অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

চামচ, কাঁটা চামচ ও ছুরির ইতিহাস

ডেস্ক: পাশ্চাত্য দেশগুলোর খাবার টেবিলেগুলোতে চামচ, কাঁটা চামচ, ছুরি- এগুলোর গুরুত্ব অন্যরকম। আমরা বাঙালিরা অবশ্য খাবার খাওয়ার জন্য হাত ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তারপরও ভালো মানের হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টে মাঝেমধ্যেই চামচ, কাঁট চামচ ও ছুরি দিয়ে খাবার খেতে হয় অনেককেই। এই তিনটি জিনিসের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচত। নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজেই এগুলোর প্রয়োজন অত্যাবশকীয়। এবার চলুন জানার চেষ্টা করি কীভাবে শুরু হয়েছিল চামচ, কাঁটা চামচ ও ছুরির ব্যবহার?

চামচ : অনেক আগে থেকেই খাবার তোলার জন্য ব্যবহার হতো চামচ। যদিও তখনকার চামচগুলো ছিল ঝিনুক আর পাথরের তৈরি। হাতল লাগানো চামচের প্রথম ব্যবহার হয় ১০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, মিশরে। তখন শুধুমাত্র ধর্মীয় কাজকর্মে চামচ ব্যবহার করা হতো। এগুলো তৈরি হতো হাতির দাঁত, কাঠ, চুমকি পাথর ও স্লেট পাথর দিয়ে।

চামচগুলোর ওপরে নানারকম নকশা আঁকা হতো। করা হত নানান অলঙ্করণ। প্রথমদিকে মিশরীয়রা খাওয়া দাওয়ায় চামচের ব্যবহার করতো না। তাদের কাছে চামচ ছিল বিলাসিতা ও সম্পদ প্রদর্শণের বিষয়। সাধারণদের মধ্যে যারা এটা ব্যবহার করত তারা খরচ কম হওয়ার জন্য কাঠের চামচ ব্যবহার করতো। তবে রোমান সাম্রাজ্যের ধনী ব্যক্তিরা ব্রোঞ্জ ও রূপার তৈরি চামচ ব্যবহার করতো।

১২৫৯ সালে ইংল্যান্ডে চামচের ব্যবহার শুরু হয়। বৃটিশ রাজাদের মধ্যে চামচ এর জনপ্রিয়তা ছিল অনেক। যারা রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতেন তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে চামচ দিয়ে সংবর্ধিত করা হতো। টিউডর ও স্টুয়ার্ড যুগে চামচ আরো বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে। তখন বাচ্চাদের নামকরণ অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে ধর্মযাজকে চামচ দেওয়ার রীতি ছিল। ধনীরা ১২টি চামচের একটি সেট দিত। পরবর্তীতে ১৩টি চামচ দেওয়া হতো- যার একটিকে বলা হতো প্রধান চামচ বা মাস্টার স্পুন।

ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উপহার হিসেবে চামচ দেওয়ার রীতি চালু হয়। ধনী ব্যক্তিরা স্বর্ণ বা রূপার তৈরি চামচ আর মধ্যবিত্তরা কপার এর তৈরি চামচ উপহার দিত।

কাঁটা চামচ : প্রাচীণকাল থেকেই খাবার তোলার সুবিধার্থে কাঁটার ব্যবহার ছিল। তবে কাঁটা ওয়ালা চামচ বা কাঁটা চামচের ব্যবহার প্রথম শুরু হয় প্রাচীন মিশরে। কুইজিয়া (Qijia) সংস্কৃতিতে কাঁটা চামচ ব্যবহার হতো। এর পরবর্তীতে প্রায় কয়েক হাজার বছর পর পাশ্চাত্যে কাঁটা চামচ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

জানা যায়, একাদশ শতাব্দীতে বায়জান্টাইন রাজকুমারী থিওডোরা আন্না দৌকাইনা (Theodora Anna Doukaina) এর বিয়ের যৌতুক হিসেবে স্বর্ণের তৈরি কাঁটা চামচ নিয়ে এসেছিলেন বর। কিন্তু সেই দেশের জনগণ বিষয়টিকে ভালোভাবে নিতে পারেনি। ঈশ্বরের দেওয়া হাত ব্যবহার না করে চামচ ব্যবহার করে খাওয়াকে ঈশ্বরের অপমান হিসেবে নিয়েছিল তারা। মূলত ১৬ শতাব্দীর দিকে কাঁটা চামচ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

ছুরি : প্রাগ-ঐতিহাসিক যুগ থেকেই শিকার ও খাবার কাটার ক্ষেত্রে ছুরির ব্যবহার হত। তবে ফ্রান্সের বোরবোন সাম্রাজ্যের আমলে খাবার টেবিলে ছুরির ব্যবহার হতো। তবে সেগুলো খাওয়ার কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু বেশি ধারালো ছিল। ১৬৬৯ সালে চতুর্দশ লুইস খাবার টেবিলে ধারালো ছুরির ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন।

এর বদলে তিনি অপেক্ষকৃত কম ধারালো ও প্রশস্ত ছুরি ব্যবহারের নির্দেশ দেন। সেই থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রীতিটি ছড়িয়ে পরে। তবে স্টেইনলেস স্টীল এর ছুরির ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছে সেটা জানা না গেলেও তা যে বিংশ শতাব্দীর আগে শুরু হয়েছে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

