অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

স্পেশালিস্ট’ কিপার নেই পাইপলাইনেও

ঢাকা : টাইগারদের দলে স্পেশালিস্ট উইকেটকিপার নেই পাইপলাইনে। বিশ্বের সেরা সেরা উইকেটকিপারদের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা প্রথম উইকেটকিপার তারপর ব্যাটসম্যান। সেটা গিল ক্রিস্ট, মার্ক বাউচার কিংবা কুমার সাঙ্গাকারার কথাই বলি।

এমনকি কয়েক দিন আগে মুশফিকুর রহিমও স্ব-মহিমায় ঘোষণা দিয়েছেন তিনি প্রথম উইকেটকিপার তারপর ব্যাটসম্যান।

তাহলে মুশফিকের কিছু হলে তার জায়গা পূরণ করবে কে? ভাবছেন লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়ের কথা! তারা তো প্রথমে ব্যাটসম্যান, তারপর উইকেটকিপার। মোটেও স্পেশালিস্ট উইকেটকিপার নন। কিপিংটা তাদের কাছে পার্টটাইম কাজের মতো। দলে জায়গা পাকাপোক্ত করতে সবাই ব্যাটিং নিয়ে ব্যস্ত। শুধু কিপিংয়ে মনোযোগ দেয়ার সময় যেন কারো নেই। এটা ঠিক শুধু কিপিং দিয়ে এখন দলে টিকে থাকা কঠিন। তাই বলে কি স্পেশালিস্ট কিপার দরকার নেই? এই বিষয়টা নিয়ে কী আদৌ ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড!

ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং -তিন বিভাগেই এখন ভালো করছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল। কেননা এখন পাইপলাইনে অনেক ক্রিকেটার। তার বড় প্রমাণ-দেশের মাটিতে টাইগাররা যখন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজে হারাচ্ছিল তখন সুদূর আফ্রিকায় গিয়ে প্রোটিয়া যুবাদের নাস্তানাবুদ করছিল বাংলাদেশের যুবারা। এই তরুণ ক্রিকেটাররাই তো ভবিষ্যতের জাতীয় দলের তারকা!

জাতীয় দলে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতো বেশি বেড়ে গেছে একবার কেউ দল থেকে বের হলে পরে সুযোগ পাওয়া খুবই কঠিন। তার বড় উদাহরণ হতে পারেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছিলেন। তারপর সুস্থ হয়ে ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলে ফিরেছেন বটে কিন্তু নিজের জায়গা উদ্ধার করতে পারেননি। একাদশে তার জায়গাও হচ্ছে না। বিজয়ের জায়গায় ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী হিসেবে দারুণ পারফর্ম করছেন সৌম্য সরকার। বিজয় যত ভালো পারফর্মই করুক না কেন এই মুহূর্তে সৌম্যকে কি ওপেনিং থেকে সরানোর কথা ভাবতে পারবেন কোচ কিংবা টিম ম্যানেজমেন্ট!

বোলিংয়েও এখন পাইপলাইনে অনেক ক্রিকেটার। এমনকি মাশরাফি বিন মর্তুজাও যদি দল থেকে অবসর নেন তার অভাবটাও পূরণ করার মতো পেসার প্রস্তুত হয়ে আছেন! বর্তমানে ব্যাটিং কিংবা বোলিং -দুই বিভাগেই পাইপলাইনে অনেক ক্রিকেটার তৈরি হয়ে বসে আছে। পেস বোলিংয়ে অন্তত ১০ জনের মতো পেসার তৈরি হয়ে রয়েছেন জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায়। শফিউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, আল-আমীন, আবুল হাসান রাজুরা তো সুযোগই পাচ্ছেন না।

খালেদ মাসুদ পাইলটের পর তো অনেকের মধ্যেই কিপিংয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। দারুণ কিপিং করতেন জহিরুল ইসলাম অমি। পাশাপাশি ওপেনিংয়ে ব্যাট করতেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে বেশি মনোযোগ দেয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত আর পারফেক্ট কিপার হয়ে উঠতে পারেননি। এছাড়া নুরুল ইসলাম সোহান, হিমেলসহ বেশ কয়েকজন তরুণ কিপারের মধ্যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তারা দারুণ পারফর্ম করেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর আগেই ম্লান হয়ে গেছেন।

ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে পাইপলাইন নিয়ে ভাবার পাশাপাশি এখন উইকেটকিপিং নিয়েও ভাবার সময় এসেছে। তা না হলে দেখা যাবে দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিং করার পরও শুধু মাত্র কিপিংয়ে কিছু ভুলের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

কিপিংয়ে মুশফিকের উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন সেটা নিয়েও চিন্তা করার সময় এসেছে এখন। কেননা মুশফিক তো আর সারাজীবন খেলবেন না। আর যাকে উইকেটকিপার হিসেবে বিবেচনা করে দলে নেওয়া হবে তার প্রধান ফোকাস অবশ্যই কিপিংয়ে হতে হবে, তারপর ব্যাটিং।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

