পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

কয়লার অভাবে রূপগঞ্জে ৪৯ ইটভাটা বন্ধ

রূপগঞ্জে ৪৯টি ইটভাটায় কয়লার অভাবে ইট পোড়ানো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় ইটভাটাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বলে ভাটার মালিকরা দাবি করেন। ভাটাগুলোয় লাখ লাখ কাঁচা ইট পড়ে থাকলেও কয়লার অভাবে পোড়ানো যাচ্ছে না। এদিকে কয়লার ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদনও এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার অভাবে ৪৯টি ইটভাটা বন্ধ থাকায় এক মাসে ৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে মালিকপক্ষকে। এ অবস্থায় স্থানীয় ইটভাটা মালিক ও হাজার হাজার শ্রমিক কয়লা আমদানির দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবরোধের পরও কয়লা আমদানি না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশ অনুযায়ী রূপগঞ্জ উপজেলার বাংলা ভাটাগুলো লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবেশবান্ধব হাওয়াই এবং জিগজাগ ভাটায় রূপান্তর করা হয়। ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানি করা কয়লা দিয়ে দেশে হাওয়াই ও জিগজাগ ভাটায় ইট পোড়ানো হয়। মেঘালয়ের একটি আদালতে পরিবেশবাদীরা কয়লা উত্তোলন বন্ধে মামলা করেন। সম্প্রতি আদালত কয়লা উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। ফলে ১৬ মে থেকে মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রূপগঞ্জেও। শিগগিরই কয়লা পাওয়া না গেলে রূপগঞ্জের পরিবেশবান্ধব ৪৯টি ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে আবাসন শিল্পও সঙ্কটের মুখে পড়বে। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল রড ও সিমেন্টের ক্ষেত্রেও। কয়লার অভাবে বর্তমানে এখানকার ইটভাটা ও রড তৈরির কারখানাসহ ছোট-বড় বেশকিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হয়ে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। বেশ কয়েকটি ইটভাটার শ্রমিকরা জানান, এ অঞ্চলের ইটভাটায় সাধারণত অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে কাজ শুরু হয়। ইট প্রস্তুত হলেও কয়লার অভাবে পোড়ানো যাচ্ছে না। এ মৌসুমে প্রতিটি ভাটায় গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টন কয়লার প্রয়োজন হয়। এনবিবি ইটভাটার শ্রমিক হাকিম আলী বলেন, বাজান আমরা গরিব মানুষ। ইটখোলায় কাম কইরা সংসার চলে। পরিবেশ অধিদফতরর উপপরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, পরিবেশবান্ধব হাওয়াই এবং জিগজাগ পদ্ধতির ইটভাটায় কয়লার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা যায় না। এ অবস্থায় ইটভাটায় কয়লা ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। কয়লা আমদানি বন্ধ থাকলে ইটভাটার মালিকরা লোকসানে পড়বেন

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

কয়লার অভাবে রূপগঞ্জে ৪৯ ইটভাটা বন্ধ

আপডেট টাইম : ০৬:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৪

রূপগঞ্জে ৪৯টি ইটভাটায় কয়লার অভাবে ইট পোড়ানো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় ইটভাটাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বলে ভাটার মালিকরা দাবি করেন। ভাটাগুলোয় লাখ লাখ কাঁচা ইট পড়ে থাকলেও কয়লার অভাবে পোড়ানো যাচ্ছে না। এদিকে কয়লার ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদনও এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার অভাবে ৪৯টি ইটভাটা বন্ধ থাকায় এক মাসে ৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে মালিকপক্ষকে। এ অবস্থায় স্থানীয় ইটভাটা মালিক ও হাজার হাজার শ্রমিক কয়লা আমদানির দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবরোধের পরও কয়লা আমদানি না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশ অনুযায়ী রূপগঞ্জ উপজেলার বাংলা ভাটাগুলো লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবেশবান্ধব হাওয়াই এবং জিগজাগ ভাটায় রূপান্তর করা হয়। ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানি করা কয়লা দিয়ে দেশে হাওয়াই ও জিগজাগ ভাটায় ইট পোড়ানো হয়। মেঘালয়ের একটি আদালতে পরিবেশবাদীরা কয়লা উত্তোলন বন্ধে মামলা করেন। সম্প্রতি আদালত কয়লা উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। ফলে ১৬ মে থেকে মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রূপগঞ্জেও। শিগগিরই কয়লা পাওয়া না গেলে রূপগঞ্জের পরিবেশবান্ধব ৪৯টি ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে আবাসন শিল্পও সঙ্কটের মুখে পড়বে। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল রড ও সিমেন্টের ক্ষেত্রেও। কয়লার অভাবে বর্তমানে এখানকার ইটভাটা ও রড তৈরির কারখানাসহ ছোট-বড় বেশকিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হয়ে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। বেশ কয়েকটি ইটভাটার শ্রমিকরা জানান, এ অঞ্চলের ইটভাটায় সাধারণত অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে কাজ শুরু হয়। ইট প্রস্তুত হলেও কয়লার অভাবে পোড়ানো যাচ্ছে না। এ মৌসুমে প্রতিটি ভাটায় গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টন কয়লার প্রয়োজন হয়। এনবিবি ইটভাটার শ্রমিক হাকিম আলী বলেন, বাজান আমরা গরিব মানুষ। ইটখোলায় কাম কইরা সংসার চলে। পরিবেশ অধিদফতরর উপপরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, পরিবেশবান্ধব হাওয়াই এবং জিগজাগ পদ্ধতির ইটভাটায় কয়লার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা যায় না। এ অবস্থায় ইটভাটায় কয়লা ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। কয়লা আমদানি বন্ধ থাকলে ইটভাটার মালিকরা লোকসানে পড়বেন