অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

শিক্ষা সচিবের ভাইপো’র জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

যশোর: সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের ভাইপোকে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে যশোর জেলা শিক্ষা অফিস।

শিক্ষা সচিবের ভাইপোকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কারণে তার আশপাশের পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছে।

সমস্যার প্রতিকারের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারের কাছে দাবিও জানিয়েছে ইতিমধ্যে পরীক্ষার্থীরা। তারপরও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি যশোর জেলা শিক্ষা অফিস।

শিক্ষা সচিবের ভাইপো আবু মুসার পাশে বসা ভুক্তভোগী যশোর কালেকটরেট স্কুলের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বার বার আবু মুসা তার খাতা কেড়ে নিয়েছে। এ কারণে সে ভালো পরীক্ষা দিতে পারছে না। সে আরো জানায়, স্যার-ম্যাডামদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

ইনস্টিটিউট স্কুলের হল সুপার মঞ্জুয়ারা জানান, আবু মুসা পরীক্ষার সময় কিছুটা সমস্যা করছে।

পরীক্ষার্থী আবু মুসার সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, আমি কিছু পারছি না লিখতে। অন্যের খাতায় হাত দিতে নিষেধ করলে মুসা বলে ‘দেখতে দিলে কী হয়?’

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ইনস্টিটিউট স্কুলের কেন্দ্র সচিব অমল কুমার বিশ্বাস জানান, শিক্ষা সচিবের ভাইপো পরীক্ষা দিচ্ছে তা আমি জানি। তবে সে সমস্যা করেছে কি-না এমন কোনো রিপোর্ট আমার ‘কানে’ আসেনি।

ইনস্টিটিউট স্কুলের অফিস সহকারী জিন্নাত আলী জানান, ‘স্যাররা আসন বিন্যাস করেছেন। সে অনুযায়ী আমি পরীক্ষার সিট প্লান করেছি।’

যশোর ইনস্টিটিউট স্কুলের সভাপতি ইমদাদুল হক সাচ্চু জানান, আমি প্রতিদিনই বেলা ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে থাকি। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে সমস্যা হলে সমাধান করার ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্র সচিবকে বলবো।

যশোর কালেক্টরেট স্কুলের অধ্যক্ষ সুলতান আহমেদ বলেন, সোমবারের পরীক্ষা শেষে কয়েকজন অভিভাবক আমাকে জানান, শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের ভাই হাবিব খানের ছেলে আবু মুসা যশোর ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে। তার পরীক্ষা কেন্দ্র যশোর ইনস্টিটিউট স্কুল। আবু মুসা আমাদের বাচ্চাদের পরীক্ষা দিতে বাধাগ্রস্ত করছে। তাকে খাতা না দেখালে খাতা টানাটানি-এমনকি খাতা কেড়ে নিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে।

সুলতান আহমেদ আরো বলেন, এ খবর জানার পর আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তাপস কুমার উত্তেজিত হয়ে আমাকে বলেন, মুসা ভিআইপির ছেলে। সে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেতেই পারে। এমনটি হয়েই থাকে। এটি কোনো ব্যাপার নয়।

অধ্যক্ষ সুলতার আহমেদ আরো বলেন, শিক্ষা অফিসারের এ রকম আচরণ দেখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) বিষয়টি জানিয়েছি।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকার তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নজরুল ইসলাম খানের ভাইপোর প্রসঙ্গে কালেক্টরেট স্কুলের অধ্যক্ষের সাথে কোনো কথা হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার যশোর জেলার সভাপতি জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ূন কবীরের বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমি জানি না।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

শিক্ষা সচিবের ভাইপো’র জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

আপডেট টাইম : ০২:২১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৪

যশোর: সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের ভাইপোকে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে যশোর জেলা শিক্ষা অফিস।

শিক্ষা সচিবের ভাইপোকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কারণে তার আশপাশের পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছে।

সমস্যার প্রতিকারের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারের কাছে দাবিও জানিয়েছে ইতিমধ্যে পরীক্ষার্থীরা। তারপরও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি যশোর জেলা শিক্ষা অফিস।

শিক্ষা সচিবের ভাইপো আবু মুসার পাশে বসা ভুক্তভোগী যশোর কালেকটরেট স্কুলের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বার বার আবু মুসা তার খাতা কেড়ে নিয়েছে। এ কারণে সে ভালো পরীক্ষা দিতে পারছে না। সে আরো জানায়, স্যার-ম্যাডামদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

ইনস্টিটিউট স্কুলের হল সুপার মঞ্জুয়ারা জানান, আবু মুসা পরীক্ষার সময় কিছুটা সমস্যা করছে।

পরীক্ষার্থী আবু মুসার সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, আমি কিছু পারছি না লিখতে। অন্যের খাতায় হাত দিতে নিষেধ করলে মুসা বলে ‘দেখতে দিলে কী হয়?’

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ইনস্টিটিউট স্কুলের কেন্দ্র সচিব অমল কুমার বিশ্বাস জানান, শিক্ষা সচিবের ভাইপো পরীক্ষা দিচ্ছে তা আমি জানি। তবে সে সমস্যা করেছে কি-না এমন কোনো রিপোর্ট আমার ‘কানে’ আসেনি।

ইনস্টিটিউট স্কুলের অফিস সহকারী জিন্নাত আলী জানান, ‘স্যাররা আসন বিন্যাস করেছেন। সে অনুযায়ী আমি পরীক্ষার সিট প্লান করেছি।’

যশোর ইনস্টিটিউট স্কুলের সভাপতি ইমদাদুল হক সাচ্চু জানান, আমি প্রতিদিনই বেলা ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে থাকি। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে সমস্যা হলে সমাধান করার ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্র সচিবকে বলবো।

যশোর কালেক্টরেট স্কুলের অধ্যক্ষ সুলতান আহমেদ বলেন, সোমবারের পরীক্ষা শেষে কয়েকজন অভিভাবক আমাকে জানান, শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের ভাই হাবিব খানের ছেলে আবু মুসা যশোর ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে। তার পরীক্ষা কেন্দ্র যশোর ইনস্টিটিউট স্কুল। আবু মুসা আমাদের বাচ্চাদের পরীক্ষা দিতে বাধাগ্রস্ত করছে। তাকে খাতা না দেখালে খাতা টানাটানি-এমনকি খাতা কেড়ে নিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে।

সুলতান আহমেদ আরো বলেন, এ খবর জানার পর আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তাপস কুমার উত্তেজিত হয়ে আমাকে বলেন, মুসা ভিআইপির ছেলে। সে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেতেই পারে। এমনটি হয়েই থাকে। এটি কোনো ব্যাপার নয়।

অধ্যক্ষ সুলতার আহমেদ আরো বলেন, শিক্ষা অফিসারের এ রকম আচরণ দেখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) বিষয়টি জানিয়েছি।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকার তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নজরুল ইসলাম খানের ভাইপোর প্রসঙ্গে কালেক্টরেট স্কুলের অধ্যক্ষের সাথে কোনো কথা হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার যশোর জেলার সভাপতি জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ূন কবীরের বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমি জানি না।