পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

ঘুষের টাকায় চলে পিআইওর পিয়ন!

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসে সরকারিভাবে কোনো এমএলএসএস (পিয়ন) পদ না থাকলেও ঘুষের টাকায় কাজ করছে চারজন পিয়ন ।

অফিস সূত্রে জানা যায়,সরকারি নিয়ম অনুযায়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসে পিআইও (মো. আব্দুল হাই), কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারী একজন (খালেকুজ্জামান) রয়েছেন। সরকারি বিধি মতে কোনো পিয়ন নেই।

কিন্তু নিয়মানুযায়ি কোনো পিয়ন না থাকলেও এখানে পিয়ন হিসেবে কাজ করছে চারজন- সহিদুল ইসলাম, বিপ্লব মিয়া, ওবায়দুল হক ও জোবেদ আলী। অভিযোগ রয়েছে এই চারজন পিয়নের বেতন ভাতাসহ আনুতোষিক খরচ আসে অফিসে পার পাওয়া প্রকল্পগুলোর ঘুষের টাকায়। প্রকল্প চেয়ারম্যানরা ঘুষ না দিলে পিয়নদের সুপারিশ ছাড়া প্রকল্প পার করেন না অফিস সহকারী, কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, প্রত্যেক প্রকল্পের জন্য কমপক্ষে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয় অফিসে। পিয়নদেরকে দিতে হয় অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এটা অঘোষিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, অবৈধ্য টাকায় অবৈধ্য লোককে পোষা কতটুকু বৈধ তা তিনি জানেন না।

সাতদিন থেকে অফিসে ঘুরে ক্লান্ত হয়েছেন ১,২ ও ৩ নং ওর্য়াডের মহিলা সদস্য আনঞ্জু বেগম। তার স্বামী দুলাল জানান,তিনি নিজে ৪০ দিনের কর্মসৃজনশীল প্রকল্পের প্রায় দুই হাজার টাকার একটি বিলের জন্য অফিসের অফিস সহকারী ও পিআইও ঘুরাচ্ছেন কিন্তু বিল পাশ করছেন না, ফলে ঈদের আগে বাজার করাসহ ঈদের আনন্দ মাটি হতে বসেছে। অফিস ছেড়ে অফিস সহকারি তার মেসে ঘুমান।

সত্যতাও পাওয়া যায় সোমবার অফিসে গিয়ে। পিআইও, অফিস সহকারী কেউ নেই। সহিদুল নামের একজন পিয়ন জানান, পিআইও স্যার কুড়িগ্রাম গেছে। অফিস সহকারী স্যার মেসে গেছে আসতে আসতে চারটা বাজবে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজের ভীড় থাকে তো।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ঘুষের টাকায় চলে পিআইওর পিয়ন!

আপডেট টাইম : ০৩:১৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০১৪

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসে সরকারিভাবে কোনো এমএলএসএস (পিয়ন) পদ না থাকলেও ঘুষের টাকায় কাজ করছে চারজন পিয়ন ।

অফিস সূত্রে জানা যায়,সরকারি নিয়ম অনুযায়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসে পিআইও (মো. আব্দুল হাই), কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারী একজন (খালেকুজ্জামান) রয়েছেন। সরকারি বিধি মতে কোনো পিয়ন নেই।

কিন্তু নিয়মানুযায়ি কোনো পিয়ন না থাকলেও এখানে পিয়ন হিসেবে কাজ করছে চারজন- সহিদুল ইসলাম, বিপ্লব মিয়া, ওবায়দুল হক ও জোবেদ আলী। অভিযোগ রয়েছে এই চারজন পিয়নের বেতন ভাতাসহ আনুতোষিক খরচ আসে অফিসে পার পাওয়া প্রকল্পগুলোর ঘুষের টাকায়। প্রকল্প চেয়ারম্যানরা ঘুষ না দিলে পিয়নদের সুপারিশ ছাড়া প্রকল্প পার করেন না অফিস সহকারী, কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, প্রত্যেক প্রকল্পের জন্য কমপক্ষে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয় অফিসে। পিয়নদেরকে দিতে হয় অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এটা অঘোষিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, অবৈধ্য টাকায় অবৈধ্য লোককে পোষা কতটুকু বৈধ তা তিনি জানেন না।

সাতদিন থেকে অফিসে ঘুরে ক্লান্ত হয়েছেন ১,২ ও ৩ নং ওর্য়াডের মহিলা সদস্য আনঞ্জু বেগম। তার স্বামী দুলাল জানান,তিনি নিজে ৪০ দিনের কর্মসৃজনশীল প্রকল্পের প্রায় দুই হাজার টাকার একটি বিলের জন্য অফিসের অফিস সহকারী ও পিআইও ঘুরাচ্ছেন কিন্তু বিল পাশ করছেন না, ফলে ঈদের আগে বাজার করাসহ ঈদের আনন্দ মাটি হতে বসেছে। অফিস ছেড়ে অফিস সহকারি তার মেসে ঘুমান।

সত্যতাও পাওয়া যায় সোমবার অফিসে গিয়ে। পিআইও, অফিস সহকারী কেউ নেই। সহিদুল নামের একজন পিয়ন জানান, পিআইও স্যার কুড়িগ্রাম গেছে। অফিস সহকারী স্যার মেসে গেছে আসতে আসতে চারটা বাজবে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজের ভীড় থাকে তো।