত বাড়ালেই তাদের প্রাণটা ছ্যাঁত করে ওঠে- আবার সমস্যাটা বাড়বে না তো? ঘা নেই, কাটা-ছেঁড়া নেই, সমস্যা হল নিঃশ্বাস নিতে, প্রত্যেকবার। প্রতিটা নিঃশ্বাসের সময় কষ্টে চোখ-মুখ ঠিকরে আসাক্ট প্রতিটা নিঃশ্বাসই শেষবারের হওয়ার ভয়।

রোগটা কী?
সহজভাবে বললে সমস্যাটা ফুসফুস ও শ্বাসনালির। শ্বাসনালির মাধ্যমে ফুসফসে বায়ু চলাচল করে। এবার যাদের অ্যাজমা আছে, শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হয়ে তাদের বায়ু চলাচলের পথটা সঙ্কুচিত হয়ে যায়। বুকের ভেতর আঁট ভাব লাগে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট, সঙ্গে কাশি। কাশিটা মূলত রাত ও ভোরের দিকে হয়ে থাকে।

কেন হয়?
একেবারে এই কারণটার জন্যই লোকের অ্যাজমা হয়ে থাকেক্ট এমনভাবে নির্দিষ্ট করে এখনও কিছু বলা যায় না। তবু কিছু জিনগত ও পরিবেশগত বিষয়কে অ্যাজমার জন্য দায়ী করা হয়৷ বংশগত ভাবে অ্যালার্জির প্রবণতা বা অ্যাটোপি একটা বড় কারণ বংশে কারও থাকলে, বিশেষ করে বাবা-মার ছোটবেলায় কোনও শ্বাসকার্য জনিত সংক্রমণ হয়ে থাকলে ধূমপান অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য সেবন।

ঝুঁকিতে কারা?
রোগের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলেই সহজে বোঝা যায় যে এর ঝুঁকিতে কারা কারা রয়েছেন। বংশে কারও যদি অ্যাজমা হয়ে থাকে, বিশেষ করে বাবা-মা’র, সম্তানের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেকটা যাঁরা ধূমপান করেন বা অন্য কোনও তামাকজাত দ্রব্য সেবন করেন, তাদের হাঁপানি ধরার ভয় ভীষণভাবে অল্পবয়সে শ্বাসকার্য জনিত কোনও সংক্রমণ বা অন্য কোনও অ্যালার্জির আক্রমণ হয়ে থাকলে। অ্যাজমার থাবা যে-কোনও বয়সেই হতে পারে, তবে অল্প বয়সেই শুরু হয় বেশি। ছয় বছরের পর থেকে কোনও অ্যালার্জি, একজিমা হলে অথবা বাবা মা’র অ্যাজমার সমস্যা থাকলে কিন্তু বাচ্চা তখন থেকেই ঝুঁকিতে রইল। ছেলে-মেয়ে সকলেই ভুগে থাকে এই রোগে, তবু ছোটবেলায় মেয়েদের তুলনায় ছেলেরাই রোগের ঝুঁকিতে থাকে বেশি। আবার ১৫ বছর বয়সের পর ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়ায় ঠিক উল্টো। অর্থাৎ, মহিলাদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় বেড়ে যায়।

লক্ষণ
কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায় অ্যাজমার ক্ষেত্রেক্ট কাশি হয় খুব। কাশির প্রকোপ বাজে ভাবে বেড়ে যায় রাতে এবং ভোরবেলায়। এক এক সময় এত কাশি হয় যে ঘুমোনো মুশকিল হয়ে যায় নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় শিসের মতো বা সাঁই সাঁই শব্দ পাওয়া যায় ন্ন বুকের মধ্যে আঁট ভাব লাগে, যেন বুকটা কেউ চেপে ধরে আছে বা বুকের ওপর কেউ বসে পড়েছে শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। অনেকে নিঃশ্বাস নিতেই পারেন না। রোগীর মনে হয় ফুসফুসে বাতাস যেন ঢুকছেই না, তিনি বাতাসটা নিতেই পারছেন না৷।

অ্যাজমার লক্ষণগুলি কখন হয়?
অবশ্যই অ্যাজমা থাকা মানে সবসময় এই লক্ষণগুলি হতে থাকে, তা নয়। এক এক সময় বেড়ে যায় বেশি, যেমনক্ট ন্ন শীতকালে কোল্ড ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ধুলোবালি লাগলে পশুর গায়ের লোম ঢুকে গেলে ফুলের রেণু ঢুকে গেলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ধূমপান দূষিত বায়ু (যেমন যানবাহন বা কলকারখানা) কাজের জায়গায় দূষিত আবহাওয়া অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ কোনও কোনও এক্সাসাইজ করার সময় মানসিক স্ট্রেস স্লিপ অ্যাপনিয়া সাইনাস সংক্রমণ ইত্যাদি।

ডায়াগনসিসের উপায়
আপনার লক্ষণগুলি জানার পর চিকিৎসক যে যে বিষয়ে ফোকাস করে ডায়াগনসিস চালাতে পারেনক্ট পারিবারিক ইতিহাসে অ্যাজমা আছে কিনা আপনার লক্ষণগুলি কখন, কীভাবে দেখা গেছে বা কখন মারাত্মক আকার নিচ্ছে ন্ন আপনার নিঃশ্বাসের সময় কোনও শব্দ হচ্ছে কিনা কতটা সর্দি হয়েছে ফুসফুস কতখানি কার্যকর রয়েছে বায়ু চলাচল কতটা স্বাভাবিক আছে অথবা আদৌ আছে কিনা কোনও অ্যালার্জেন আক্রমণ করেছে কিনা জানতে পরীক্ষা রিফ্লা‘ ডিজিজ, ভোকাল কর্ড, স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা আছে কিনা জানতে পরীক্ষা বুকের এক্স-রে বা ইলেকট্রো কার্ডিওগ্রাম।

চিকিৎসা
রোগটা অল্প বা মারাত্মক যে অবস্থাতেই আপনার থাকুক, আপনার জন্য ঠিক কোন ওষুধটা দরকার তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন। তাই রোগের চিকিৎসার জন্য একজন বিশিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ আবশ্যিক। ইনহেলারের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই। অতএব, ওষুধের দোকানের পরামর্শ নিয়ে ইনহেলার কখনও নয়, চিকিৎসক যেটি বলবেন, নিতে হবে সেইটাই৷ হাঁপানি যাদের আছে তাদের অনেককেই দীর্ঘ সময়ের বা লং টার্মের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। এতে লক্ষণগুলি চট করে মাথা চাড়া দিতে পারে না। তবে এই ওষুধগুলো কিন্তু শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেলে সেটা চট করে কমাতে পারে না। কুইক রিলিফের জন্য অন্য ওষুধ আছে।