অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

ধর্ষণ মামলার বাদীকে মা ও শিশুর সামনেই গলাকেটে হত্যা

বাংলার খবর২৪.কমindex_52318, গাইবান্ধা : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার গ্রামে নূরজাহান বেগম (৪০) নামে এক ধর্ষণ মামলার বাদীকে তার বৃদ্ধ মা ও শিশু সন্তানের সামনেই গলাকেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত নূরজাহান ওই গ্রামের মনজু মিয়ার স্ত্রী ও একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ও নিহত নূরজাহানের মা ছামাত্য বানু (৬৫) জানান, শনিবার রাতে ছয় থেকে সাতজনের একদল দুর্বৃত্ত নূরজাহানের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা নূরজাহানের আট বছরের শিশু নূরুন্নবী ও আমার (বৃদ্ধ মা ছামাত্য বানু) হাত-পা মুখ বেঁধে ফেলে। আমাদের চোখের সামনেই তারা নূরজাহানকে মাটিতে ফেলে গলাকেটে হত্যার পর পালিয়ে যায়।

পুলিশ রোববার দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী মনজু মিয়া (৪৫) পলাতক রয়েছেন। মনজু মিয়া একই গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে।

ছামাত্য বানু আরো জানান, তিন সন্তানের জননী নূরজাহান বেগম স্বামী পরিত্যক্তা। নূরজাহান প্রায় পাঁচ বছর ধরে ছোট ছেলে নূরুন্নবীকে নিয়ে বাবার বাড়ি থাকতো। গত বছরের ১৩ জুন স্বামী পরিত্যক্তা নূরজাহান বাড়ির পাশে ছাগল চড়াতে গেলে প্রতিবেশী মনজু মিয়া তাকে ধর্ষণ করে। পরে মনজু বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সঙ্গে মেলামেশা করতে থাকে। এক পর্যায়ে নূরজাহান আট মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর চাপের মুখে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মনজু মিয়ার সঙ্গে নূরজাহানের বিয়ে রেজিস্ট্রি (নিকাহ নিবন্ধন) করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে মনজু তার সন্তানের (জাহিদুল বয়স ছয় মাস) স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করে ঘরে তুলে নিতে টালবাহানা করে মনজু মিয়া। পরে নূরজাহান বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ১৪ মার্চ মনজু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গত ১৪ জুন আদালতে জামিন নিতে গিয়ে মনজু মিয়া গ্রেফতার হয়। সম্প্রতি সে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়।

মনজু মিয়াই এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি ফারুক মিয়া বাদী হয়ে মনজুসহ নয়জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিহত নূরজাহানের মা ছামাত্য বানু তার হাত-পা বেঁধে মেয়েকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপর অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

ধর্ষণ মামলার বাদীকে মা ও শিশুর সামনেই গলাকেটে হত্যা

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কমindex_52318, গাইবান্ধা : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার গ্রামে নূরজাহান বেগম (৪০) নামে এক ধর্ষণ মামলার বাদীকে তার বৃদ্ধ মা ও শিশু সন্তানের সামনেই গলাকেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত নূরজাহান ওই গ্রামের মনজু মিয়ার স্ত্রী ও একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ও নিহত নূরজাহানের মা ছামাত্য বানু (৬৫) জানান, শনিবার রাতে ছয় থেকে সাতজনের একদল দুর্বৃত্ত নূরজাহানের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা নূরজাহানের আট বছরের শিশু নূরুন্নবী ও আমার (বৃদ্ধ মা ছামাত্য বানু) হাত-পা মুখ বেঁধে ফেলে। আমাদের চোখের সামনেই তারা নূরজাহানকে মাটিতে ফেলে গলাকেটে হত্যার পর পালিয়ে যায়।

পুলিশ রোববার দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী মনজু মিয়া (৪৫) পলাতক রয়েছেন। মনজু মিয়া একই গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে।

ছামাত্য বানু আরো জানান, তিন সন্তানের জননী নূরজাহান বেগম স্বামী পরিত্যক্তা। নূরজাহান প্রায় পাঁচ বছর ধরে ছোট ছেলে নূরুন্নবীকে নিয়ে বাবার বাড়ি থাকতো। গত বছরের ১৩ জুন স্বামী পরিত্যক্তা নূরজাহান বাড়ির পাশে ছাগল চড়াতে গেলে প্রতিবেশী মনজু মিয়া তাকে ধর্ষণ করে। পরে মনজু বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সঙ্গে মেলামেশা করতে থাকে। এক পর্যায়ে নূরজাহান আট মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর চাপের মুখে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মনজু মিয়ার সঙ্গে নূরজাহানের বিয়ে রেজিস্ট্রি (নিকাহ নিবন্ধন) করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে মনজু তার সন্তানের (জাহিদুল বয়স ছয় মাস) স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করে ঘরে তুলে নিতে টালবাহানা করে মনজু মিয়া। পরে নূরজাহান বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ১৪ মার্চ মনজু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গত ১৪ জুন আদালতে জামিন নিতে গিয়ে মনজু মিয়া গ্রেফতার হয়। সম্প্রতি সে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়।

মনজু মিয়াই এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি ফারুক মিয়া বাদী হয়ে মনজুসহ নয়জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিহত নূরজাহানের মা ছামাত্য বানু তার হাত-পা বেঁধে মেয়েকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপর অব্যাহত রয়েছে।