
নিজস্ব সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের জোংড়া ইউনিয়ন সীমান্তে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অনাকাক্সিক্ষত যে কোনো পরিস্থিতি এড়াতে এবং সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ভারতের শূন্যরেখাস্থলে বাংলাদেশি কয়েকজন নাগরিক ঘাস কাটতে গেলে স্থানীয় ভারতীয়দের সাথে তর্কাতর্কি থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে বিএসএফ ভারতীয়দের সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি জানায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের উত্তরবর্ডার সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার নলনিবাড়ী সীমান্ত এলাকা। এসব এলাকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৩ ও ৮৭৪ নম্বরের সীমান্ত এলাকায় যে কোনো ধরণের সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা রোধে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবাসীদের নিরাপত্তায় বিজিবি সর্তক অবস্থান নেওয়ায় স্থানীয়রাও স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
অপরদিকে সীমান্তে সৃষ্ট উত্তেজনাকর ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বুধবার (১৩ মে) সকালে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৩ ও উপপিলার ১২ নম্বরের শূন্যরেখায় এ পতাকা বৈঠক করা হয়। এতে ভারতের ১৫৬ রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নালঙ্গীবাড়ী ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর অরুণ কুমারের নের্তত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ও বাংলাদেশের ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) ধরলা ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার গোলাম মোস্তফা ও একই ব্যাটালিয়নের ধবলগুড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার জোবায়ের হোসেনের নের্তৃত্ব ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ সীমান্তে ঘাস কাটতে যাওয়া বাংলাদেশিদেরকে দুষ্কৃতিকারী ও ভারতের কাঁটা তারের বেড়া কাটতে লোহার তৈরি কাটার নিয়ে গেছে বলে দাবি করেন। বিজিবি এ কথার প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশি সাধারণ কৃষক তাঁদের পালিত গরু, ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে ধান কাটার কাঁচি নিয়ে গেছে বলে জানায়। ভবিষ্যতে এ ধরণের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি যাতে না ঘটে এজন্য উভয় বাহিনী একমত পোষণ করেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)- এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘সীমান্তে যে কোনো ধরণের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির সদস্যদের নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সীমান্তে শান্তিপূর্ন অবস্থা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।’
মো: রশিদুল ইসলাম 














