পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

পাটগ্রামে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, বাবার উপর হামলা,গ্রেফতার ২

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রতিবাদ করায় তাঁর বাবাকে বেধড়ক মারধরে আহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সকালে আসামিদেরকে পুলিশি প্রহরায় পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- সুমন মিয়া (২১) ও তার পিতা সামিউল ইসলাম (৪৮)। তাদের বাড়ি উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের শুকুরেরটারী এলাকায়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) বিকেলে একই ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার এলাকার নিজ বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে আটক করে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসি ও থানা- পুলিশ জানায়, স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী (১১) বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি ফিরতেছিলেন। এ সময় ওই ইউনিয়নের শুকুরেরটারী এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে শাওন মিয়া (২০), সফিকুল ইসলামের ছেলে রিফাত হোসেন (২০) ও সামিউল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়া (২১) ছাত্রীর পথরোধ করে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ওই তিন যুবক চলে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ছাত্রীর বাবা করিম উল্লাহ এজাহারনামীয় আসামি সামিউল ইসলাম, আমিনুর ইসলাম, আরজিনা আক্তার, রফিকুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক ও মর্জিনা বেগমের বাড়িতে যান। ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে করিম উল্লাহ ও প্রতিবেশী মতিউল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এ সময় ছোড়া দিয়ে আঘাত করলে ছাত্রীর বাবার কণিষ্ঠ, অনামিকা ও মধ্যমা আঙ্গুলে চোট লাগে ও কণিষ্ঠ আঙ্গুল কেটে পড়ে যায় এবং মতিউলও গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর চাচা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে ওইদিন রাতই ৯ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পাটগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে দিবাগত রাতে এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি সুমন মিয়া ও ৪ নম্বর সামিউল ইসলামকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরকে গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা শ্লীলতাহানির মতো ঘটনায় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।’

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

পাটগ্রামে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, বাবার উপর হামলা,গ্রেফতার ২

আপডেট টাইম : ০৯:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রতিবাদ করায় তাঁর বাবাকে বেধড়ক মারধরে আহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সকালে আসামিদেরকে পুলিশি প্রহরায় পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- সুমন মিয়া (২১) ও তার পিতা সামিউল ইসলাম (৪৮)। তাদের বাড়ি উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের শুকুরেরটারী এলাকায়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) বিকেলে একই ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার এলাকার নিজ বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে আটক করে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসি ও থানা- পুলিশ জানায়, স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী (১১) বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি ফিরতেছিলেন। এ সময় ওই ইউনিয়নের শুকুরেরটারী এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে শাওন মিয়া (২০), সফিকুল ইসলামের ছেলে রিফাত হোসেন (২০) ও সামিউল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়া (২১) ছাত্রীর পথরোধ করে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ওই তিন যুবক চলে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ছাত্রীর বাবা করিম উল্লাহ এজাহারনামীয় আসামি সামিউল ইসলাম, আমিনুর ইসলাম, আরজিনা আক্তার, রফিকুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক ও মর্জিনা বেগমের বাড়িতে যান। ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে করিম উল্লাহ ও প্রতিবেশী মতিউল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এ সময় ছোড়া দিয়ে আঘাত করলে ছাত্রীর বাবার কণিষ্ঠ, অনামিকা ও মধ্যমা আঙ্গুলে চোট লাগে ও কণিষ্ঠ আঙ্গুল কেটে পড়ে যায় এবং মতিউলও গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর চাচা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে ওইদিন রাতই ৯ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পাটগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে দিবাগত রাতে এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি সুমন মিয়া ও ৪ নম্বর সামিউল ইসলামকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরকে গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা শ্লীলতাহানির মতো ঘটনায় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।’