পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

মালয়েশিয়ায় দালালের হাতে শিকলবন্দি সুনামগঞ্জের যুবক

বাংলার খবর২৪.কম : উজ্জল মিয়া (৩৫)। ৬ সন্তানের জনক। টাঙ্গুয়ার হাওড়পাড়ের দরিদ্র এক মৎস্যজীবী পরিবারের সন্তান তিনি। অভাব-অনটনের সংসার। খেয়ে না খেয়ে লক্ষাধিক টাকা যোগাড় করে সুখ নামের সোনার হরিণ ধরতে পাড়ি দিয়েছিলেন স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়া। উদ্দেশ্য মৎস্যজীবী বাবার অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু বিধি বাম! দালালের খপ্পরে পড়ে সেই রঙিন স্বপ্ন আজ ফিকে হয়ে গেছে জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে থাকা সেই হতভাগ্য যুবকের। বর্তমানে মালয়েশিয়ার তেহরান এলাকার একটি নির্জন বাড়িতে দালালের কব্জায় থেকে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি এই যুবক।

জানা গেছে, সম্প্রতি টেকনাফ বর্ডার দিয়ে সেখানকার হারুন মিয়া নামে এক দালালের মাধ্যমে ১৫-২০ জন যুবক সাগরপথে পাড়ি দেন মালয়েশিয়ায়। এজন্য প্রত্যেককে গুনতে হয় লক্ষাধিক টাকা। গন্তব্যস্থলে পৌঁছে তারা জানতে পারেন তাদেরকে সে দেশের দালালচক্রের হাতে বিক্রি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে জীবন বাঁচাতে মুক্তিপণ দিয়ে অন্যরা দেশে ফিরলেও টাকার অভাবে ফেরা হয়নি হতভাগ্য উজ্জলের।

উজ্জলের বাবা জানান, ‘মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় তার ছেলের মুক্তিপণ চেয়ে মালয়েশিয়ার (০০৬০-১৪৩৪৯৬৩৯২) ফোন নাম্বার থেকে কল আসে। জানানো হয় দুই লাখ টাকা দিলেই মুক্তি দেওয়া হবে তার ছেলে উজ্জলকে। দ্রুত টাকা না পাঠালে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও জানানো হয়। এসময় উজ্জলকে দিয়ে কথা বলানো হয়। ফোনে অন্ধকার কক্ষে শিকল বাঁধা অবস্থায় বন্দি দিন যাপনের লোমহর্ষক কাহিনীও জানায় উজ্জল। এসময় বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তনাদ করে সে।’

এদিকে এ খবর শোনার পর উজ্জলের মা-বাবা সন্তানরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছে।

উজ্জলের বাবা আক্ষেপ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। কোনো রকম সংসার চলে আমাদের। এতো টাকা কোথা থেকে যোগাড় করবো। আর কিভাবে উদ্ধার করবো আমার ছেলেকে।’

তিনি ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

মালয়েশিয়ায় দালালের হাতে শিকলবন্দি সুনামগঞ্জের যুবক

আপডেট টাইম : ০৩:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম : উজ্জল মিয়া (৩৫)। ৬ সন্তানের জনক। টাঙ্গুয়ার হাওড়পাড়ের দরিদ্র এক মৎস্যজীবী পরিবারের সন্তান তিনি। অভাব-অনটনের সংসার। খেয়ে না খেয়ে লক্ষাধিক টাকা যোগাড় করে সুখ নামের সোনার হরিণ ধরতে পাড়ি দিয়েছিলেন স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়া। উদ্দেশ্য মৎস্যজীবী বাবার অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু বিধি বাম! দালালের খপ্পরে পড়ে সেই রঙিন স্বপ্ন আজ ফিকে হয়ে গেছে জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে থাকা সেই হতভাগ্য যুবকের। বর্তমানে মালয়েশিয়ার তেহরান এলাকার একটি নির্জন বাড়িতে দালালের কব্জায় থেকে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি এই যুবক।

জানা গেছে, সম্প্রতি টেকনাফ বর্ডার দিয়ে সেখানকার হারুন মিয়া নামে এক দালালের মাধ্যমে ১৫-২০ জন যুবক সাগরপথে পাড়ি দেন মালয়েশিয়ায়। এজন্য প্রত্যেককে গুনতে হয় লক্ষাধিক টাকা। গন্তব্যস্থলে পৌঁছে তারা জানতে পারেন তাদেরকে সে দেশের দালালচক্রের হাতে বিক্রি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে জীবন বাঁচাতে মুক্তিপণ দিয়ে অন্যরা দেশে ফিরলেও টাকার অভাবে ফেরা হয়নি হতভাগ্য উজ্জলের।

উজ্জলের বাবা জানান, ‘মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় তার ছেলের মুক্তিপণ চেয়ে মালয়েশিয়ার (০০৬০-১৪৩৪৯৬৩৯২) ফোন নাম্বার থেকে কল আসে। জানানো হয় দুই লাখ টাকা দিলেই মুক্তি দেওয়া হবে তার ছেলে উজ্জলকে। দ্রুত টাকা না পাঠালে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও জানানো হয়। এসময় উজ্জলকে দিয়ে কথা বলানো হয়। ফোনে অন্ধকার কক্ষে শিকল বাঁধা অবস্থায় বন্দি দিন যাপনের লোমহর্ষক কাহিনীও জানায় উজ্জল। এসময় বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তনাদ করে সে।’

এদিকে এ খবর শোনার পর উজ্জলের মা-বাবা সন্তানরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছে।

উজ্জলের বাবা আক্ষেপ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। কোনো রকম সংসার চলে আমাদের। এতো টাকা কোথা থেকে যোগাড় করবো। আর কিভাবে উদ্ধার করবো আমার ছেলেকে।’

তিনি ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।