চামচ, কাঁটা চামচ ও ছুরির ইতিহাস

আপডেট টাইম : ০৩:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৬

ডেস্ক: পাশ্চাত্য দেশগুলোর খাবার টেবিলেগুলোতে চামচ, কাঁটা চামচ, ছুরি- এগুলোর গুরুত্ব অন্যরকম। আমরা বাঙালিরা অবশ্য খাবার খাওয়ার জন্য হাত ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তারপরও ভালো মানের হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টে মাঝেমধ্যেই চামচ, কাঁট চামচ ও ছুরি দিয়ে খাবার খেতে হয় অনেককেই। এই তিনটি জিনিসের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচত। নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজেই এগুলোর প্রয়োজন অত্যাবশকীয়। এবার চলুন জানার চেষ্টা করি কীভাবে শুরু হয়েছিল চামচ, কাঁটা চামচ ও ছুরির ব্যবহার?

চামচ : অনেক আগে থেকেই খাবার তোলার জন্য ব্যবহার হতো চামচ। যদিও তখনকার চামচগুলো ছিল ঝিনুক আর পাথরের তৈরি। হাতল লাগানো চামচের প্রথম ব্যবহার হয় ১০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, মিশরে। তখন শুধুমাত্র ধর্মীয় কাজকর্মে চামচ ব্যবহার করা হতো। এগুলো তৈরি হতো হাতির দাঁত, কাঠ, চুমকি পাথর ও স্লেট পাথর দিয়ে।

চামচগুলোর ওপরে নানারকম নকশা আঁকা হতো। করা হত নানান অলঙ্করণ। প্রথমদিকে মিশরীয়রা খাওয়া দাওয়ায় চামচের ব্যবহার করতো না। তাদের কাছে চামচ ছিল বিলাসিতা ও সম্পদ প্রদর্শণের বিষয়। সাধারণদের মধ্যে যারা এটা ব্যবহার করত তারা খরচ কম হওয়ার জন্য কাঠের চামচ ব্যবহার করতো। তবে রোমান সাম্রাজ্যের ধনী ব্যক্তিরা ব্রোঞ্জ ও রূপার তৈরি চামচ ব্যবহার করতো।

১২৫৯ সালে ইংল্যান্ডে চামচের ব্যবহার শুরু হয়। বৃটিশ রাজাদের মধ্যে চামচ এর জনপ্রিয়তা ছিল অনেক। যারা রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতেন তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে চামচ দিয়ে সংবর্ধিত করা হতো। টিউডর ও স্টুয়ার্ড যুগে চামচ আরো বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে। তখন বাচ্চাদের নামকরণ অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে ধর্মযাজকে চামচ দেওয়ার রীতি ছিল। ধনীরা ১২টি চামচের একটি সেট দিত। পরবর্তীতে ১৩টি চামচ দেওয়া হতো- যার একটিকে বলা হতো প্রধান চামচ বা মাস্টার স্পুন।

ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উপহার হিসেবে চামচ দেওয়ার রীতি চালু হয়। ধনী ব্যক্তিরা স্বর্ণ বা রূপার তৈরি চামচ আর মধ্যবিত্তরা কপার এর তৈরি চামচ উপহার দিত।

কাঁটা চামচ : প্রাচীণকাল থেকেই খাবার তোলার সুবিধার্থে কাঁটার ব্যবহার ছিল। তবে কাঁটা ওয়ালা চামচ বা কাঁটা চামচের ব্যবহার প্রথম শুরু হয় প্রাচীন মিশরে। কুইজিয়া (Qijia) সংস্কৃতিতে কাঁটা চামচ ব্যবহার হতো। এর পরবর্তীতে প্রায় কয়েক হাজার বছর পর পাশ্চাত্যে কাঁটা চামচ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

জানা যায়, একাদশ শতাব্দীতে বায়জান্টাইন রাজকুমারী থিওডোরা আন্না দৌকাইনা (Theodora Anna Doukaina) এর বিয়ের যৌতুক হিসেবে স্বর্ণের তৈরি কাঁটা চামচ নিয়ে এসেছিলেন বর। কিন্তু সেই দেশের জনগণ বিষয়টিকে ভালোভাবে নিতে পারেনি। ঈশ্বরের দেওয়া হাত ব্যবহার না করে চামচ ব্যবহার করে খাওয়াকে ঈশ্বরের অপমান হিসেবে নিয়েছিল তারা। মূলত ১৬ শতাব্দীর দিকে কাঁটা চামচ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

ছুরি : প্রাগ-ঐতিহাসিক যুগ থেকেই শিকার ও খাবার কাটার ক্ষেত্রে ছুরির ব্যবহার হত। তবে ফ্রান্সের বোরবোন সাম্রাজ্যের আমলে খাবার টেবিলে ছুরির ব্যবহার হতো। তবে সেগুলো খাওয়ার কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু বেশি ধারালো ছিল। ১৬৬৯ সালে চতুর্দশ লুইস খাবার টেবিলে ধারালো ছুরির ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন।

এর বদলে তিনি অপেক্ষকৃত কম ধারালো ও প্রশস্ত ছুরি ব্যবহারের নির্দেশ দেন। সেই থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রীতিটি ছড়িয়ে পরে। তবে স্টেইনলেস স্টীল এর ছুরির ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছে সেটা জানা না গেলেও তা যে বিংশ শতাব্দীর আগে শুরু হয়েছে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়।