অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo লালমনিরহাটে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আমন চাষিদের বিক্ষোভ Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি দখল: অভিযোগ করায় হয়রানি!

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জমি ও ঘরবাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে মন্ত্রী, সরকার দলীয় সাংসদ এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে৷ এই ‘দখলদারদের’ তালিকাও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ৷

এদিকে, এই তালিকা প্রকাশের জের ধরে প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতা রানা দাসগুপ্ত৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকে প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে৷”

রানা দাসগুপ্ত মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর৷ তাঁর পদমর্যাদা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান৷

দখলের অভিযোগ

গত ৬ আগস্ট ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সারাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, সম্পত্তি দখল এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে, নির্যাতন চালিয়ে উচ্ছেদের ঘটনার চিত্র তুলে ধরে৷ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত ‘দখলদার’ হিসেবে সরকারের মন্ত্রী ও এমপিদের নামও প্রকাশ করেন৷ তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ মাহবুব আরা গিনি, ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম, পিরোজপুরের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল৷

ঠাকুরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলাম বালিয়াডাঙ্গা উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷

ফরিদপুরের ভাজনডাঙার জমিদার সতীশ চন্দ্র গুহ মজুমদারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের তিন একর জমি দখল করে এর ওপর স্থাপিত স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে৷ জমির বর্তমান মালিক অরুণ কুমারের কাছ থেকে বায়নানামায় জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে৷

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ইউনিয়নে জনৈক ব্যবসায়ীর দোকান দখলের অভিযোগ পিরোজপুরের সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল-এর লোকজনের বিরুদ্ধে৷

হুইপ মাহবুব আরা গিনির বিরুদ্ধে গাইবান্ধার রামগঞ্জ মিশন ও আশ্রমের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ এসেছে৷

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের দাসপাড়ার ৮০টি ঋষি পরিবার ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মতিয়ার সরদার ও তার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে আছে বলে অভিযোগ করা হয়৷ তাদের সহায়তার অভিযোগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে৷

লক্ষ্মীপুরে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে সাবেক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ২২ জনের একটি চক্র দালালবাজারের জমিদারবাড়ির ৩৬ একর জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের৷

হয়রানির অভিযোগ

যশোরের অভয়নগরের চাপাতলী গ্রামের প্রবেশপথে পুলিশের সতর্ক অবস্থান৷ গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন এই গ্রামের নিম্নবর্ণের হিন্দু অধ্যুষিত মালোপাড়ায় বসবাসরতদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে৷ আক্রান্তরা জানান, ঘটনাস্থলের মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে থানার অবস্থান হলেও অনেক ফোন করেও সে সময়ে পুলিশ কিংবা কোনো নিরাপত্তাকর্মীর সাড়া মেলেনি৷

রানা দাসগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্বৃত্তরা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, জায়গা-জমি, দেবোত্তর সম্পত্তি, গির্জা ও বিহারের সম্পত্তি জবরদখলের উন্মত্ততায় মেতে উঠেছে৷ এ জবরদখলের সঙ্গে সরকারি দলের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যের নাম বেরিয়ে আসছে৷ কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷”

মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ফরিদপুর জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে৷ সেই কমিটি সংখ্যালঘুদের জমি এবং ঘরবাড়ি উদ্ধার না করে এখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্তকে হয়রানি করা হচ্ছে৷ রানা দাসগুপ্ত অভিযোগ করেন, ‘‘মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য জেলা তদন্ত কমিটি আমাকে নোটিশ করে হাজির হতে বলেছে৷ অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা৷” এছাড়া আর কোথাও কোনো ‘উদ্যোগ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷

রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘‘আমাদের অভিযোগ তদন্ত করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষায় সরকার যদি এগিয়ে না আসে তাহলে দখলদারদের দখল অভিযান বন্ধ হবে না৷ তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে৷”

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আমন চাষিদের বিক্ষোভ

সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি দখল: অভিযোগ করায় হয়রানি!

আপডেট টাইম : ০২:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৫

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জমি ও ঘরবাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে মন্ত্রী, সরকার দলীয় সাংসদ এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে৷ এই ‘দখলদারদের’ তালিকাও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ৷

এদিকে, এই তালিকা প্রকাশের জের ধরে প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতা রানা দাসগুপ্ত৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকে প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে৷”

রানা দাসগুপ্ত মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর৷ তাঁর পদমর্যাদা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান৷

দখলের অভিযোগ

গত ৬ আগস্ট ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সারাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, সম্পত্তি দখল এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে, নির্যাতন চালিয়ে উচ্ছেদের ঘটনার চিত্র তুলে ধরে৷ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত ‘দখলদার’ হিসেবে সরকারের মন্ত্রী ও এমপিদের নামও প্রকাশ করেন৷ তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ মাহবুব আরা গিনি, ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম, পিরোজপুরের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল৷

ঠাকুরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলাম বালিয়াডাঙ্গা উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷

ফরিদপুরের ভাজনডাঙার জমিদার সতীশ চন্দ্র গুহ মজুমদারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের তিন একর জমি দখল করে এর ওপর স্থাপিত স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে৷ জমির বর্তমান মালিক অরুণ কুমারের কাছ থেকে বায়নানামায় জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে৷

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ইউনিয়নে জনৈক ব্যবসায়ীর দোকান দখলের অভিযোগ পিরোজপুরের সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল-এর লোকজনের বিরুদ্ধে৷

হুইপ মাহবুব আরা গিনির বিরুদ্ধে গাইবান্ধার রামগঞ্জ মিশন ও আশ্রমের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ এসেছে৷

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের দাসপাড়ার ৮০টি ঋষি পরিবার ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মতিয়ার সরদার ও তার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে আছে বলে অভিযোগ করা হয়৷ তাদের সহায়তার অভিযোগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে৷

লক্ষ্মীপুরে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে সাবেক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ২২ জনের একটি চক্র দালালবাজারের জমিদারবাড়ির ৩৬ একর জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের৷

হয়রানির অভিযোগ

যশোরের অভয়নগরের চাপাতলী গ্রামের প্রবেশপথে পুলিশের সতর্ক অবস্থান৷ গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন এই গ্রামের নিম্নবর্ণের হিন্দু অধ্যুষিত মালোপাড়ায় বসবাসরতদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে৷ আক্রান্তরা জানান, ঘটনাস্থলের মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে থানার অবস্থান হলেও অনেক ফোন করেও সে সময়ে পুলিশ কিংবা কোনো নিরাপত্তাকর্মীর সাড়া মেলেনি৷

রানা দাসগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্বৃত্তরা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, জায়গা-জমি, দেবোত্তর সম্পত্তি, গির্জা ও বিহারের সম্পত্তি জবরদখলের উন্মত্ততায় মেতে উঠেছে৷ এ জবরদখলের সঙ্গে সরকারি দলের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যের নাম বেরিয়ে আসছে৷ কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷”

মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ফরিদপুর জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে৷ সেই কমিটি সংখ্যালঘুদের জমি এবং ঘরবাড়ি উদ্ধার না করে এখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্তকে হয়রানি করা হচ্ছে৷ রানা দাসগুপ্ত অভিযোগ করেন, ‘‘মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য জেলা তদন্ত কমিটি আমাকে নোটিশ করে হাজির হতে বলেছে৷ অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা৷” এছাড়া আর কোথাও কোনো ‘উদ্যোগ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷

রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘‘আমাদের অভিযোগ তদন্ত করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষায় সরকার যদি এগিয়ে না আসে তাহলে দখলদারদের দখল অভিযান বন্ধ হবে না৷ তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে৷”