অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo লালমনিরহাটে শিবরাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: তিনজনকে কারাদণ্ড। Logo সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি বিআরজেইউর Logo জলসিঁড়ি আবাসনের জবরদখলের প্রতিবাদ ও জিয়া খাল উদ্ধারে ১০ গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দাদের সভা Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড। Logo সীমান্তে ফাঁকা গুলি, ৪ বাংলাদেশির নৌকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০ লাখ টাকার মালামাল আটক Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: তিনজনকে কারাদণ্ড। Logo পাটগ্রামে বিজিবির মামলায়, বিএনপির ৪ নেতাসহ ৬ জন গ্রেপ্তার Logo হাতীবান্ধায় সমন্বিত শ্রেণিপাঠদান পরিকল্পনা নিয়ে ইউএনও’র মতবিনিময়

সিলেটের রক্তাক্ত ছাত্রদল, বিএনপি’র দায়সারা ভাব!

বাংলার খবর২৪.কম index_54843: সরকার বিরোধী আন্দোলন বা দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে নয়, সিলেটে ছাত্রদল এখন ব্যস্ত নিজেদের মধ্যে মারামারিতে। রাজপথে প্রকাশ্যে একপক্ষ অন্য পক্ষকে রক্তাক্ত করছে। নিজেদের মধ্যকার মারমারির ঘটনায় একের পর এক মামলা হচ্ছে থানায়। জেল খাটছেন অনেকে। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে এই যখন অবস্থা তখন নিরব রয়েছে অভিভাবক সংগঠন বিএনপি। ছাত্রদলের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে বিএনপি নেতারাই বিভেদ জিইয়ে রাখার নেপথ্যে কাজ করছেন এমন অভিযোগ ওঠেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্ব^র সাঈদ আহমদকে সভাপতি, রাহাত চৌধুরী মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা এবং নূরুল আলম সিদ্দিকী খালেদকে সভাপতি ও আবু সালেহ মো. লোকমানকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পদে নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকে দেখা দেয় বিদ্রোহ। দলের একাংশের নেতাকর্মীরা ওই কমিটিকে সাবেক শিবির নেতা নির্ভর দাবি করে তা প্রত্যাখান করেন। এর জের ধরে পরদিন ১৯ সেপ্টেম্ব^র নবগঠিত জেলা কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমদকে মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহরীয়ার হোসেন চৌধুরীর বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন কমিটি প্রত্যাখানকারী বিদ্রোহীরা। ওইদিন বিকালে নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকায় নবগঠিত কমিটির সাথে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি সাঈদসহ ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ। সাঈদ জামিনে মুক্তি পেলেও এখনো আটক অনেক নেতাকর্মী কারান্তরিণ রয়েছেন। সাপ্লাইয়ে সংঘর্ষের পর, ২২ সেপ্টেম্ব^র সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে ১৯ দলীয় জোটের ডাকা গত হরতালের দিন নগরীর নয়াসড়কে নবগঠিত মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নূরুল আলম সিদ্দিকী খালেদের অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষ হয় বিদ্রোহীদের। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায়ও পুলিশ বাদি হয়ে থানায় মামলা হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষ নগরীতে শোডাউন করতে গেলে নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রেজিস্টারি মাঠ থেকে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। লাঠিচার্জ করে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া বিদ্রোহীরা নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে। উভয় ঘটনায় থানায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে। সর্বশেষ গত শুক্রবার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হন মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লোকমান। ধাওয়া-ধাওয়িতে আহত হন অন্তত ১০ জন। এর মধ্যে ৪ জন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই যখন ছাত্রদলের অবস্থা তখন নিরব দর্শক হিসেবে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। গত ২৩ সেপ্টেম্ব^র বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা নগরীর কুমারপাড়ায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে গণপদত্যাগ করতে গেলে জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা তাদেরকে নিবৃত্ত করেন। কমিটি নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে তা সমাধানের আশ্বাস দেন তারা। প্রয়োজনে এ বিষয়টি নিয়ে তারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও দেখা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়- বিদ্রোহীদের এই আশ্বাস দেয়ার পর জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা ছাত্রদলের কোন্দল নিরসনে কোন উদ্যোগ নেননি। উল্টো নিজেদের গ্রুপ ভারি রাখতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উস্কে দিচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের মদদেই ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাজপথে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আহমদ বলেন- জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকাবস্থায় ছাত্রদলের এমন শোচনীয় অবস্থা ছিল না। কোন বিশৃৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর বিএনপিতেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তিনি কোনদিনও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন না। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নিষ্ক্রিয় নেতাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়ায় কেউই কোন দায়-দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না। তাই ছাত্রদলের বিষয়টিকে নিয়ে জেলা বিএনপির কোন নেতা মাথা ঘামাচ্ছেন না। অ্যাডভোকেট আবদুল গফ্ফার আরও বলেন- বিএনপির যে কয়েকজন নেতা ছাত্রদলের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তারাও নিরপেক্ষ নয়। তারা একটি গ্রুপের পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন তাই সমাধান হচ্ছে না। নিরপেক্ষ থেকে কেউ উদ্যোগ নিলে ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে শিবরাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ

সিলেটের রক্তাক্ত ছাত্রদল, বিএনপি’র দায়সারা ভাব!

