অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

প্রবাসে গিয়ে পঙ্গুত্বের পথে গৃহকর্মী নিপা

লেবানন : বহু আশা নিয়ে অর্থ ঊপার্জন করে পরিবারকে স্বচ্ছল করার আশায় দেড় বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমায় হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার আখাউরা গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে নিপা। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আর দশজনার মত কাজ মেলেনি নিপার, মালিক বদমেজাজি হওয়ায় কাজে একটু ভুল হলেই বেদম প্রহার করা হত তাকে। অতিরিক্ত আঘাতে নিপার পা দুটি অবশ হয়ে গেছে, কেউ ধরে না হাঁটালে হাঁটতে পারেননা তিনি। খুবই অমানবিক পরিস্থিতে দিন কাটাচ্ছেন নিপা।

নিপা জানান- সবার মত অনেক আশা নিয়ে আমিও লেবানন আসি কিছু অর্থের আশায়, কিন্তু সুখ আমার কপালে সইলনা। লেবানন আসার পর থেকেই মালিক মালিকের স্ত্রী খুব মারধর করত। মারের ভয়ে দেশে পাঠিয়ে দিতে বলি, তাতে রাজিতো হলেনই না আমাকে হাসপাতালে পর্যন্ত নিতে চাননি।

নিপা আরো জানান, অতিরিক্ত প্রহারের ভয়ে তিনি পালাতে চেষ্টা করেন কিন্তু তাতে বিফল হওয়ায় সমস্যা আরো বেড়ে যায়, অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করতে কষ্ট হওয়ায় নিপা একদিন কাজে সময় বেশি নেয়। তাই তার মালিক তাকে খাটিয়ার সঙ্গে বেঁধে বেল্ট দিয়ে পায়ে প্রহার করে, তারপর থেকে পায়ে চলতে পারেননা নিপা।

মালিকের মেয়ে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করান তার পরে হঠাৎ একদিন লেবাননের মনছুরিয়া এলাকায় রাস্তায় ফেলে রেখে যান নিপাকে।

সেখানে অপরিচিত এক বাংলাদেশি নিপাকে নিয়ে চার মাস প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, চার মাসেও সুস্থ না হওয়ায় ঐ বাংলাদেশি কিছু বুঝে উঠতে পারেননা। ভয় পান যদি কিছু হয়ে যায় তাই তিনিও ছাপড়া নামে এক এলাকায় তাকে রেখে চলে যান।

ছাপড়া থেকে লেবানন যুবদলের সভাপতি গাজি মো. রফিক নিজের দায়িত্বে নিপাকে নেয়ামতের বাসায় রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। দূতাবাস থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়-তারা নিজ দায়িত্বে নিপাকে দেশে পাঠিয়ে দেবেন। তবে সময় লাগবে বলেও জানানো হয় দূতাবাস থেকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বৈরুত অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ মহিলাসহ সকল শ্রমিকদেরকে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস থেকে ওই দেশটি কতটুকু ভাল-মন্দ তার খবর নিন, যাতে আর কাউকে নিপার মত পা না হারাতে হয়।

নিপার মত আরো অনেক মেয়েই অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে। নিপা এখন অতি দ্রুত দেশে তার পরিবার পরিজনের কাছে যেতে চান এবং বাংলাদেশ সরকার ও সকল মানবধিকার সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

প্রবাসে গিয়ে পঙ্গুত্বের পথে গৃহকর্মী নিপা

আপডেট টাইম : ০৩:১৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০১৫

লেবানন : বহু আশা নিয়ে অর্থ ঊপার্জন করে পরিবারকে স্বচ্ছল করার আশায় দেড় বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমায় হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার আখাউরা গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে নিপা। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আর দশজনার মত কাজ মেলেনি নিপার, মালিক বদমেজাজি হওয়ায় কাজে একটু ভুল হলেই বেদম প্রহার করা হত তাকে। অতিরিক্ত আঘাতে নিপার পা দুটি অবশ হয়ে গেছে, কেউ ধরে না হাঁটালে হাঁটতে পারেননা তিনি। খুবই অমানবিক পরিস্থিতে দিন কাটাচ্ছেন নিপা।

নিপা জানান- সবার মত অনেক আশা নিয়ে আমিও লেবানন আসি কিছু অর্থের আশায়, কিন্তু সুখ আমার কপালে সইলনা। লেবানন আসার পর থেকেই মালিক মালিকের স্ত্রী খুব মারধর করত। মারের ভয়ে দেশে পাঠিয়ে দিতে বলি, তাতে রাজিতো হলেনই না আমাকে হাসপাতালে পর্যন্ত নিতে চাননি।

নিপা আরো জানান, অতিরিক্ত প্রহারের ভয়ে তিনি পালাতে চেষ্টা করেন কিন্তু তাতে বিফল হওয়ায় সমস্যা আরো বেড়ে যায়, অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করতে কষ্ট হওয়ায় নিপা একদিন কাজে সময় বেশি নেয়। তাই তার মালিক তাকে খাটিয়ার সঙ্গে বেঁধে বেল্ট দিয়ে পায়ে প্রহার করে, তারপর থেকে পায়ে চলতে পারেননা নিপা।

মালিকের মেয়ে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করান তার পরে হঠাৎ একদিন লেবাননের মনছুরিয়া এলাকায় রাস্তায় ফেলে রেখে যান নিপাকে।

সেখানে অপরিচিত এক বাংলাদেশি নিপাকে নিয়ে চার মাস প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, চার মাসেও সুস্থ না হওয়ায় ঐ বাংলাদেশি কিছু বুঝে উঠতে পারেননা। ভয় পান যদি কিছু হয়ে যায় তাই তিনিও ছাপড়া নামে এক এলাকায় তাকে রেখে চলে যান।

ছাপড়া থেকে লেবানন যুবদলের সভাপতি গাজি মো. রফিক নিজের দায়িত্বে নিপাকে নেয়ামতের বাসায় রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। দূতাবাস থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়-তারা নিজ দায়িত্বে নিপাকে দেশে পাঠিয়ে দেবেন। তবে সময় লাগবে বলেও জানানো হয় দূতাবাস থেকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বৈরুত অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ মহিলাসহ সকল শ্রমিকদেরকে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস থেকে ওই দেশটি কতটুকু ভাল-মন্দ তার খবর নিন, যাতে আর কাউকে নিপার মত পা না হারাতে হয়।

নিপার মত আরো অনেক মেয়েই অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে। নিপা এখন অতি দ্রুত দেশে তার পরিবার পরিজনের কাছে যেতে চান এবং বাংলাদেশ সরকার ও সকল মানবধিকার সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন।