অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

শহীদদের পাহারা দেবে জাতীয় পতাকা

ঢাকা: সবুজ গালিচা। দেখতে অনেকটাই আরাম কেদারার মতো। যার মধ্য থেকে ফুটে উঠবে জাতীয় পতাকার আদল। মার্বেল পাথরের মাঝে সবুজ ঘাষের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে এমন অনেকগুলো সমাধি। যাতে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকবেন আমাদের বীর সন্তানরা। যাদের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে ফুটে উঠেছিল আমাদের সোনালী মানচিত্র। মুক্ত বাতাসে উড়েছে লাল-সবুজের পতাকা।

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হাতে নিয়েছে বিশেষ একটি প্রকল্প। সারাদেশের সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই রকম নকশায় তৈরি করা হবে সরকারি উদ্যোগে। ইতোমধ্যে যার নকশা চূড়ান্ত হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের নকশা করেছেন স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কবরটি প্রথমে দেখলে মনে হবে এটি একটি বিছানা। যেখানে পরম প্রশান্তিতে ঘুমাচ্ছেন আমাদের বীর যোদ্ধারা। আর উপর থেকে দেখলে মনে হবে আরাম কেদারা। আর শিয়রে গোলাকার ফাঁকা একটি বৃত্ত থাকবে। যা আমাদের জাতীয় পতাকা সাদৃশ্য হবে। সে পতাকার জন্য লড়াই করেছিলেন তারা, সেই পতাকাই তাদেরকে পাহারা দেবে- এমন একটি ভাবনা থেকে নকশাটি করা হয়েছে।’

শিখা চিরন্তন ও সাত বীরশ্রেষ্ঠের কবরের নকশাকার আসিফুর আরো বলেন, ‘এই নকশাটি মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের শান্তিতে ঘুমানোর বিষয়টিকে উপজীব্য করে গড়ে তোলা হয়েছে।’

জানা গেছে, যেখানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর রয়েছে সেখানে, প্রত্যেকের কবরই উপরোক্ত নকশার মতো করে তৈরি করে দেবে সরকার। প্রত্যেক কবরের এপিটাফে (নামফলক) মুক্তিযোদ্ধার নাম, জন্ম ও মৃত্যু তারিখের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া থাকবে।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেই সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর ফলে আর দশটি কবরের থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার কবরে ভিন্নতা থাকবে। এর ফলে যে কেউ কবরের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন এখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা শায়িত রয়েছেন। ফলে সবাই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন। এবং জানতে পারবেন তাদের মাধ্যমেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে একাত্তরের রণাঙ্গনে শহীদ হওয়া ২ হাজার ৯৩৮ জন মুক্তিযোদ্ধার কবর নতুন করে গড়ার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। যা শেষ হবে চলতি বছরের মধ্যে। স্থাপত্য অধিদপ্তর এর নকশা প্রণয়ন করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সেটাকে অনুমোদন দিয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৯৩৮ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখানে অতিদ্রুত লিপিবদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের স্থান শনাক্ত করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। শনাক্ত শেষে মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা পাঠাবে। প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য মন্ত্রণালয় ৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বাজেটও ইতোমধ্যে বরাদ্দ করেছে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

শহীদদের পাহারা দেবে জাতীয় পতাকা

আপডেট টাইম : ০৬:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০১৫

ঢাকা: সবুজ গালিচা। দেখতে অনেকটাই আরাম কেদারার মতো। যার মধ্য থেকে ফুটে উঠবে জাতীয় পতাকার আদল। মার্বেল পাথরের মাঝে সবুজ ঘাষের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে এমন অনেকগুলো সমাধি। যাতে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকবেন আমাদের বীর সন্তানরা। যাদের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে ফুটে উঠেছিল আমাদের সোনালী মানচিত্র। মুক্ত বাতাসে উড়েছে লাল-সবুজের পতাকা।

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হাতে নিয়েছে বিশেষ একটি প্রকল্প। সারাদেশের সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই রকম নকশায় তৈরি করা হবে সরকারি উদ্যোগে। ইতোমধ্যে যার নকশা চূড়ান্ত হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের নকশা করেছেন স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কবরটি প্রথমে দেখলে মনে হবে এটি একটি বিছানা। যেখানে পরম প্রশান্তিতে ঘুমাচ্ছেন আমাদের বীর যোদ্ধারা। আর উপর থেকে দেখলে মনে হবে আরাম কেদারা। আর শিয়রে গোলাকার ফাঁকা একটি বৃত্ত থাকবে। যা আমাদের জাতীয় পতাকা সাদৃশ্য হবে। সে পতাকার জন্য লড়াই করেছিলেন তারা, সেই পতাকাই তাদেরকে পাহারা দেবে- এমন একটি ভাবনা থেকে নকশাটি করা হয়েছে।’

শিখা চিরন্তন ও সাত বীরশ্রেষ্ঠের কবরের নকশাকার আসিফুর আরো বলেন, ‘এই নকশাটি মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের শান্তিতে ঘুমানোর বিষয়টিকে উপজীব্য করে গড়ে তোলা হয়েছে।’

জানা গেছে, যেখানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর রয়েছে সেখানে, প্রত্যেকের কবরই উপরোক্ত নকশার মতো করে তৈরি করে দেবে সরকার। প্রত্যেক কবরের এপিটাফে (নামফলক) মুক্তিযোদ্ধার নাম, জন্ম ও মৃত্যু তারিখের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া থাকবে।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেই সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর ফলে আর দশটি কবরের থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার কবরে ভিন্নতা থাকবে। এর ফলে যে কেউ কবরের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন এখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা শায়িত রয়েছেন। ফলে সবাই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন। এবং জানতে পারবেন তাদের মাধ্যমেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে একাত্তরের রণাঙ্গনে শহীদ হওয়া ২ হাজার ৯৩৮ জন মুক্তিযোদ্ধার কবর নতুন করে গড়ার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। যা শেষ হবে চলতি বছরের মধ্যে। স্থাপত্য অধিদপ্তর এর নকশা প্রণয়ন করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সেটাকে অনুমোদন দিয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৯৩৮ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখানে অতিদ্রুত লিপিবদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের স্থান শনাক্ত করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। শনাক্ত শেষে মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা পাঠাবে। প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য মন্ত্রণালয় ৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বাজেটও ইতোমধ্যে বরাদ্দ করেছে।