আপডেট টাইম : ০২:৫৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম index_54843: সরকার বিরোধী আন্দোলন বা দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে নয়, সিলেটে ছাত্রদল এখন ব্যস্ত নিজেদের মধ্যে মারামারিতে। রাজপথে প্রকাশ্যে একপক্ষ অন্য পক্ষকে রক্তাক্ত করছে। নিজেদের মধ্যকার মারমারির ঘটনায় একের পর এক মামলা হচ্ছে থানায়। জেল খাটছেন অনেকে। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে এই যখন অবস্থা তখন নিরব রয়েছে অভিভাবক সংগঠন বিএনপি। ছাত্রদলের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে বিএনপি নেতারাই বিভেদ জিইয়ে রাখার নেপথ্যে কাজ করছেন এমন অভিযোগ ওঠেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্ব^র সাঈদ আহমদকে সভাপতি, রাহাত চৌধুরী মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা এবং নূরুল আলম সিদ্দিকী খালেদকে সভাপতি ও আবু সালেহ মো. লোকমানকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পদে নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকে দেখা দেয় বিদ্রোহ। দলের একাংশের নেতাকর্মীরা ওই কমিটিকে সাবেক শিবির নেতা নির্ভর দাবি করে তা প্রত্যাখান করেন। এর জের ধরে পরদিন ১৯ সেপ্টেম্ব^র নবগঠিত জেলা কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমদকে মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহরীয়ার হোসেন চৌধুরীর বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন কমিটি প্রত্যাখানকারী বিদ্রোহীরা। ওইদিন বিকালে নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকায় নবগঠিত কমিটির সাথে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি সাঈদসহ ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ। সাঈদ জামিনে মুক্তি পেলেও এখনো আটক অনেক নেতাকর্মী কারান্তরিণ রয়েছেন। সাপ্লাইয়ে সংঘর্ষের পর, ২২ সেপ্টেম্ব^র সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে ১৯ দলীয় জোটের ডাকা গত হরতালের দিন নগরীর নয়াসড়কে নবগঠিত মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নূরুল আলম সিদ্দিকী খালেদের অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষ হয় বিদ্রোহীদের। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায়ও পুলিশ বাদি হয়ে থানায় মামলা হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষ নগরীতে শোডাউন করতে গেলে নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রেজিস্টারি মাঠ থেকে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। লাঠিচার্জ করে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া বিদ্রোহীরা নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে। উভয় ঘটনায় থানায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে। সর্বশেষ গত শুক্রবার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হন মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লোকমান। ধাওয়া-ধাওয়িতে আহত হন অন্তত ১০ জন। এর মধ্যে ৪ জন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই যখন ছাত্রদলের অবস্থা তখন নিরব দর্শক হিসেবে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। গত ২৩ সেপ্টেম্ব^র বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা নগরীর কুমারপাড়ায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে গণপদত্যাগ করতে গেলে জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা তাদেরকে নিবৃত্ত করেন। কমিটি নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে তা সমাধানের আশ্বাস দেন তারা। প্রয়োজনে এ বিষয়টি নিয়ে তারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও দেখা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়- বিদ্রোহীদের এই আশ্বাস দেয়ার পর জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা ছাত্রদলের কোন্দল নিরসনে কোন উদ্যোগ নেননি। উল্টো নিজেদের গ্রুপ ভারি রাখতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উস্কে দিচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের মদদেই ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাজপথে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আহমদ বলেন- জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকাবস্থায় ছাত্রদলের এমন শোচনীয় অবস্থা ছিল না। কোন বিশৃৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর বিএনপিতেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তিনি কোনদিনও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন না। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নিষ্ক্রিয় নেতাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়ায় কেউই কোন দায়-দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না। তাই ছাত্রদলের বিষয়টিকে নিয়ে জেলা বিএনপির কোন নেতা মাথা ঘামাচ্ছেন না। অ্যাডভোকেট আবদুল গফ্ফার আরও বলেন- বিএনপির যে কয়েকজন নেতা ছাত্রদলের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তারাও নিরপেক্ষ নয়। তারা একটি গ্রুপের পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন তাই সমাধান হচ্ছে না। নিরপেক্ষ থেকে কেউ উদ্যোগ নিলে ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।