পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বরিশালে দোয়ারিকা-সিকাপুর সেতুর টোল লোপাট কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ ! Logo বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১,২,৩,৪ ও ঢাকা জেলা সার্কেলের আয়োজনে সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক রোড-শো অনুষ্ঠিত Logo রূপগঞ্জে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ‘ওয়েলকেয়ার গ্রীনসিটি’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি Logo পাটগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি রাজিবের মতবিনিময়, দুস্থদের মাঝে চেক বিতরণ Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা ১২ জনকে রাতের আঁধারে ফেরত নিল বিএসএফ Logo বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১, সার্কেলের সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান’কে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার ফেসবুক পেজে Logo পাটগ্রামের বুড়িমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চার পরিবারকে এমপির গরু উপহার Logo প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়ন করতে হবে: শেখ রবিউল আলম Logo লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিল বিজিবি Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রামের ৬৫ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে ৮ জনকে পুশ ইনের অভিযোগ, ৩ নারী শূন্যরেখায়

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৮ জনকে পুশ ইনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে ট্রেনযোগে ৫ জন নারী-পুরুষ দেশের অভ্যন্তরে ঢুকেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছে। তবে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫ জন ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যাপারে কিছু না জানিয়ে ৩ জন নারীকে বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি ক্ষুদে বার্তা (মেসেজ) দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। ওই তিন জন নারী বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় রয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
সীমান্ত সূত্র, স্থানীয়রা ও বিজিবি জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩ নম্বরের উপপিলার ৯ নম্বরের একদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকা। শনিবার ভোরে এই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেট (ফটক) খুলে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায় (পুশ ইন)। সকালে এ ঘটনা বুঝতে পেরে স্থানীয় এলাকাবাসি ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধবলসূতি ক্যাম্পের টহল দলকে খবর দেয়। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা পুনরায় ৩ জন নারীকে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়। বর্তমানে ওই নারীরা ভারতীয় সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরের শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন এইদিন রাতে ৮ জন নারী-পুরুষকে পুশ ইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন হয়ে সকালের ট্রেনে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সময় পুশ ইনের শিকার নারী ও পুরুষেরা দাবি করে তাঁদের বাড়ি খুলনা ও নড়াইল জেলায়। বিএসএফ তাঁদেরকে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে বাংলাদেশের দিকে পাঠিয়ে দেয়।
পাটগ্রামের বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনে পুশ ইনের শিকার আকরাম হোসেন (৫০), শেখ রাবেয়া (৪০)-সহ অন্যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশি দাবি করে বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা থানার বারাসাত গ্রামে ও নড়াইল জেলায় বলে জানায়।
এ ঘটনায় শনিবার বেলা ১২ টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩ নম্বরের উপপিলার ৮ নম্বরের সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬ জন ও ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬ জন কথা বলেন। বিজিবি জানায়, এ সময় বিএসএফকে পুশ ইন করা ব্যক্তিদেরকে দ্রুত ফেরত নিতে বলা হয়েছে। বিএসএফ অধিনায়ক পর্যায়ে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানায়।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ ফজলে মুনিম ও সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুর রাজ্জাকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ক্ষুদে বার্তা দিলেও কোনো সাড়া দেননি তাঁরা। তবে, ধবলসূতি বিজিবির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, ৩ জনকে পুশ ইন করেছে বিএসএফ। অন্যদের ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণ নেই। পুশ ইনকারীদেরকে ফেরত নিতে বিএসএফকে বলা হয়েছে। বিএসএফ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। ঘটনাস্থলের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সর্তক রয়েছে। বিএসএফও অতিরিক্ত সদস্য নিয়ে টহলে আছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে দোয়ারিকা-সিকাপুর সেতুর টোল লোপাট কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ !

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে ৮ জনকে পুশ ইনের অভিযোগ, ৩ নারী শূন্যরেখায়

আপডেট টাইম : ০৯:০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৮ জনকে পুশ ইনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে ট্রেনযোগে ৫ জন নারী-পুরুষ দেশের অভ্যন্তরে ঢুকেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছে। তবে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫ জন ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যাপারে কিছু না জানিয়ে ৩ জন নারীকে বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি ক্ষুদে বার্তা (মেসেজ) দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। ওই তিন জন নারী বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় রয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
সীমান্ত সূত্র, স্থানীয়রা ও বিজিবি জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩ নম্বরের উপপিলার ৯ নম্বরের একদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকা। শনিবার ভোরে এই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেট (ফটক) খুলে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায় (পুশ ইন)। সকালে এ ঘটনা বুঝতে পেরে স্থানীয় এলাকাবাসি ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধবলসূতি ক্যাম্পের টহল দলকে খবর দেয়। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা পুনরায় ৩ জন নারীকে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়। বর্তমানে ওই নারীরা ভারতীয় সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরের শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন এইদিন রাতে ৮ জন নারী-পুরুষকে পুশ ইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন হয়ে সকালের ট্রেনে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সময় পুশ ইনের শিকার নারী ও পুরুষেরা দাবি করে তাঁদের বাড়ি খুলনা ও নড়াইল জেলায়। বিএসএফ তাঁদেরকে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে বাংলাদেশের দিকে পাঠিয়ে দেয়।
পাটগ্রামের বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনে পুশ ইনের শিকার আকরাম হোসেন (৫০), শেখ রাবেয়া (৪০)-সহ অন্যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশি দাবি করে বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা থানার বারাসাত গ্রামে ও নড়াইল জেলায় বলে জানায়।
এ ঘটনায় শনিবার বেলা ১২ টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩ নম্বরের উপপিলার ৮ নম্বরের সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬ জন ও ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬ জন কথা বলেন। বিজিবি জানায়, এ সময় বিএসএফকে পুশ ইন করা ব্যক্তিদেরকে দ্রুত ফেরত নিতে বলা হয়েছে। বিএসএফ অধিনায়ক পর্যায়ে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানায়।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ ফজলে মুনিম ও সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুর রাজ্জাকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ক্ষুদে বার্তা দিলেও কোনো সাড়া দেননি তাঁরা। তবে, ধবলসূতি বিজিবির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, ৩ জনকে পুশ ইন করেছে বিএসএফ। অন্যদের ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণ নেই। পুশ ইনকারীদেরকে ফেরত নিতে বিএসএফকে বলা হয়েছে। বিএসএফ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। ঘটনাস্থলের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সর্তক রয়েছে। বিএসএফও অতিরিক্ত সদস্য নিয়ে টহলে আছে।