অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বিআরটিএ’র পাবলিক সার্ভিস ডেস্কে বেনামী চিঠির পাহাড়, ব্ল্যাকমেইলের শিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা Logo লালমনিরহাট শুন্যরেখায় বিএসএফের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ফেরত দিল বিজিবি Logo হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের সদস্যের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি, অস্ত্র-ওয়াকিটকি উদ্ধার Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৭ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে আটক Logo গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি আবদুস শহিদ: স্মরণসভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ Logo জরিমানা ছাড়াই মূল কর ও ফি জমা দিয়ে মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময় দিলো বিআরটিএ Logo লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ক্লিনিক পরিচালক গ্রেপ্তার Logo রেজিস্ট্রেশন সেক্টরের ‘ডন’ মাইকেল ও স্ত্রী জান্নাত নীলার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ Logo মিরপুর বিআরটিএতে দালাল চক্রের ২ সদস্য আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ দিনের কারাদণ্ড Logo লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, বাবা-মায়ের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

সুন্দরগঞ্জে বেড়েই চলেছে চুলকানি জাতীয় চর্মরোগ।

বিপুল ইসলাম আকাশ,সুন্দরগঞ্জ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অন্যান্য রোগের তুলনায় চুলকানি জাতীয় চর্মরোগ বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে এ রোগে।

এ রোগে পুরুষের তুলনায় নারীসহ শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। কারো কারো ক্ষেত্রে দামি অ্যান্টিবায়োটিক না খেলে কোনোমতই পিছু ছাড়ে না এই চর্মরোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব চর্মরোগের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকার ফলে চিকিৎসকরা অনেক সময় শুধু ব্যবস্থাপত্র করে দিয়ে রোগী পাঠিয়ে দেন।

সচেতন মহল ও চিকিৎসকরা সাম্প্রতিক বন্যার দূষিত পানি, পরিবেশ দূষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও ত্বকের যত্নের অভাবকেই দায়ী করছেন। তবে শিশু ও নারীদের আক্রান্তের সংখ্যায় উদ্বিগ্ন তারা। এ থেকে উদ্ধারে পারিবারিক সচেতনতাই প্রথম প্রতিরোধ বলে মনে করছেন অনেক চিকিৎসক।

সরেজমিন দেখা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে চুলকানি ও চর্মরোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেশি। সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে, কেউ এসেছেন পুরো শরীরে ঘামাচির মতো ছোট ছোট ফুসকুড়ির সাথে তীব্র চুলকানি নিয়ে। কেউ এসেছেন খোসপাঁচড়া নিয়ে আবার কেউ এসেছেন স্ক্যাবিস নিয়ে। কেউ কেউ এসেছেন চুলকানি নিয়ে। এছাড়া চর্মরোগের নানা লক্ষণ নিয়ে এসেছেন রোগীরা। এ চিত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালেও।

সরেজমিন উপজেলার পৌরসভা সহ ১৫টি ইউনিয়নে এ রোগে আক্রান্ত শত শত রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়। অনেক দাম দিয়ে ওষুধ সেবনের পরও তেমন কাজে আসছে না বলে দাবি তাদের।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামে গিয়ে কথা হয় গৃহবধূ খেলন রানীর সঙ্গে। প্রায় ৩ মাস আগে চুলকানি রোগে আক্রান্ত হন তিনি সহ পরিবারের শিশু সন্তানরা। হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। মাসের পর মাস নানা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি প্রতিকার পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, চুলকানি ,চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছি। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। যত দিন ওষুধ খাই, ততদিন একটু ভালো থাকি। তারপর রোগটা আবার নতুন করে শুরু হয় এবং ভয়ঙ্করভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত স্থানে চুলকায়, জ্বালা করে, লাল হয়ে ফুলে কষ বের হয়, অস্বস্তি লাগে।

দুই হাতের আঙুলে চর্মরোগে আক্রান্ত শ্রাবণ সাহা জানান, আক্রান্ত স্থানেএ হঠাৎ ঘামাচির মতো বের হয়। তারপর চুলকানি শুরু হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সমস্যা। প্রতিরোধে অনেক ওষুধ সেবন করলেও কোনো কাজে আসছে না।
এছাড়াও সোনালী(৬), স্বপ্নীল(১২), স্বপ্ন(৩৯), জয়ন্ত (৩০) সহ উপজেলার শত শত নারী-পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কাজী মোঃ আবু আহসান বলেন, বর্তমানে চুলকালি এবং স্ক্রীন ডিজিজ এটা খুব বেশি হারে দেখা যাচ্ছে আমাদের রোগীদের মধ্যে। এটার কারণ হচ্ছে শীতকালে মানুষের হাইজিন মেনটেইন না করা। নিয়মিত গোসল না করা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকার কারণে শীতকালে মানুষের স্ক্রিন ফেটে যায় যার ফলে অনেক সময় কষ বের হয় এবং চুলকায়। তবে আমার অনুরোধ করবো নিয়মিত গোসল করার জন্য। এবং ভ্যাসলিন জাতীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার জন্য। এ সময় স্ক্যাবিস এর মাত্রাটাও বেড়ে যায় যার কারণ হচ্ছে বাচ্চারা বা বয়স্করা কম্বলের বা লেপের নিচে থাকে ওই সময় স্ক্যাবিসটা একজন থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়। এজন্য আমরা শীতকালে কাপড় গুলো নিয়মিত রোদে দেব এবং পার্সোনাল হাইজিন মেনটেইন করার জন্য আলাদা গামছা ও যার যার কাপড় সে সে ব্যবহার করবো। এবং সবার মাঝে সচেতনতা তা গড়ে তুলবেন। এসব রোগের লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে আসবেন সেখানে আমরা প্রকৃত চিকিৎসা সেবা দেয়ার চেষ্টা করবো।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরটিএ’র পাবলিক সার্ভিস ডেস্কে বেনামী চিঠির পাহাড়, ব্ল্যাকমেইলের শিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

