পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

দুই স্বামীর সংসারে নাছিমা!

বাংলার খবর২৪.কম500x350_5f795bdb831a6c28fbf53c1c175fa2b3_ড়হ, চট্টগ্রাম : তিনি একজন স্কুল শিক্ষিকা। একসাথে সংসার করছেন দুইজন স্বামীর। ১ম স্বামীকে তালাক দিয়ে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে আবার ফিরে যান প্রথম স্বামীর কাছে।

কৌশলে স্বামীকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়ে তার কলেজ জীবনের প্রেমিক আরেক স্কুল শিক্ষককে বিয়ে করেন। এক সাথে দুই স্বামীর সংসার করা ওই স্কুল শিক্ষিকার নাম নাছিমা আক্তার। তিনি জোরারগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষিকা।

আর ২য় স্বামী একই স্কুলের শিক্ষক ২ সন্তানের জনক সাইফুল আলম। শিক্ষিকা নাছিমার ঘরেও রয়েছে একটি সন্তান। সাইফুল- নাছিমা দম্পতির প্রেম বিয়ের খবর এখন টক অব দ্যা মিরসরাইতে পরিনত হয়েছে।

শিক্ষক শিক্ষিকার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বিব্রত স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা পরিষদ এবং অভিভাবকরা।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৩ জানুয়ারী মিঠানালা ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলমের সাথে একই ইউনিয়নের নাছিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন ছিলো। নাছিমা আক্তার তখন সুফিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন হিসেবে শিক্ষকতা করতেন।

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তার কলেজ জীবনের প্রেমিক জোরারগঞ্জ স্কুলের শিক্ষক সাইফুল আলমের সহযোগীতায় সুফিয়া স্কুল থেকে চলে আসেন খন্ডকালিন শিক্ষিকা হিসেবে জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে। জোরারগঞ্জ স্কুলে যোগদানের পর নাছিমা আক্তার বাসা ভাড়া নেন সাইফুল ইসলামের বাসার পাশ্ববর্তী একটি রুমে।

তখন থেকে সাইফুলের সাথে নাছিমার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

বিষয়টি নাছিমার স্বামী জাহাঙ্গীর জানতে পারলে শুরু হয় টানা পোড়ন। এক পর্যায়ে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর নাছিমা ডিভোর্স লেটার পাঠায় জাহাঙ্গীরের কাছে। ২০১৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহের ভূইয়ার উপস্থিতিতে শালিশী পরিষদে নাছিমা ভিভোর্স লেটার প্রত্যাহার করে নেন। তারা আবার সংসার শুরু করেন। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর ওমান চলে যান।

এই সুযোগে নাছিমা আক্তার আরো ঘনিষ্ট হন প্রেমিক সাইফুল আলমের সাথে। ১ম স্বামীর সাথে সংসার থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার কাজী অফিসে গিয়ে সাইফুল আলমকে বিয়ে করেন।

সাইফুলকে বিয়ে করার বিষয়টি গোপন রাখেন নাছিমা আক্তার। তাদের দুজনের চলাফেরায় জোরারগঞ্জ স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে সন্দেহের উদ্রেক হলে একপর্যায়ে সাইফূল প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনের কাছে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন।

নাছিমার প্রথম স্বামী জাহাঙ্গীরের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নাছিমার সাথে তার সংসার চলছে। প্রতিদিনই তাদের যোগাযোগ হয়। সাইফুলের সাথে তার স্ত্রীর বিয়ের খবর শুনে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, লম্পট সাইফুলের কারণে তার সুখের সংসার তছনছ হয়ে গেছে।

জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে কথা হয় শিক্ষক সাইফুল আলমের সাথে। তিনি বলেন, স্কুলের সহকর্মী শিক্ষকরা তার আর নাছিমার নামে বানোয়াট অপপ্রচার শুরু করলে অসহায় হয়ে পড়ে নাছিমা। তাই অনেকটা করুনা করে নাছিমাকে অপবাদের হাত থেকে রক্ষা করতেই তাকে বিয়ে করেছি। নাছিমার পূর্বের স্বামীর সাথে ডিভোর্স প্রত্যাহার করে পুনরায় সংসারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি জানতেন না। বিয়ের পূর্বে নাছিমার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে চলা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

শিক্ষিকা নাছিমা আক্তার সাইফুল আলমের সাথে ২য় বিয়ের কথা স্বীকার করেন। ১ম স্বামী জাহাঙ্গীরের সাথে ডিভোর্স হয় বলে তিনি দাবী করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাছির উদ্দিন দিদার বলেন, শিক্ষক নাছিমা আর সাইফুলের প্রেম বিয়ের খবরে আমরা খুবই বিব্রত। আমি নাছিমা আক্তারকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছি।

এক সাথে দুইজন স্বামীর সাথে সংসারের বিষয়ে একাধিক মাওলানার সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ১ম স্বামীর সংসারে থেকে ২য় বিয়েটি শরীয়ত সমর্থন করে না। এটি অবৈধ বিয়ে বলে বিবেচিত হবে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

দুই স্বামীর সংসারে নাছিমা!

