পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

উদ্বিগ্ন না হলে এনকাউন্টার হল কেন- মতিয়া চৌধুরী

ঢাকা: বাংলাদেশ সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন মানবপাচারের বিষয়টি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন বলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে থেকে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই মানব পাচারকারীদের সাথে এনকাউন্টারের মতো ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার টেকনাফে সন্দেহভাজন তিনজন মানব পাচারকারী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হবার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “(সরকার) উদ্বিগ্ন না হলে এনকাউন্টারটা হল কেন? যে তিনজন মারা গেছে, এটা কি এমনি এমনি মারা গেছে? এনকাউন্টারে মারা গেছে। যারা পাচার করছিল তাদের সঙ্গে এনকাউন্টার হয়েছে বলেই মারা গেছে।”

শুক্রবার টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন মানব পাচারকারী নিহত হয়েছিল। সেই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর শুক্রবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন সমুদ্রপথে বাংলাদেশ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দেশের ভিতরে দালালদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই কৃষিমন্ত্রীর দিক থেকে ‘এনকাউন্টারে’ মারা যাবার বক্তব্যটি আসলো।

অনুষ্ঠানের আরেকজন আলোচক বিএনপি নেতা লে: জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব) বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার জন্যই মানব পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না।

মি: রহমান বলেন , “আমরা কোস্টগার্ড করেছি। তাঁদের যথেষ্ট জনবল আছে, এ দায়িত্ব তাঁদের। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, তাঁদেরও দায়িত্ব আছে। আমি মনে করি এখানে যারা আইনশৃঙ্খলায় বা দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাঁদের গাফেলতি আছে।”

মানবপাচারের জন্য দালালরা সমুদ্রপথকে বেছে নিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে মতিয়া চৌধুরী উল্লেখ করেন বিস্তীর্ণ সমুদ্র নজরদারীর বিষয়টি কঠিন ব্যাপার।

তিনি বলেন , “ এই সমুদ্রে ফিশিং ট্রলার কোনটা আর মানুষ যাচ্ছে কোনটায় এগুলো আলাদা করা খুব কঠিন। তবে সরকার এ্যাকটিভ (সক্রিয়)।”

বাংলাদেশ সংলাপের আরেকজন আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সিআর আবরার বলেন মানবপাচার বেড়ে যাবার বিষয়টিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাটো করে দেখাতে চাইছেন।

তিনি বলেন বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সংস্থার প্রতিবেদনে মানবপাচার বেড়ে যাবার কথা যখন বলা হচ্ছে , তখন কোস্টগার্ড এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন মানবপাচার আগের তুলনায় কমে এসেছে।

মি: আবরার উল্লেখ করেন , “এই যে অস্বীকার করার প্রবণতা, এটা যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত তাদেরকে আরও উৎসাহিত করে।” তিনি অভিযোগ করেন মানবপাচারকারীদের সাথে যাদের সম্পর্ক রয়েছে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন মি: আবরার।

সূত্র: বিবিসি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

উদ্বিগ্ন না হলে এনকাউন্টার হল কেন- মতিয়া চৌধুরী

আপডেট টাইম : ০৩:১৪:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০১৫

ঢাকা: বাংলাদেশ সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন মানবপাচারের বিষয়টি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন বলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে থেকে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই মানব পাচারকারীদের সাথে এনকাউন্টারের মতো ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার টেকনাফে সন্দেহভাজন তিনজন মানব পাচারকারী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হবার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “(সরকার) উদ্বিগ্ন না হলে এনকাউন্টারটা হল কেন? যে তিনজন মারা গেছে, এটা কি এমনি এমনি মারা গেছে? এনকাউন্টারে মারা গেছে। যারা পাচার করছিল তাদের সঙ্গে এনকাউন্টার হয়েছে বলেই মারা গেছে।”

শুক্রবার টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন মানব পাচারকারী নিহত হয়েছিল। সেই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর শুক্রবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন সমুদ্রপথে বাংলাদেশ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দেশের ভিতরে দালালদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই কৃষিমন্ত্রীর দিক থেকে ‘এনকাউন্টারে’ মারা যাবার বক্তব্যটি আসলো।

অনুষ্ঠানের আরেকজন আলোচক বিএনপি নেতা লে: জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব) বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার জন্যই মানব পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না।

মি: রহমান বলেন , “আমরা কোস্টগার্ড করেছি। তাঁদের যথেষ্ট জনবল আছে, এ দায়িত্ব তাঁদের। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, তাঁদেরও দায়িত্ব আছে। আমি মনে করি এখানে যারা আইনশৃঙ্খলায় বা দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাঁদের গাফেলতি আছে।”

মানবপাচারের জন্য দালালরা সমুদ্রপথকে বেছে নিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে মতিয়া চৌধুরী উল্লেখ করেন বিস্তীর্ণ সমুদ্র নজরদারীর বিষয়টি কঠিন ব্যাপার।

তিনি বলেন , “ এই সমুদ্রে ফিশিং ট্রলার কোনটা আর মানুষ যাচ্ছে কোনটায় এগুলো আলাদা করা খুব কঠিন। তবে সরকার এ্যাকটিভ (সক্রিয়)।”

বাংলাদেশ সংলাপের আরেকজন আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সিআর আবরার বলেন মানবপাচার বেড়ে যাবার বিষয়টিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাটো করে দেখাতে চাইছেন।

তিনি বলেন বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সংস্থার প্রতিবেদনে মানবপাচার বেড়ে যাবার কথা যখন বলা হচ্ছে , তখন কোস্টগার্ড এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন মানবপাচার আগের তুলনায় কমে এসেছে।

মি: আবরার উল্লেখ করেন , “এই যে অস্বীকার করার প্রবণতা, এটা যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত তাদেরকে আরও উৎসাহিত করে।” তিনি অভিযোগ করেন মানবপাচারকারীদের সাথে যাদের সম্পর্ক রয়েছে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন মি: আবরার।

সূত্র: বিবিসি