অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

১৫ আগস্ট কারবালাকেও হার মানিয়েছে : শেখ হাসিনা

১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কারবালাকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের ঘটনা কারবালাকেও হার মানায়। আমরা (শেখ রেহানাসহ) যখন বিদেশে ছিলাম তখন হঠাৎ এ খবর (হত্যাকাণ্ডের) পাই। বিশ্বাস করতে পারেনি সে কথা। মানুষ একটি শোকই সইতে পারে না। যখনই কোনো হত্যার ঘটনা ঘটে তখনই তার বিচার চায়। আমরা যে এতগুলো আপনজন হারালাম, আমরা বিচারও চাইতে পারতাম না।’

তিনি বলেন, ‘ওই ঘাতকের দল আমরা বিচার চাই বলে একটি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে দেয়- মামলা করা যাবে না, থানায় ডায়েরি করা যাবে না। ফলে তারা বহাল তবিয়তে থাকে।’

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

১৫ আগস্টের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে ওই হত্যাকাণ্ডের পর বারবার ক্ষমতার পালাবদলের পালা শুরু হয়। খুনি মোশতাক গাদ্দারি করেছে। সে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। জিয়াউর রহমান আরেক খুনি, সেও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’

‘খুনি মোশতাক কিছুদিনের জন্য রাষ্ট্রপতি হয়। তারপর তাকে সরিয়ে দিয়ে জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ষোষণা করে। সেনা আইন ভঙ্গ করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতায় আসে। এই খুনিদেরকে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে…। কি অদ্ভুত দেশে বাস করি’ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানেই শেষ হয়নি। ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হলো। যারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রথম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে তাদেরকেও হত্যা করেছিল জিউয়ার রহমান। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়।’

তিনি বলেন, ‘যখন কেউ বিচার চায়, তখন আমার মনে হয়, কেউ আমাদের কথা ভাবেন না। আমরা তো বিচারও চাইতে পারতাম না। একটা মামলা করারও সুযোগ ছিল না। এমনকি দেশের মাটিও ফিরতে পারিনি। ৬টি বছর বিদেশে ছিলাম।
এরপর যখন আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী নির্বাচিত করে তখনও অনেক বাধা ছিল। কিন্তু তখন এটা সাহস ছিল, একবার যদি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে পারি, এখানে দেশের মানুষ আছে। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসেছিলাম।’

‘আমিও মানুষ। যখন আমি ঢাকার মাটি ছেড়ে যাই তখন কামাল, জামাল এয়ারপোর্টে ছিল। যখন ফিরে আসি তখন কামাল, জামাল, বাবা, মাকে খুজে বেড়াই। হাজার হাজার মানুষ কিন্তু তাদের ফিরে পাইনি। পেয়েছি হাজারো মানুষ। তাদের মাঝে খুঁজে পেয়েছি আমার মা, বাবা, ভাইদের।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং

১৫ আগস্ট কারবালাকেও হার মানিয়েছে : শেখ হাসিনা

আপডেট টাইম : ০৪:১৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৬

১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কারবালাকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের ঘটনা কারবালাকেও হার মানায়। আমরা (শেখ রেহানাসহ) যখন বিদেশে ছিলাম তখন হঠাৎ এ খবর (হত্যাকাণ্ডের) পাই। বিশ্বাস করতে পারেনি সে কথা। মানুষ একটি শোকই সইতে পারে না। যখনই কোনো হত্যার ঘটনা ঘটে তখনই তার বিচার চায়। আমরা যে এতগুলো আপনজন হারালাম, আমরা বিচারও চাইতে পারতাম না।’

তিনি বলেন, ‘ওই ঘাতকের দল আমরা বিচার চাই বলে একটি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে দেয়- মামলা করা যাবে না, থানায় ডায়েরি করা যাবে না। ফলে তারা বহাল তবিয়তে থাকে।’

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

১৫ আগস্টের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে ওই হত্যাকাণ্ডের পর বারবার ক্ষমতার পালাবদলের পালা শুরু হয়। খুনি মোশতাক গাদ্দারি করেছে। সে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। জিয়াউর রহমান আরেক খুনি, সেও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’

‘খুনি মোশতাক কিছুদিনের জন্য রাষ্ট্রপতি হয়। তারপর তাকে সরিয়ে দিয়ে জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ষোষণা করে। সেনা আইন ভঙ্গ করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতায় আসে। এই খুনিদেরকে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে…। কি অদ্ভুত দেশে বাস করি’ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানেই শেষ হয়নি। ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হলো। যারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রথম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে তাদেরকেও হত্যা করেছিল জিউয়ার রহমান। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়।’

তিনি বলেন, ‘যখন কেউ বিচার চায়, তখন আমার মনে হয়, কেউ আমাদের কথা ভাবেন না। আমরা তো বিচারও চাইতে পারতাম না। একটা মামলা করারও সুযোগ ছিল না। এমনকি দেশের মাটিও ফিরতে পারিনি। ৬টি বছর বিদেশে ছিলাম।
এরপর যখন আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী নির্বাচিত করে তখনও অনেক বাধা ছিল। কিন্তু তখন এটা সাহস ছিল, একবার যদি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে পারি, এখানে দেশের মানুষ আছে। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসেছিলাম।’

‘আমিও মানুষ। যখন আমি ঢাকার মাটি ছেড়ে যাই তখন কামাল, জামাল এয়ারপোর্টে ছিল। যখন ফিরে আসি তখন কামাল, জামাল, বাবা, মাকে খুজে বেড়াই। হাজার হাজার মানুষ কিন্তু তাদের ফিরে পাইনি। পেয়েছি হাজারো মানুষ। তাদের মাঝে খুঁজে পেয়েছি আমার মা, বাবা, ভাইদের।’