পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

শিশুর হাজতবাস: ওসি ও এটিএসআইকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

ঝিনাইদহ : মহেশপুর থানা হাজতে ১১ মাসের শিশু আলিফ ওরফে রয়েলকে তার মায়ের সাথে ১৯ ঘন্টার হাজতবাসের কারণ জানতে চেয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারী করেছেন ঝিনাইদহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন।

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম শাহীন এবং মা ও শিশু গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা এটিএসআই আমির হোসেনকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

রোববার দুপুরে আদালতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মহেশপুরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম শাহিন সংশ্লিষ্ট কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল বারীর কাছ থেকে গ্রহণ করেন। ঝিনাইদহের কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল বারী আদালত থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারীর কথা স্বীকার করেন বলেন, আদালতের আদেশ মহেশপুর থানায় পাঠানো হয়েছে।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে গত ১৭সেপ্টেম্বর মহেশপুর থানার বাসিন্দা রাজু আহম্মেদকে গ্রেফতার করার জন্য পরিচালিত অভিযানের সময় তার স্ত্রী ও ১১ মাস বয়সের শিশুপুত্র রাসেলকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে আটক রাখা হয় ।

ঘটনার ১৯ ঘন্টা পর ৪২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি ১৮ তারিখে সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হয়। আদালতের আদেশে আরো বলা হয়েছে, আসামী না হওয়া সত্বেও রাজুর স্ত্রী ও ১১ মাসের শিশু পুত্রকে কোন ক্ষমতাবলে থানা হাজতে ১৯ ঘন্টা আটক রাখা হলো তা আদেশ প্রাপ্তির ৪৮ঘন্টার মধ্যে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদুল ইসলাম ও এএসআই অমির হোসেনকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের কার্যধারায় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মেও আদেশ নামাতে উল্লেখ করা হয়েছে ।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাজু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ তাকে না পেয়ে তার ১১ মাস বয়সী শিশু আলিফ ওরফে রয়েল এবং স্ত্রী লিপি খাতুনকে পুলিশ আটক করে। এরপর তাদেরকে থানায় আটক রেখে ১৯ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার বিকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। থানার গ্রীল ঘেরা বারান্দায় ঘুরে বেড়ানো শিশু আলিফ ওরফে রয়েলের ছবি শীর্ষ নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে টাকার বিনিময়ে শিশু ও তার মাকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। পুলিশ অবশ্য বরাবর টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। ঘটনাটি তদন্তে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ মহেশপুরের নাটিমা ও ভালাইপুর গ্রাম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জানান,পত্রপত্রিকায় শিশু রয়েলের যে ছবিটি ছাপা হয়েছে সেটা গারদের নয়,থানার বারান্দার। বারান্দায় হেফাজতে রাখা অবস্থায় ওই ছবি তোলা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, শিশুটির মা লিপি খাতুন ও শিশু রয়েলকে ছাড়ানোর জন্য টাকা লেদদেনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

শিশুর হাজতবাস: ওসি ও এটিএসআইকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

আপডেট টাইম : ০২:২৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

ঝিনাইদহ : মহেশপুর থানা হাজতে ১১ মাসের শিশু আলিফ ওরফে রয়েলকে তার মায়ের সাথে ১৯ ঘন্টার হাজতবাসের কারণ জানতে চেয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারী করেছেন ঝিনাইদহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন।

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম শাহীন এবং মা ও শিশু গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা এটিএসআই আমির হোসেনকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

রোববার দুপুরে আদালতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মহেশপুরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম শাহিন সংশ্লিষ্ট কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল বারীর কাছ থেকে গ্রহণ করেন। ঝিনাইদহের কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল বারী আদালত থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারীর কথা স্বীকার করেন বলেন, আদালতের আদেশ মহেশপুর থানায় পাঠানো হয়েছে।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে গত ১৭সেপ্টেম্বর মহেশপুর থানার বাসিন্দা রাজু আহম্মেদকে গ্রেফতার করার জন্য পরিচালিত অভিযানের সময় তার স্ত্রী ও ১১ মাস বয়সের শিশুপুত্র রাসেলকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে আটক রাখা হয় ।

ঘটনার ১৯ ঘন্টা পর ৪২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি ১৮ তারিখে সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হয়। আদালতের আদেশে আরো বলা হয়েছে, আসামী না হওয়া সত্বেও রাজুর স্ত্রী ও ১১ মাসের শিশু পুত্রকে কোন ক্ষমতাবলে থানা হাজতে ১৯ ঘন্টা আটক রাখা হলো তা আদেশ প্রাপ্তির ৪৮ঘন্টার মধ্যে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদুল ইসলাম ও এএসআই অমির হোসেনকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের কার্যধারায় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মেও আদেশ নামাতে উল্লেখ করা হয়েছে ।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাজু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ তাকে না পেয়ে তার ১১ মাস বয়সী শিশু আলিফ ওরফে রয়েল এবং স্ত্রী লিপি খাতুনকে পুলিশ আটক করে। এরপর তাদেরকে থানায় আটক রেখে ১৯ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার বিকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। থানার গ্রীল ঘেরা বারান্দায় ঘুরে বেড়ানো শিশু আলিফ ওরফে রয়েলের ছবি শীর্ষ নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে টাকার বিনিময়ে শিশু ও তার মাকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। পুলিশ অবশ্য বরাবর টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। ঘটনাটি তদন্তে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ মহেশপুরের নাটিমা ও ভালাইপুর গ্রাম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জানান,পত্রপত্রিকায় শিশু রয়েলের যে ছবিটি ছাপা হয়েছে সেটা গারদের নয়,থানার বারান্দার। বারান্দায় হেফাজতে রাখা অবস্থায় ওই ছবি তোলা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, শিশুটির মা লিপি খাতুন ও শিশু রয়েলকে ছাড়ানোর জন্য টাকা লেদদেনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।