অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রাম সীমান্তে লাইট বন্ধ করে পুশইনের চেষ্টা, বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ এ পেশাদার মোটরযান চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম Logo মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু Logo গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘুরিয়ে দেখাবেন এমপি রাজিব প্রধান Logo প্রেমের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, বড় পর্দায় আসছে সুমন পলাশের ‘ফিল্টার’ Logo লালমনিরহাট সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক আটক Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১২ গরু ও মোটরসাইকেল জব্দ Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা

মামলা থেকে নাম সরাতে ‘এক কোটি’ টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন সাকিব

ডেস্ক : মামলার তালিকা থেকে নাম সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা ও নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে এমন দাবি করেন তিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা হয়। সেই তালিকায় নাম আসে সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানেরও।

সাকিবের ভাষ্য, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এমন প্রস্তাব দিয়েছে, তারাও হয়তো জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলেই নাম প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়।

যোগাযোগ করেছিল কারা— এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যে ব্যক্তির নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি সাবেক এই অধিনায়ক।

সাকিব সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’

প্রস্তাব পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন সাকিব। তার ভাষায়, “এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো আমার সমস্যা আছে এবং আমি বাঁচতে চাই। হয়তো তারা ভেবেছে, আমার কাছে অনেক টাকা আছে, চাইলেই দিয়ে দেব।”

দেশে ফেরা নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। সাকিব বলেন, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, ‘আমি চাই স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এই দুটি বিষয় সমাধান না হলে আমার পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব নয়।’

গ্রেপ্তারের ভয় নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন সাকিব। “মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু ঘটতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,” বলেন তিনি।

জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ রয়েছে সাবেক এই অলরাউন্ডারের। তার বিশ্বাস, এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সামর্থ্য তার আছে। বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেটে এখনো দলকে অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চান। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে তিনি কোথায় আছেন, একই সঙ্গে দলও তার অবস্থান মূল্যায়ন করতে পারবে।

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন সাকিব। তার মতে, “আজ যেটা ভুল মনে হচ্ছে, পাঁচ বা দশ বছর পরে সেটাই হয়তো ঠিক মনে হতে পারে। মানুষ ভুলে যায়, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ ভোট দিয়েছিল বলেই আমি জিতেছি।”

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি। সাকিবের মতে, অনেকেই সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাজনীতিতে আসেন বলেই মানুষ রাজনীতিকে নেতিবাচকভাবে দেখে। তবে পরিবর্তন আনার সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখনো রাজনীতিই বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

Tag :

পাটগ্রাম সীমান্তে লাইট বন্ধ করে পুশইনের চেষ্টা, বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মামলা থেকে নাম সরাতে ‘এক কোটি’ টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন সাকিব

আপডেট টাইম : ০১:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ডেস্ক : মামলার তালিকা থেকে নাম সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা ও নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে এমন দাবি করেন তিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা হয়। সেই তালিকায় নাম আসে সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানেরও।

সাকিবের ভাষ্য, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এমন প্রস্তাব দিয়েছে, তারাও হয়তো জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলেই নাম প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়।

যোগাযোগ করেছিল কারা— এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যে ব্যক্তির নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি সাবেক এই অধিনায়ক।

সাকিব সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’

প্রস্তাব পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন সাকিব। তার ভাষায়, “এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো আমার সমস্যা আছে এবং আমি বাঁচতে চাই। হয়তো তারা ভেবেছে, আমার কাছে অনেক টাকা আছে, চাইলেই দিয়ে দেব।”

দেশে ফেরা নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। সাকিব বলেন, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, ‘আমি চাই স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এই দুটি বিষয় সমাধান না হলে আমার পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব নয়।’

গ্রেপ্তারের ভয় নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন সাকিব। “মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু ঘটতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,” বলেন তিনি।

জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ রয়েছে সাবেক এই অলরাউন্ডারের। তার বিশ্বাস, এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সামর্থ্য তার আছে। বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেটে এখনো দলকে অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চান। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে তিনি কোথায় আছেন, একই সঙ্গে দলও তার অবস্থান মূল্যায়ন করতে পারবে।

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন সাকিব। তার মতে, “আজ যেটা ভুল মনে হচ্ছে, পাঁচ বা দশ বছর পরে সেটাই হয়তো ঠিক মনে হতে পারে। মানুষ ভুলে যায়, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ ভোট দিয়েছিল বলেই আমি জিতেছি।”

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি। সাকিবের মতে, অনেকেই সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাজনীতিতে আসেন বলেই মানুষ রাজনীতিকে নেতিবাচকভাবে দেখে। তবে পরিবর্তন আনার সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখনো রাজনীতিই বলে বিশ্বাস করেন তিনি।