আপডেট টাইম : ০২:৫২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম500x350_5f795bdb831a6c28fbf53c1c175fa2b3_ড়হ, চট্টগ্রাম : তিনি একজন স্কুল শিক্ষিকা। একসাথে সংসার করছেন দুইজন স্বামীর। ১ম স্বামীকে তালাক দিয়ে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে আবার ফিরে যান প্রথম স্বামীর কাছে।

কৌশলে স্বামীকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়ে তার কলেজ জীবনের প্রেমিক আরেক স্কুল শিক্ষককে বিয়ে করেন। এক সাথে দুই স্বামীর সংসার করা ওই স্কুল শিক্ষিকার নাম নাছিমা আক্তার। তিনি জোরারগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষিকা।

আর ২য় স্বামী একই স্কুলের শিক্ষক ২ সন্তানের জনক সাইফুল আলম। শিক্ষিকা নাছিমার ঘরেও রয়েছে একটি সন্তান। সাইফুল- নাছিমা দম্পতির প্রেম বিয়ের খবর এখন টক অব দ্যা মিরসরাইতে পরিনত হয়েছে।

শিক্ষক শিক্ষিকার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বিব্রত স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা পরিষদ এবং অভিভাবকরা।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৩ জানুয়ারী মিঠানালা ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলমের সাথে একই ইউনিয়নের নাছিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন ছিলো। নাছিমা আক্তার তখন সুফিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন হিসেবে শিক্ষকতা করতেন।

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তার কলেজ জীবনের প্রেমিক জোরারগঞ্জ স্কুলের শিক্ষক সাইফুল আলমের সহযোগীতায় সুফিয়া স্কুল থেকে চলে আসেন খন্ডকালিন শিক্ষিকা হিসেবে জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে। জোরারগঞ্জ স্কুলে যোগদানের পর নাছিমা আক্তার বাসা ভাড়া নেন সাইফুল ইসলামের বাসার পাশ্ববর্তী একটি রুমে।

তখন থেকে সাইফুলের সাথে নাছিমার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

বিষয়টি নাছিমার স্বামী জাহাঙ্গীর জানতে পারলে শুরু হয় টানা পোড়ন। এক পর্যায়ে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর নাছিমা ডিভোর্স লেটার পাঠায় জাহাঙ্গীরের কাছে। ২০১৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহের ভূইয়ার উপস্থিতিতে শালিশী পরিষদে নাছিমা ভিভোর্স লেটার প্রত্যাহার করে নেন। তারা আবার সংসার শুরু করেন। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর ওমান চলে যান।

এই সুযোগে নাছিমা আক্তার আরো ঘনিষ্ট হন প্রেমিক সাইফুল আলমের সাথে। ১ম স্বামীর সাথে সংসার থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার কাজী অফিসে গিয়ে সাইফুল আলমকে বিয়ে করেন।

সাইফুলকে বিয়ে করার বিষয়টি গোপন রাখেন নাছিমা আক্তার। তাদের দুজনের চলাফেরায় জোরারগঞ্জ স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে সন্দেহের উদ্রেক হলে একপর্যায়ে সাইফূল প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনের কাছে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন।

নাছিমার প্রথম স্বামী জাহাঙ্গীরের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নাছিমার সাথে তার সংসার চলছে। প্রতিদিনই তাদের যোগাযোগ হয়। সাইফুলের সাথে তার স্ত্রীর বিয়ের খবর শুনে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, লম্পট সাইফুলের কারণে তার সুখের সংসার তছনছ হয়ে গেছে।

জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে কথা হয় শিক্ষক সাইফুল আলমের সাথে। তিনি বলেন, স্কুলের সহকর্মী শিক্ষকরা তার আর নাছিমার নামে বানোয়াট অপপ্রচার শুরু করলে অসহায় হয়ে পড়ে নাছিমা। তাই অনেকটা করুনা করে নাছিমাকে অপবাদের হাত থেকে রক্ষা করতেই তাকে বিয়ে করেছি। নাছিমার পূর্বের স্বামীর সাথে ডিভোর্স প্রত্যাহার করে পুনরায় সংসারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি জানতেন না। বিয়ের পূর্বে নাছিমার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে চলা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

শিক্ষিকা নাছিমা আক্তার সাইফুল আলমের সাথে ২য় বিয়ের কথা স্বীকার করেন। ১ম স্বামী জাহাঙ্গীরের সাথে ডিভোর্স হয় বলে তিনি দাবী করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাছির উদ্দিন দিদার বলেন, শিক্ষক নাছিমা আর সাইফুলের প্রেম বিয়ের খবরে আমরা খুবই বিব্রত। আমি নাছিমা আক্তারকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছি।

এক সাথে দুইজন স্বামীর সাথে সংসারের বিষয়ে একাধিক মাওলানার সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ১ম স্বামীর সংসারে থেকে ২য় বিয়েটি শরীয়ত সমর্থন করে না। এটি অবৈধ বিয়ে বলে বিবেচিত হবে।