অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

সুনামগঞ্জের ঝাউয়ার হাওরে জলাবদ্ধতার শিকার বোরো জমি

সুনামগঞ্জ, : সুনামগঞ্জের ঝাউয়ার হাওরের পানি নিষ্কাষনে প্রভাবশালীদের বাঁধার কারণে দুই হাজার একর জমিতে বোরো আবাদ করতে পারছেন না দেড় শতাধিক কৃষক।

কৃষরা জানান, প্রতিবছর অগ্রাহন মাসে ঝাউয়া বিলের পানি নিষ্কাষন করে তারা জমিতে বোরো আবাদ করেন। চলতি বছর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠির বাধার কারণে পৌষ মাসেও বিলের পানি ছাড়তে পারছেন না। ফলে হাছননগর, কালীপুর, গনিপুর, ওয়েজখালী, তেঘরিয়া বড়পাড়াসহ ১০টি গ্রামের কৃষক জমি চাষাবাদ করতে পারছেন না।

শহরের হাছননগর গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, বিলের পানি না ছাড়ায় তার ৭ কেয়ার জমি এখনো পানির নীচে ডুবে রয়েছে। কৃষকরা পানি ছাড়ার জন্য বারবার তাগদা দিলেও প্রভাবশালীদের বাঁধার কারণে ইজারাদার পানি ছাড়তে পারছেনা। কুড়িয়ারপাড় এলাকার শাহজাহার ও আলিম মিয়া বলেন, ঝাউয়ার হাওরের তাদের ৬০ কেয়ার বোরো জমি রয়েছে। গেল বার অগ্রাহন মাসে বিলের পারি ছাড়ায় পৌষ মাসে জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এ বছর পানি না ছাড়ায় এখন পর্যান্ত এক কেয়ার জমিতে ধান রোপন করতে পারছেন না।

তেঘরিয়া গ্রামের মনির ও ঝনর মিয়া বলেন, প্রতিবছর ঝাউয়ার হাওরের ফসল উৎপাদন করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এবছর এখনো প্রভাবশালীদের বাঁধার কারণে হাওরের পানি নিষ্কাশন করতে না পারায় জমিগুলো বিলের পানিতে ডুবে রয়েছে।

লম্বাহাটি গ্রামের মাহতাব আলী বলেন, গুটি কয়েক মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য শতাধিক কৃষকের জমি আজ পানিতে নিমজি¦ত। এটা হতে পারে না। এজন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মুহাম্মদ জুয়েল বলেন, ঝাউয়ার হাওরে পানি নিষ্কাষণ না হওয়ায় এলাকার শতাধিক কৃষক জমি চাষাবাদ করতে পারছেন না। তার নিজেরও ১৮ কেয়ার জমি এখানো পানির নীচে রয়েছে। ফলে এসব জমিতে বোরো আবাদ করতে বিলম্ব হবে।

বিলের ইজারাদার উত্তর আরপিন নগর স্টার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিডেটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ লেছনূর মিয়া বলেন, তারা স্থানীয় কৃষকের বোরো আবাদে সুবিধার জন্য অগ্রাহণ মাসেই পানি ছেড়ে দেন কিন্তু এবছর প্রভাবশালীদের বাঁধার কারণে পৌষ মাসেও পানি ছাড়তে পারছেন না।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম ইসরাত জাহান বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাষনের জন্য লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

সুনামগঞ্জের ঝাউয়ার হাওরে জলাবদ্ধতার শিকার বোরো জমি

আপডেট টাইম : ০৬:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

সুনামগঞ্জ, : সুনামগঞ্জের ঝাউয়ার হাওরের পানি নিষ্কাষনে প্রভাবশালীদের বাঁধার কারণে দুই হাজার একর জমিতে বোরো আবাদ করতে পারছেন না দেড় শতাধিক কৃষক।

কৃষরা জানান, প্রতিবছর অগ্রাহন মাসে ঝাউয়া বিলের পানি নিষ্কাষন করে তারা জমিতে বোরো আবাদ করেন। চলতি বছর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠির বাধার কারণে পৌষ মাসেও বিলের পানি ছাড়তে পারছেন না। ফলে হাছননগর, কালীপুর, গনিপুর, ওয়েজখালী, তেঘরিয়া বড়পাড়াসহ ১০টি গ্রামের কৃষক জমি চাষাবাদ করতে পারছেন না।

শহরের হাছননগর গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, বিলের পানি না ছাড়ায় তার ৭ কেয়ার জমি এখনো পানির নীচে ডুবে রয়েছে। কৃষকরা পানি ছাড়ার জন্য বারবার তাগদা দিলেও প্রভাবশালীদের বাঁধার কারণে ইজারাদার পানি ছাড়তে পারছেনা। কুড়িয়ারপাড় এলাকার শাহজাহার ও আলিম মিয়া বলেন, ঝাউয়ার হাওরের তাদের ৬০ কেয়ার বোরো জমি রয়েছে। গেল বার অগ্রাহন মাসে বিলের পারি ছাড়ায় পৌষ মাসে জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এ বছর পানি না ছাড়ায় এখন পর্যান্ত এক কেয়ার জমিতে ধান রোপন করতে পারছেন না।

তেঘরিয়া গ্রামের মনির ও ঝনর মিয়া বলেন, প্রতিবছর ঝাউয়ার হাওরের ফসল উৎপাদন করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এবছর এখনো প্রভাবশালীদের বাঁধার কারণে হাওরের পানি নিষ্কাশন করতে না পারায় জমিগুলো বিলের পানিতে ডুবে রয়েছে।

লম্বাহাটি গ্রামের মাহতাব আলী বলেন, গুটি কয়েক মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য শতাধিক কৃষকের জমি আজ পানিতে নিমজি¦ত। এটা হতে পারে না। এজন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মুহাম্মদ জুয়েল বলেন, ঝাউয়ার হাওরে পানি নিষ্কাষণ না হওয়ায় এলাকার শতাধিক কৃষক জমি চাষাবাদ করতে পারছেন না। তার নিজেরও ১৮ কেয়ার জমি এখানো পানির নীচে রয়েছে। ফলে এসব জমিতে বোরো আবাদ করতে বিলম্ব হবে।

বিলের ইজারাদার উত্তর আরপিন নগর স্টার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিডেটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ লেছনূর মিয়া বলেন, তারা স্থানীয় কৃষকের বোরো আবাদে সুবিধার জন্য অগ্রাহণ মাসেই পানি ছেড়ে দেন কিন্তু এবছর প্রভাবশালীদের বাঁধার কারণে পৌষ মাসেও পানি ছাড়তে পারছেন না।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম ইসরাত জাহান বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাষনের জন্য লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।