পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

পাইলস এর চিকিৎসা

ডা. একেএম ফজলুল হক সিদ্দিকী, ৩০ ডিসেম্বর, :

পাইলস কি?

পাইলস বা অর্শ একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। পঞ্চাশ বছর বয়সী লোকদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই মলেদ্বারে খোসপাঁচড়ার মত চুলকানো, অস্বস্তি এবং রক্তপাত হয় যা পাইলসের প্রাথমিক উপস্থিতি বুঝায়। পাইলস হলো পায়ুপথে এবং মলদ্বারের নিচে অবস্থিত প্রসারিত এবং প্রদাহযুক্ত ধমনী, মলত্যাগের সময় কষা হলে অথবা গর্ভকালীন সময়ে এই সমস্ত ধমনীর উপর চাবেড়ে গেলে পাইলসের সমস্যা দেখা দেয়। পাইলস অতি পরিচিত একটি রোগ। এটাকে বলা হয় সভ্যতার রোগ। অর্থাৎ এই রোগটি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শহরে জীবনযাপনে অভ্যস্ত লোকদের মাঝেই বেশি দেখা যায়। তার প্রধান কারণ তাদের জীবন–যাপন পদ্ধতি যেমনণ্ড কম পানি, কম শাক–সবজি, বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মতো মলত্যাগ না করা।

উপরের উল্লেখিত জীবন–যাপনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায় এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত প্রেসার দিতে হয়। ফলে মলদ্বারের চারদিকে রক্তনালী ও মাংসপেশী ফুলে গিয়ে পাইলস সৃষ্টি করে। অর্শ বা পাইলস হলে সাধারণতঃ যেসব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয় : মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত, পায়ুপথ চুলকানো অথবা অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়া ব্যথা, পায়ুপথ থেকে বাইরের দিকে ফোলা ও ব্যথা লাগা, পায়ুপথের মুখে চাকা অনুভব করা ও ব্যথা লাগা।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

উপরোক্ত লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ামাত্র যেমনণ্ড পায়খানার রঙ কালো বা লালচে হলে এবং পায়খানার সাথে রক্ত গেলে এবং পায়ুপথের মুখে পায়খানার সময় বা পরে চাকা অনুভব করলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

কি ধরনের পরীক্ষা–নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে?

আঙ্গুল দিয়ে পায়ুপথের পরীক্ষা বা রেক্টাল এক্সামিন (Rectal Examine) করা হয়। এছাড়া সম্পূর্ণ মলনালীর পরীক্ষা করার জন্য পকালোনোস্কোপী (Colonoscopy) করতে হয়। পাইলসের নানা রকম চিকিৎসা আছে। যেমন : ওষুধ ব্যবহার, মিনিমাল ইনভেসিভ চিকিৎসা (Minimal Invasive Procedures), শল্য চিকিৎসা, জীবন–যাপন পদ্ধতি, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে নিয়মিত মলম বা ক্রিম লাগাতে হবে, পায়ুপথ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, কুসুম গরম পানিতে দিনে কয়েকবার বসতে হবে (Hip Bath), ফোলা কমানোর জন্য আক্রান্ত স্থানে বরফ ঘষতে হবে, ব্যথা কমানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

পাইলস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, ফলমূল এবং শাক–সবজি বেশি–বেশি করে খেতে হবে, প্রতিদিন ৬–৮ গ্লাস পানি এবং তরল জাতীয় দ্রব্য পান করতে হবে, মলত্যাগের সময় কষা হলে বেশি চাপ্রয়োগ করা যাবে না, পায়খানা চেরোখা যাবে না, ব্যায়াম করলে তা পায়খানার কষাভাব দূর করতে সাহায্য করবে, অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা থাকা যাবে না।

কি কি কারণে পাইলস হয়?

নিচের কারণগুলোর জন্য পাইলসের সমস্যা দেখা দিতে পারে : মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ্রয়োগ করা, পায়খানায় বেশি সময় ধরে বসে থাকা, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া অথবা আমাশয়, পায়খানা কষার সমস্যা দেখা দিলে, অস্বাভাবিক রকম মোটা হলে, গর্ভবতী অবস্থায় ইত্যাদি।

অর্শ বা পাইলস হলে কি ধরণের জটিলতা দেখা দিতে পারে?

অর্শ বা পাইলস হলে বিভিন্ন রকম জটিলতা যেমন : দীর্ঘস্থায়ী রক্ত ক্ষয়ের জন্য রক্তশূণ্যতা হতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী আলসার, অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া, এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

শল্য চিকিৎসা ছাড়া পাইলসের আর কোন চিকিৎসা আছে কি?

শল্য চিকিৎসা ছাড়া পাইলসের আরো যেসব চিকিৎসা আছে সেগুলো হলোণ্ড রাবার ব্যান্ড লাইগেশন (Rubber band ligation), ইনজেকশন (Sclero therapy) কোয়াগুলেশন (ইনফ্রারেড, লেজার, বাইপোলার) Coagulation (infrared, laser or bipolar)। এছাড়াও বর্তমানে সারা বিশ্বে হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক পদ্বতিতে এ রোগের সফল চিকিৎংসা হয়ে থাকে।
(সংগৃহীত)

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

পাইলস এর চিকিৎসা

আপডেট টাইম : ০৬:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

ডা. একেএম ফজলুল হক সিদ্দিকী, ৩০ ডিসেম্বর, :

পাইলস কি?