সুন্দরগঞ্জে বেড়েই চলেছে চুলকানি জাতীয় চর্মরোগ।

আপডেট টাইম : ১২:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪

বিপুল ইসলাম আকাশ,সুন্দরগঞ্জ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অন্যান্য রোগের তুলনায় চুলকানি জাতীয় চর্মরোগ বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে এ রোগে।

এ রোগে পুরুষের তুলনায় নারীসহ শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। কারো কারো ক্ষেত্রে দামি অ্যান্টিবায়োটিক না খেলে কোনোমতই পিছু ছাড়ে না এই চর্মরোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব চর্মরোগের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকার ফলে চিকিৎসকরা অনেক সময় শুধু ব্যবস্থাপত্র করে দিয়ে রোগী পাঠিয়ে দেন।

সচেতন মহল ও চিকিৎসকরা সাম্প্রতিক বন্যার দূষিত পানি, পরিবেশ দূষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও ত্বকের যত্নের অভাবকেই দায়ী করছেন। তবে শিশু ও নারীদের আক্রান্তের সংখ্যায় উদ্বিগ্ন তারা। এ থেকে উদ্ধারে পারিবারিক সচেতনতাই প্রথম প্রতিরোধ বলে মনে করছেন অনেক চিকিৎসক।

সরেজমিন দেখা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে চুলকানি ও চর্মরোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেশি। সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে, কেউ এসেছেন পুরো শরীরে ঘামাচির মতো ছোট ছোট ফুসকুড়ির সাথে তীব্র চুলকানি নিয়ে। কেউ এসেছেন খোসপাঁচড়া নিয়ে আবার কেউ এসেছেন স্ক্যাবিস নিয়ে। কেউ কেউ এসেছেন চুলকানি নিয়ে। এছাড়া চর্মরোগের নানা লক্ষণ নিয়ে এসেছেন রোগীরা। এ চিত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালেও।

সরেজমিন উপজেলার পৌরসভা সহ ১৫টি ইউনিয়নে এ রোগে আক্রান্ত শত শত রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়। অনেক দাম দিয়ে ওষুধ সেবনের পরও তেমন কাজে আসছে না বলে দাবি তাদের।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামে গিয়ে কথা হয় গৃহবধূ খেলন রানীর সঙ্গে। প্রায় ৩ মাস আগে চুলকানি রোগে আক্রান্ত হন তিনি সহ পরিবারের শিশু সন্তানরা। হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। মাসের পর মাস নানা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি প্রতিকার পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, চুলকানি ,চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছি। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। যত দিন ওষুধ খাই, ততদিন একটু ভালো থাকি। তারপর রোগটা আবার নতুন করে শুরু হয় এবং ভয়ঙ্করভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত স্থানে চুলকায়, জ্বালা করে, লাল হয়ে ফুলে কষ বের হয়, অস্বস্তি লাগে।

দুই হাতের আঙুলে চর্মরোগে আক্রান্ত শ্রাবণ সাহা জানান, আক্রান্ত স্থানেএ হঠাৎ ঘামাচির মতো বের হয়। তারপর চুলকানি শুরু হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সমস্যা। প্রতিরোধে অনেক ওষুধ সেবন করলেও কোনো কাজে আসছে না।
এছাড়াও সোনালী(৬), স্বপ্নীল(১২), স্বপ্ন(৩৯), জয়ন্ত (৩০) সহ উপজেলার শত শত নারী-পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কাজী মোঃ আবু আহসান বলেন, বর্তমানে চুলকালি এবং স্ক্রীন ডিজিজ এটা খুব বেশি হারে দেখা যাচ্ছে আমাদের রোগীদের মধ্যে। এটার কারণ হচ্ছে শীতকালে মানুষের হাইজিন মেনটেইন না করা। নিয়মিত গোসল না করা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকার কারণে শীতকালে মানুষের স্ক্রিন ফেটে যায় যার ফলে অনেক সময় কষ বের হয় এবং চুলকায়। তবে আমার অনুরোধ করবো নিয়মিত গোসল করার জন্য। এবং ভ্যাসলিন জাতীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার জন্য। এ সময় স্ক্যাবিস এর মাত্রাটাও বেড়ে যায় যার কারণ হচ্ছে বাচ্চারা বা বয়স্করা কম্বলের বা লেপের নিচে থাকে ওই সময় স্ক্যাবিসটা একজন থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়। এজন্য আমরা শীতকালে কাপড় গুলো নিয়মিত রোদে দেব এবং পার্সোনাল হাইজিন মেনটেইন করার জন্য আলাদা গামছা ও যার যার কাপড় সে সে ব্যবহার করবো। এবং সবার মাঝে সচেতনতা তা গড়ে তুলবেন। এসব রোগের লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে আসবেন সেখানে আমরা প্রকৃত চিকিৎসা সেবা দেয়ার চেষ্টা করবো।