অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত: নাম ছাড়াই মানিকগঞ্জের সেই সেতু উদ্বোধন

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বেউথা কালীগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি অবশেষে নামকরণ ছাড়াই সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি) এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলেও নামকরণ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতার জেদাজেদির কারণে সেতুটি চালু হচ্ছিল না। গণমাধ্যমে এই ভোগান্তির খবর প্রকাশ হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সেতুটি নাম ছাড়াই খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বেউথা এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

ছয় মাস আগে শেষ হয় সেতুর নির্মাণকাজ। গত ৩০ জুলাই সেতুটি উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলী দাবি করে আসছিলেন তার নামে হোক স্থাপনাটি। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন চাচ্ছেন তার প্রয়াত বাবা আব্দুল মালেকের নামে সেতুর নামকরণ হোক।
এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে বন্ধ হয়ে যায় সেতুর উদ্বোধন। আর ভোগান্তিতে পড়ে নদীর দুই পারের মানুষ। সেতু থাকার পরও নৌকায় করে পার হতে হয় লোকজনকে। কারণ, সেতুটি কেউ যেন ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য এর দুই দিকেই লোহার ফটক নির্মাণ করা হয়।

এখন যদি সেতুটি কারও নামেই না হয়, তাহলে আপত্তি আছে? জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র রমজান আলী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় যদি আমার নাম বাদ দিয়ে সেতুটি চালু করে তাহলে কিছু করার নেই। তবে অন্য কারও নামে সেতু উদ্বোধন করলে স্থানীয়রা তা প্রতিহত করবে।’

এদিকে এ ব্যপারে কথা বলতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

বেউথা এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বিশ্বাস টুটুল বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও উদ্বোধন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাদের এই ভোগান্তির কথা বিবেচনা করায় কৃতজ্ঞ তারা। বলেন, ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতার জেদাজেদিতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছিল। এখন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের সম্মানই রক্ষা করছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত: নাম ছাড়াই মানিকগঞ্জের সেই সেতু উদ্বোধন

আপডেট টাইম : ০১:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৬

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বেউথা কালীগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি অবশেষে নামকরণ ছাড়াই সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি) এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলেও নামকরণ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতার জেদাজেদির কারণে সেতুটি চালু হচ্ছিল না। গণমাধ্যমে এই ভোগান্তির খবর প্রকাশ হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সেতুটি নাম ছাড়াই খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বেউথা এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

ছয় মাস আগে শেষ হয় সেতুর নির্মাণকাজ। গত ৩০ জুলাই সেতুটি উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলী দাবি করে আসছিলেন তার নামে হোক স্থাপনাটি। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন চাচ্ছেন তার প্রয়াত বাবা আব্দুল মালেকের নামে সেতুর নামকরণ হোক।
এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে বন্ধ হয়ে যায় সেতুর উদ্বোধন। আর ভোগান্তিতে পড়ে নদীর দুই পারের মানুষ। সেতু থাকার পরও নৌকায় করে পার হতে হয় লোকজনকে। কারণ, সেতুটি কেউ যেন ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য এর দুই দিকেই লোহার ফটক নির্মাণ করা হয়।

এখন যদি সেতুটি কারও নামেই না হয়, তাহলে আপত্তি আছে? জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র রমজান আলী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় যদি আমার নাম বাদ দিয়ে সেতুটি চালু করে তাহলে কিছু করার নেই। তবে অন্য কারও নামে সেতু উদ্বোধন করলে স্থানীয়রা তা প্রতিহত করবে।’

এদিকে এ ব্যপারে কথা বলতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

বেউথা এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বিশ্বাস টুটুল বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও উদ্বোধন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাদের এই ভোগান্তির কথা বিবেচনা করায় কৃতজ্ঞ তারা। বলেন, ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতার জেদাজেদিতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছিল। এখন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের সম্মানই রক্ষা করছে।