অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড চট্টগ্রামে, ভূমিধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রাম থেকে রনজিত কুমার শীল ঃ টানা ও ভারী বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গতকাল সকাল থেকে নগরীর ৪ ভূমি সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। বেলা ১২টা পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। দুপুরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, সিডিএ আবাসিক, আগ্রাবাদ, ছোটপুল, বড়পুল, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়সহ নিচু এলাকায় জমেছে হাঁটুপানি। পাহাড় ক্ষয়ে বৃষ্টির পানির সঙ্গে নামছে প্রচুর বালু। ভরাট হচ্ছে নালা-খাল, পানি উঠে যাচ্ছে সড়কে। কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে যাওয়ায় নগরের সড়কগুলোতে গাড়ি চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কমে গেছে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশাসহ গণপরিবহনের সংখ্যাও। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। বেলা ১২টা পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি জানান, ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হয়েছে। সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ভাটা শুরু হবে। দ্বিতীয় জোয়ার আসবে বিকেলে ৫টা ২০ মিনিটে। ভাটা শুরু হবে সোয়া ১১টায়। নগরীর বাইরে হাটহাজারী ও মিরসরাই উপজেলায় ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া-আবু তোরাব সড়ক ও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের সরকার হাট এলাকায় হাঁটু পরিমাণ পানি। নষ্ট হয়েছে ফসলের ক্ষেত। ভেসে গেছে পুকুরে চাষ করা মাছ। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। অতি ভারী বর্ষণের কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে অধিদফতর। এদিকে, গত সোমবার উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। জেলা প্রশাসনের মাইকিং : ভারী বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর ৪ ভূমি সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মাইকিং কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা লোকজনকে সরে যেতে প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এর পরেও যারা নিরাপদ স্থানে না গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করবেন তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। নগরীর লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর পাশ^বর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা যে কেউ সেখানে আশ্রয় নিতে পারবেন।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড চট্টগ্রামে, ভূমিধসের আশঙ্কা

আপডেট টাইম : ০২:৩১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই ২০১৮

চট্টগ্রাম থেকে রনজিত কুমার শীল ঃ টানা ও ভারী বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গতকাল সকাল থেকে নগরীর ৪ ভূমি সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। বেলা ১২টা পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। দুপুরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, সিডিএ আবাসিক, আগ্রাবাদ, ছোটপুল, বড়পুল, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়সহ নিচু এলাকায় জমেছে হাঁটুপানি। পাহাড় ক্ষয়ে বৃষ্টির পানির সঙ্গে নামছে প্রচুর বালু। ভরাট হচ্ছে নালা-খাল, পানি উঠে যাচ্ছে সড়কে। কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে যাওয়ায় নগরের সড়কগুলোতে গাড়ি চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কমে গেছে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশাসহ গণপরিবহনের সংখ্যাও। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। বেলা ১২টা পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি জানান, ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হয়েছে। সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ভাটা শুরু হবে। দ্বিতীয় জোয়ার আসবে বিকেলে ৫টা ২০ মিনিটে। ভাটা শুরু হবে সোয়া ১১টায়। নগরীর বাইরে হাটহাজারী ও মিরসরাই উপজেলায় ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া-আবু তোরাব সড়ক ও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের সরকার হাট এলাকায় হাঁটু পরিমাণ পানি। নষ্ট হয়েছে ফসলের ক্ষেত। ভেসে গেছে পুকুরে চাষ করা মাছ। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। অতি ভারী বর্ষণের কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে অধিদফতর। এদিকে, গত সোমবার উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। জেলা প্রশাসনের মাইকিং : ভারী বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর ৪ ভূমি সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মাইকিং কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা লোকজনকে সরে যেতে প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এর পরেও যারা নিরাপদ স্থানে না গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করবেন তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। নগরীর লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর পাশ^বর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা যে কেউ সেখানে আশ্রয় নিতে পারবেন।