অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ Logo মিরপুর বিআরটিএতে দালাল চক্রের ২ সদস্য আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ দিনের কারাদণ্ড Logo পাটগ্রামে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান Logo জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৮ জন : বিআরটিএ Logo দায়িত্ব নিয়ে স্কুল পরিদর্শনে নবনির্বাচিত সভাপতি Logo লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে ট্রাকের চাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত Logo তিস্তায় নতুন ব্যারাজ নির্মাণের পরামর্শ কারিগরি কমিটির Logo এক দিন ছুটি নিলেই টানা ৪ দিনের ছুটি Logo স্বামী চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ Logo খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী

বাংলার খবর২৪.কম বিএনপি: ঈদের এক সপ্তাহ পার হলো। পূর্ব ঘোষনানুযায়ী কঠোর আন্দোলনের তেমন কোন ঘোষনা নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা থাকলেও অবশেষে মানববন্ধন, সমাবেশ ও গণসংযোগের মতো নরম কর্মসূচি পালিত হচ্ছে এখন। ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলনে ব্যর্থতার অভিযোগে গত মাসেই ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। মির্জা আব্বাস আহ্বায়ক ও হাবিব উন নবী খান সোহেল সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান। কিন্তু কমিটি গঠনের শুরু থেকেই মহানগরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অর্ন্তদন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন,এটা তাদের আন্দোলনের কৌশল। চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে তাদের আরো কিছুটা সময় লাগবে।
ঈদ পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ও কৌশল নিয়ে নবগঠিত ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রোববার রাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু ছাড়াও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার বিকালে বিএনপি জরুরী সংবাদ সম্মেলন করবে এবং রাতে শীর্ষ নেতাদের সাথে খালেদা জিয়ার জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, রোববার খালেদা জিয়া প্রাথমিকভাবে ঈদ পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি, কৌশলের বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করেছেন।। এছাড়াও দ্রুত সব মহানগর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়টিও আলোচনা হয়। তবে ওই বৈঠকে মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন না।
সিঙ্গাপুর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফিরে এলে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন আগেই সিঙ্গাপুর গেছেন। মঙ্গলবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জানুয়ারি থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট রাজপথের আন্দোলনে বিরতি দিয়ে দল গোছানোর কাজ শুরু করে। রমজান মাসে একাধিক ইফতার পার্টিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঈদের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে নতুন কমিটি ঘোষণা হলেও অন্তর্কোন্দলের ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যমে আন্দোলন সফল হওয়ার বিষয়ে নানা সংশয় রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান জানান, চেয়ারপার্সনের ঘোষণা অনুযায়ী খুব শিগগিরই আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগরের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মী ছাড়াও জনগণও তাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। খুব শিগগির অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলোও পুনর্গঠন হলে আন্দোলন আরো বেগবান হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকায় আন্দোলনকে সফল করতে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘নতুন দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। এবারের আন্দোলন ব্যর্থ হবে না। আমাদের ডাকে জনগণ সাড়া দেবে। বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং ঢাকা মহানগরবাসীকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটাব, এটা আমাদের অঙ্গীকার।’ হাবিব-উন-নবী খান সোহেল আরো বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা) নির্দেশে চলমান গণআন্দোলন আমরা অবশ্যই সফল করতে পারব। অতীতে ছাত্র রাজনীতি করেছি। ২০০৯ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব পালন করছি। আমি মনে করি, আন্দোলন সফল করতে মূল সংগঠনের সঙ্গে থাকা প্রয়োজন। সে জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব নিয়েছি। নিছক হাসিনার দুঃশাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করার তীব্র বাসনা থেকেই ঢাকা মহানগর বিএনপিতে আসা।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী

আপডেট টাইম : ০৫:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম বিএনপি: ঈদের এক সপ্তাহ পার হলো। পূর্ব ঘোষনানুযায়ী কঠোর আন্দোলনের তেমন কোন ঘোষনা নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা থাকলেও অবশেষে মানববন্ধন, সমাবেশ ও গণসংযোগের মতো নরম কর্মসূচি পালিত হচ্ছে এখন। ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলনে ব্যর্থতার অভিযোগে গত মাসেই ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। মির্জা আব্বাস আহ্বায়ক ও হাবিব উন নবী খান সোহেল সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান। কিন্তু কমিটি গঠনের শুরু থেকেই মহানগরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অর্ন্তদন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন,এটা তাদের আন্দোলনের কৌশল। চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে তাদের আরো কিছুটা সময় লাগবে।
ঈদ পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ও কৌশল নিয়ে নবগঠিত ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রোববার রাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু ছাড়াও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার বিকালে বিএনপি জরুরী সংবাদ সম্মেলন করবে এবং রাতে শীর্ষ নেতাদের সাথে খালেদা জিয়ার জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, রোববার খালেদা জিয়া প্রাথমিকভাবে ঈদ পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি, কৌশলের বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করেছেন।। এছাড়াও দ্রুত সব মহানগর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়টিও আলোচনা হয়। তবে ওই বৈঠকে মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন না।
সিঙ্গাপুর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফিরে এলে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন আগেই সিঙ্গাপুর গেছেন। মঙ্গলবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জানুয়ারি থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট রাজপথের আন্দোলনে বিরতি দিয়ে দল গোছানোর কাজ শুরু করে। রমজান মাসে একাধিক ইফতার পার্টিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঈদের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে নতুন কমিটি ঘোষণা হলেও অন্তর্কোন্দলের ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যমে আন্দোলন সফল হওয়ার বিষয়ে নানা সংশয় রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান জানান, চেয়ারপার্সনের ঘোষণা অনুযায়ী খুব শিগগিরই আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগরের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মী ছাড়াও জনগণও তাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। খুব শিগগির অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলোও পুনর্গঠন হলে আন্দোলন আরো বেগবান হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকায় আন্দোলনকে সফল করতে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘নতুন দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। এবারের আন্দোলন ব্যর্থ হবে না। আমাদের ডাকে জনগণ সাড়া দেবে। বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং ঢাকা মহানগরবাসীকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটাব, এটা আমাদের অঙ্গীকার।’ হাবিব-উন-নবী খান সোহেল আরো বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা) নির্দেশে চলমান গণআন্দোলন আমরা অবশ্যই সফল করতে পারব। অতীতে ছাত্র রাজনীতি করেছি। ২০০৯ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব পালন করছি। আমি মনে করি, আন্দোলন সফল করতে মূল সংগঠনের সঙ্গে থাকা প্রয়োজন। সে জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব নিয়েছি। নিছক হাসিনার দুঃশাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করার তীব্র বাসনা থেকেই ঢাকা মহানগর বিএনপিতে আসা।