অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

দৈনিক ৬০ টাকা বেতনের উমেদার জসিম কোটি টাকার মালিক।

ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে একাধিকবার পল্লবী অফিস থেকে অন্যত্র অফিসে বদলি হলেও। প্রভাবশালী এই উমেদার ঘুরে ফিরে সেই পল্লবী অফিসে ফিরে আসে। নানাবিদ দুর্নীতির মাধ্যমে পল্লবী অফিসে গড়ে তুলেছেন উমেদার সিন্ডিকেট। উমেদার পদে কাজ করা এই ব্যক্তি সব অপকর্ম করে থাকেন অবলীলায়। রেকর্ড ফেল, দলিলের পাতা পরিবর্তন, দাগ ও খতিয়ান পরিবর্তন, ভলিউম ছেঁড়া, ঘুষ আদায়, জমির শ্রেণী পরিবর্তন, দলিল দাতা-গ্রহিতা ও দলিল লেখকদের জিম্মি করে প্রতিদিন অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বলছি, সৌভাগ্যবান উমেদার পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জসিমের কথা। আজ তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। রাতারাতি তিনি অফিসের সব ‘গোপন কাজের’ সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। রাতের অফিসে গোপন কাজগুলো তার হুকুমে চলে। যত অনৈতিক অবৈধ কাজ হয় সবকিছুর বখরা যায় তার কাছে। জমি রেজিস্ট্রি, দলিল রেজিস্ট্রির কমিশন, নকল উত্তোলনসহ সব রকম কাজ তাকে ছাড়া করা যায় না। তাকে ‘দ্বিতীয় সাবরেজিস্ট্রার’ বলে থাকে অফিসের লোকজন।
সরকার যেখানে দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেখানে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ছে ৬০ টাকা বেতনের প্রভাবশালী ওমেদার জসিম ও তার ভয়ংকর সিন্ডিকেট। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে প্রতি বছরে কোটি কোটি টাকা। অথচ উমেদার সরকার অনুমোদিত বৈধ কোনো পদ নয়।

দৈনিক ৬০ টাকা মাসে ১৮০০ টাকার কর্মী হয়েও ঢাকায় করেছেন একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট। নামে বেনামে গড়েছেন আরো সম্পদের পাহাড়। তথ্যসূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরে পূর্ব শাহালীবাগ ধানক্ষেতের মোড়ে ৩৭ নাম্বার তায়েফ ভবনে চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ১৫০০ স্কয়ার ফিটের আলিশান পাঁচটি ফ্ল্যাট কিনেছেন সম্পত্তি। দামি হাইয়েস মাইক্রোবাস, সাভার মসুরি খোলা এলাকায় ১৫/২০ শতাংশ জমি রয়েছে জসিমের। ময়মনসিংহ, ভালুকা রয়েছে গরুর খামার। সৌদি আরবের রয়েছে ব্যবসায়ী পাটনার।

শুধু পল্লবী অফিস নয়, তার ভয়ংকর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ করেন মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। মিরপুর ও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম জসিমে গং।

জানা যায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন প্রশাসনের ভয়ে। তখন ঘুষ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় দৈনিক ৬০ টাকা বেতনের উমেদারদের। এখন পর্যন্ত এই সুযোগটাই কাজে লাগান উমেদার সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।

একজন অতি সাধারণ ৬০ টাকার কর্মচারীর নামে বেনামে সম্পদ অর্জন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে ব্যবস্থা গ্রহণ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি সচেতন মহলের।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দৈনিক ৬০ টাকা বেতনের উমেদার জসিম কোটি টাকার মালিক।

আপডেট টাইম : ০৩:৩২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে একাধিকবার পল্লবী অফিস থেকে অন্যত্র অফিসে বদলি হলেও। প্রভাবশালী এই উমেদার ঘুরে ফিরে সেই পল্লবী অফিসে ফিরে আসে। নানাবিদ দুর্নীতির মাধ্যমে পল্লবী অফিসে গড়ে তুলেছেন উমেদার সিন্ডিকেট। উমেদার পদে কাজ করা এই ব্যক্তি সব অপকর্ম করে থাকেন অবলীলায়। রেকর্ড ফেল, দলিলের পাতা পরিবর্তন, দাগ ও খতিয়ান পরিবর্তন, ভলিউম ছেঁড়া, ঘুষ আদায়, জমির শ্রেণী পরিবর্তন, দলিল দাতা-গ্রহিতা ও দলিল লেখকদের জিম্মি করে প্রতিদিন অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বলছি, সৌভাগ্যবান উমেদার পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জসিমের কথা। আজ তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। রাতারাতি তিনি অফিসের সব ‘গোপন কাজের’ সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। রাতের অফিসে গোপন কাজগুলো তার হুকুমে চলে। যত অনৈতিক অবৈধ কাজ হয় সবকিছুর বখরা যায় তার কাছে। জমি রেজিস্ট্রি, দলিল রেজিস্ট্রির কমিশন, নকল উত্তোলনসহ সব রকম কাজ তাকে ছাড়া করা যায় না। তাকে ‘দ্বিতীয় সাবরেজিস্ট্রার’ বলে থাকে অফিসের লোকজন।
সরকার যেখানে দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেখানে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ছে ৬০ টাকা বেতনের প্রভাবশালী ওমেদার জসিম ও তার ভয়ংকর সিন্ডিকেট। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে প্রতি বছরে কোটি কোটি টাকা। অথচ উমেদার সরকার অনুমোদিত বৈধ কোনো পদ নয়।

দৈনিক ৬০ টাকা মাসে ১৮০০ টাকার কর্মী হয়েও ঢাকায় করেছেন একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট। নামে বেনামে গড়েছেন আরো সম্পদের পাহাড়। তথ্যসূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরে পূর্ব শাহালীবাগ ধানক্ষেতের মোড়ে ৩৭ নাম্বার তায়েফ ভবনে চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ১৫০০ স্কয়ার ফিটের আলিশান পাঁচটি ফ্ল্যাট কিনেছেন সম্পত্তি। দামি হাইয়েস মাইক্রোবাস, সাভার মসুরি খোলা এলাকায় ১৫/২০ শতাংশ জমি রয়েছে জসিমের। ময়মনসিংহ, ভালুকা রয়েছে গরুর খামার। সৌদি আরবের রয়েছে ব্যবসায়ী পাটনার।

শুধু পল্লবী অফিস নয়, তার ভয়ংকর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ করেন মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। মিরপুর ও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম জসিমে গং।

জানা যায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন প্রশাসনের ভয়ে। তখন ঘুষ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় দৈনিক ৬০ টাকা বেতনের উমেদারদের। এখন পর্যন্ত এই সুযোগটাই কাজে লাগান উমেদার সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।

একজন অতি সাধারণ ৬০ টাকার কর্মচারীর নামে বেনামে সম্পদ অর্জন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে ব্যবস্থা গ্রহণ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি সচেতন মহলের।