পাইলস বা অর্শ একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। পঞ্চাশ বছর বয়সী লোকদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই মলেদ্বারে খোসপাঁচড়ার মত চুলকানো, অস্বস্তি এবং রক্তপাত হয় যা পাইলসের প্রাথমিক উপস্থিতি বুঝায়। পাইলস হলো পায়ুপথে এবং মলদ্বারের নিচে অবস্থিত প্রসারিত এবং প্রদাহযুক্ত ধমনী, মলত্যাগের সময় কষা হলে অথবা গর্ভকালীন সময়ে এই সমস্ত ধমনীর উপর চাবেড়ে গেলে পাইলসের সমস্যা দেখা দেয়। পাইলস অতি পরিচিত একটি রোগ। এটাকে বলা হয় সভ্যতার রোগ। অর্থাৎ এই রোগটি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শহরে জীবনযাপনে অভ্যস্ত লোকদের মাঝেই বেশি দেখা যায়। তার প্রধান কারণ তাদের জীবন–যাপন পদ্ধতি যেমনণ্ড কম পানি, কম শাক–সবজি, বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মতো মলত্যাগ না করা।

উপরের উল্লেখিত জীবন–যাপনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায় এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত প্রেসার দিতে হয়। ফলে মলদ্বারের চারদিকে রক্তনালী ও মাংসপেশী ফুলে গিয়ে পাইলস সৃষ্টি করে। অর্শ বা পাইলস হলে সাধারণতঃ যেসব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয় : মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত, পায়ুপথ চুলকানো অথবা অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়া ব্যথা, পায়ুপথ থেকে বাইরের দিকে ফোলা ও ব্যথা লাগা, পায়ুপথের মুখে চাকা অনুভব করা ও ব্যথা লাগা।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

উপরোক্ত লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ামাত্র যেমনণ্ড পায়খানার রঙ কালো বা লালচে হলে এবং পায়খানার সাথে রক্ত গেলে এবং পায়ুপথের মুখে পায়খানার সময় বা পরে চাকা অনুভব করলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

কি ধরনের পরীক্ষা–নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে?

আঙ্গুল দিয়ে পায়ুপথের পরীক্ষা বা রেক্টাল এক্সামিন (Rectal Examine) করা হয়। এছাড়া সম্পূর্ণ মলনালীর পরীক্ষা করার জন্য পকালোনোস্কোপী (Colonoscopy) করতে হয়। পাইলসের নানা রকম চিকিৎসা আছে। যেমন : ওষুধ ব্যবহার, মিনিমাল ইনভেসিভ চিকিৎসা (Minimal Invasive Procedures), শল্য চিকিৎসা, জীবন–যাপন পদ্ধতি, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে নিয়মিত মলম বা ক্রিম লাগাতে হবে, পায়ুপথ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, কুসুম গরম পানিতে দিনে কয়েকবার বসতে হবে (Hip Bath), ফোলা কমানোর জন্য আক্রান্ত স্থানে বরফ ঘষতে হবে, ব্যথা কমানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

পাইলস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, ফলমূল এবং শাক–সবজি বেশি–বেশি করে খেতে হবে, প্রতিদিন ৬–৮ গ্লাস পানি এবং তরল জাতীয় দ্রব্য পান করতে হবে, মলত্যাগের সময় কষা হলে বেশি চাপ্রয়োগ করা যাবে না, পায়খানা চেরোখা যাবে না, ব্যায়াম করলে তা পায়খানার কষাভাব দূর করতে সাহায্য করবে, অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা থাকা যাবে না।

কি কি কারণে পাইলস হয়?

নিচের কারণগুলোর জন্য পাইলসের সমস্যা দেখা দিতে পারে : মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ্রয়োগ করা, পায়খানায় বেশি সময় ধরে বসে থাকা, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া অথবা আমাশয়, পায়খানা কষার সমস্যা দেখা দিলে, অস্বাভাবিক রকম মোটা হলে, গর্ভবতী অবস্থায় ইত্যাদি।

অর্শ বা পাইলস হলে কি ধরণের জটিলতা দেখা দিতে পারে?

অর্শ বা পাইলস হলে বিভিন্ন রকম জটিলতা যেমন : দীর্ঘস্থায়ী রক্ত ক্ষয়ের জন্য রক্তশূণ্যতা হতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী আলসার, অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া, এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

শল্য চিকিৎসা ছাড়া পাইলসের আর কোন চিকিৎসা আছে কি?

শল্য চিকিৎসা ছাড়া পাইলসের আরো যেসব চিকিৎসা আছে সেগুলো হলোণ্ড রাবার ব্যান্ড লাইগেশন (Rubber band ligation), ইনজেকশন (Sclero therapy) কোয়াগুলেশন (ইনফ্রারেড, লেজার, বাইপোলার) Coagulation (infrared, laser or bipolar)। এছাড়াও বর্তমানে সারা বিশ্বে হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক পদ্বতিতে এ রোগের সফল চিকিৎংসা হয়ে থাকে।
(সংগৃহীত)