স্পেশালিস্ট’ কিপার নেই পাইপলাইনেও

আপডেট টাইম : ০২:৪৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৫

ঢাকা : টাইগারদের দলে স্পেশালিস্ট উইকেটকিপার নেই পাইপলাইনে। বিশ্বের সেরা সেরা উইকেটকিপারদের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা প্রথম উইকেটকিপার তারপর ব্যাটসম্যান। সেটা গিল ক্রিস্ট, মার্ক বাউচার কিংবা কুমার সাঙ্গাকারার কথাই বলি।

এমনকি কয়েক দিন আগে মুশফিকুর রহিমও স্ব-মহিমায় ঘোষণা দিয়েছেন তিনি প্রথম উইকেটকিপার তারপর ব্যাটসম্যান।

তাহলে মুশফিকের কিছু হলে তার জায়গা পূরণ করবে কে? ভাবছেন লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়ের কথা! তারা তো প্রথমে ব্যাটসম্যান, তারপর উইকেটকিপার। মোটেও স্পেশালিস্ট উইকেটকিপার নন। কিপিংটা তাদের কাছে পার্টটাইম কাজের মতো। দলে জায়গা পাকাপোক্ত করতে সবাই ব্যাটিং নিয়ে ব্যস্ত। শুধু কিপিংয়ে মনোযোগ দেয়ার সময় যেন কারো নেই। এটা ঠিক শুধু কিপিং দিয়ে এখন দলে টিকে থাকা কঠিন। তাই বলে কি স্পেশালিস্ট কিপার দরকার নেই? এই বিষয়টা নিয়ে কী আদৌ ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড!

ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং -তিন বিভাগেই এখন ভালো করছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল। কেননা এখন পাইপলাইনে অনেক ক্রিকেটার। তার বড় প্রমাণ-দেশের মাটিতে টাইগাররা যখন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজে হারাচ্ছিল তখন সুদূর আফ্রিকায় গিয়ে প্রোটিয়া যুবাদের নাস্তানাবুদ করছিল বাংলাদেশের যুবারা। এই তরুণ ক্রিকেটাররাই তো ভবিষ্যতের জাতীয় দলের তারকা!

জাতীয় দলে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতো বেশি বেড়ে গেছে একবার কেউ দল থেকে বের হলে পরে সুযোগ পাওয়া খুবই কঠিন। তার বড় উদাহরণ হতে পারেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছিলেন। তারপর সুস্থ হয়ে ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলে ফিরেছেন বটে কিন্তু নিজের জায়গা উদ্ধার করতে পারেননি। একাদশে তার জায়গাও হচ্ছে না। বিজয়ের জায়গায় ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী হিসেবে দারুণ পারফর্ম করছেন সৌম্য সরকার। বিজয় যত ভালো পারফর্মই করুক না কেন এই মুহূর্তে সৌম্যকে কি ওপেনিং থেকে সরানোর কথা ভাবতে পারবেন কোচ কিংবা টিম ম্যানেজমেন্ট!

বোলিংয়েও এখন পাইপলাইনে অনেক ক্রিকেটার। এমনকি মাশরাফি বিন মর্তুজাও যদি দল থেকে অবসর নেন তার অভাবটাও পূরণ করার মতো পেসার প্রস্তুত হয়ে আছেন! বর্তমানে ব্যাটিং কিংবা বোলিং -দুই বিভাগেই পাইপলাইনে অনেক ক্রিকেটার তৈরি হয়ে বসে আছে। পেস বোলিংয়ে অন্তত ১০ জনের মতো পেসার তৈরি হয়ে রয়েছেন জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায়। শফিউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, আল-আমীন, আবুল হাসান রাজুরা তো সুযোগই পাচ্ছেন না।

খালেদ মাসুদ পাইলটের পর তো অনেকের মধ্যেই কিপিংয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। দারুণ কিপিং করতেন জহিরুল ইসলাম অমি। পাশাপাশি ওপেনিংয়ে ব্যাট করতেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে বেশি মনোযোগ দেয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত আর পারফেক্ট কিপার হয়ে উঠতে পারেননি। এছাড়া নুরুল ইসলাম সোহান, হিমেলসহ বেশ কয়েকজন তরুণ কিপারের মধ্যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তারা দারুণ পারফর্ম করেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর আগেই ম্লান হয়ে গেছেন।

ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে পাইপলাইন নিয়ে ভাবার পাশাপাশি এখন উইকেটকিপিং নিয়েও ভাবার সময় এসেছে। তা না হলে দেখা যাবে দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিং করার পরও শুধু মাত্র কিপিংয়ে কিছু ভুলের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

কিপিংয়ে মুশফিকের উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন সেটা নিয়েও চিন্তা করার সময় এসেছে এখন। কেননা মুশফিক তো আর সারাজীবন খেলবেন না। আর যাকে উইকেটকিপার হিসেবে বিবেচনা করে দলে নেওয়া হবে তার প্রধান ফোকাস অবশ্যই কিপিংয়ে হতে হবে, তারপর ব্যাটিং।