অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

‘সেবা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছি, মরলেও আফসোস থাকবে না’

ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১০ জন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীর মধ্যে একজন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শনাক্ত হওয়ার পর নিজেকে না লুকিয়ে ফেসবুকে সাহসী স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

বর্তমানে ওই চিকিৎসক ময়মনসিংহে স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তার স্বামীও একজন ডাক্তার। তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত। সেখানেই তিনি আইসোলেশনে আছেন বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ।

ওই নারী চিকিৎসক বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার। তিনি আখাউড়া উপজেলায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে বিজয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ওই নারী চিকিৎসকের স্বামীর সঙোগ কথা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে সে আমার সঙ্গে আছে। এখন পর্যন্ত তার শরীর ভালো রয়েছে। আপনারা সবাই দোয়া করবেন।

ওই নারী চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। বুধবার দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত স্ট্যাটাসটিতে লাইক দিয়েছেন ৬ হাজার ৩০০ মানুষ ও কমেন্ট করেছেন ১ হাজার এবং শেয়ার করেছেন ১ হাজার ৪০০ মানুষ।

ফেসবুকে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘সবাই বলছে কাউকে বলো না। কেন বলবো না? আমি তো কোনো দোষ করি নাই। আমি আপনাদের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি। লকডাউনে যখন আপনারা বাড়িতে বসে সময় কীভাবে কাটাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন তখন আমি হয়তো কোনো কোভিড-১৯ পজিটিভ ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে। হ্যাঁ আমি কোভিড-১৯ পজিটিভ। এতে আমার কোনো লজ্জা বা ভয় বা আফসোস নাই। বরং আমি খুব গর্বিত। কারণ আমি শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে এসেছি। এখন যদি মরেও যাই আমার আফসোস থাকবে না। কারণ আমি ডাক্তার হিসেবে যে শপথ নিয়েছিলাম তা পালন করে এসেছি। আমি যতদিন পেরেছি আপনাদের জন্যে হাসপাতালে এবং মাঠে কাজ করেছি। যেদিন আমার মনে হলো আমার নিজেরই স্যাম্পল পাঠানো দরকার, আমি সাথে সাথে স্যাম্পল পাঠিয়ে নিজেকে কোয়ারেন্টাইনড করেছি। আমার পক্ষে যতদূর সম্ভব মানুষ এড়িয়ে চলেছি। নিজের বাড়িতেও ফিরিনি যহেতু আমারো পরিবার আছে, বাড়িতে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি আছেন। তারপরও আজ আমার এলাকার মানুষের কাছে (ময়মনসিংহের যে এলাকায় ভাড়া থাকি) যে ব্যবহার পেয়েছি আমি ও আমার স্বামী তা আমি কোনোদিন ভুলবো না।

একটা কথা বলে যাই…নগর পুড়লে কি দেবালয় এড়ায়?
আগামী বছর বেঁচে থাকলে এই স্মৃতিটা ভেসে উঠবে ফেবুর পাতায়।
শুভ নববর্ষ, ১৪২৭! সবার মঙ্গল হোক।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

‘সেবা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছি, মরলেও আফসোস থাকবে না’

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০

ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১০ জন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীর মধ্যে একজন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শনাক্ত হওয়ার পর নিজেকে না লুকিয়ে ফেসবুকে সাহসী স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

বর্তমানে ওই চিকিৎসক ময়মনসিংহে স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তার স্বামীও একজন ডাক্তার। তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত। সেখানেই তিনি আইসোলেশনে আছেন বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ।

ওই নারী চিকিৎসক বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার। তিনি আখাউড়া উপজেলায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে বিজয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ওই নারী চিকিৎসকের স্বামীর সঙোগ কথা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে সে আমার সঙ্গে আছে। এখন পর্যন্ত তার শরীর ভালো রয়েছে। আপনারা সবাই দোয়া করবেন।

ওই নারী চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। বুধবার দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত স্ট্যাটাসটিতে লাইক দিয়েছেন ৬ হাজার ৩০০ মানুষ ও কমেন্ট করেছেন ১ হাজার এবং শেয়ার করেছেন ১ হাজার ৪০০ মানুষ।

ফেসবুকে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘সবাই বলছে কাউকে বলো না। কেন বলবো না? আমি তো কোনো দোষ করি নাই। আমি আপনাদের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি। লকডাউনে যখন আপনারা বাড়িতে বসে সময় কীভাবে কাটাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন তখন আমি হয়তো কোনো কোভিড-১৯ পজিটিভ ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে। হ্যাঁ আমি কোভিড-১৯ পজিটিভ। এতে আমার কোনো লজ্জা বা ভয় বা আফসোস নাই। বরং আমি খুব গর্বিত। কারণ আমি শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে এসেছি। এখন যদি মরেও যাই আমার আফসোস থাকবে না। কারণ আমি ডাক্তার হিসেবে যে শপথ নিয়েছিলাম তা পালন করে এসেছি। আমি যতদিন পেরেছি আপনাদের জন্যে হাসপাতালে এবং মাঠে কাজ করেছি। যেদিন আমার মনে হলো আমার নিজেরই স্যাম্পল পাঠানো দরকার, আমি সাথে সাথে স্যাম্পল পাঠিয়ে নিজেকে কোয়ারেন্টাইনড করেছি। আমার পক্ষে যতদূর সম্ভব মানুষ এড়িয়ে চলেছি। নিজের বাড়িতেও ফিরিনি যহেতু আমারো পরিবার আছে, বাড়িতে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি আছেন। তারপরও আজ আমার এলাকার মানুষের কাছে (ময়মনসিংহের যে এলাকায় ভাড়া থাকি) যে ব্যবহার পেয়েছি আমি ও আমার স্বামী তা আমি কোনোদিন ভুলবো না।

একটা কথা বলে যাই…নগর পুড়লে কি দেবালয় এড়ায়?
আগামী বছর বেঁচে থাকলে এই স্মৃতিটা ভেসে উঠবে ফেবুর পাতায়।
শুভ নববর্ষ, ১৪২৭! সবার মঙ্গল হোক।