পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

এক ম্যাচেই ২৭ বাউন্ডারি, ২০ ছক্কা দেখলো দর্শকরা

অবশেষে কাটল রান খরা। হাসল ব্যাট। মিটল দর্শক প্রত্যাশা। বরিশাল বুলস আর রাজশাহী কিংস ম্যাচে রানের নহর। যেখানে ১৩০-এর ওপরে রান হচ্ছিল না। রান করা, আক্রমনাত্মক শটস খেলা এবং চার ও ছক্কার ফুলঝুরি ছোটানো যেখানে প্রায় সোনার হরিণ হয়ে উঠেছিল, ঠিক সেই শেরে বাংলার আজ রোববার বিকেল গড়াতেই অন্যরূপ!

বরিশাল বুলস আর রাজশাহী কিংস ম্যাচে উল্টো রান বন্যা। সাব্বির রহমান রুম্মন আর মুশফিকুর রহীম ও শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটে চার-ছক্কার ফলগুধারা। বিকেলে মুশফিক-শাহরিয়ার নাফীসের স্ট্রোক প্লে‘র অনুপম প্রদর্শনী।

গত কদিন খেলার যে অবস্থা ছিল, তাতে বিচ্ছিন্ন দু’একটা ম্যাচ বা ইনিংস বাদ দিলে গড়পড়তা এক ইনিংসে শতরান করতে লেগেছে ১৬ ওভার। সেখানে রোববার বিকেলে মুশফিক-শাহরিয়ার নাফীস জুটি ১১২ রান তুললেন ১১.৫ ওভারে।

শূন্য রানে প্রথম আর ২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর বিপর্যয় এড়াতে একটু সতর্ক-সাবধানী হয়ে ওঠা। তাই কিছুটা সময় রানের গতি কম ছিল। তারপর ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে শটস খেলায় মন দেয়া। বাড়তে থাকল চার-ছক্কা।

দুজনই সমান চারটি করে ছক্কা হাঁকালেন। এরপর শ্রীলঙ্কান থিসারা পেরেরার ব্যাট থেকেও আসল তিন ছক্কা। মুশফিকের হার না মানা ৮১, শাহরিয়ার নাফীসের ৬৩ ও পেরেরার ২৭- তিনটি কার্যকর ইনিংসের ওপর ভর করে বরিশাল বুলসের স্কোর দাঁড়াল ১৯২।

ওই স্কোরের পর প্রেস বক্সে কে একজন বলে উঠলেন, আগের দিন (১২ নভেম্বর) ঢাকা ও রংপুর ম্যাচের মত হবে না তো? বলে রাখা ভাল ওই ম্যাচে ঢাকার ১৭০ রানের জবাবে মাত্র ৯২ রানে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল রংপুরের ইনিংস।

কিন্তু সে সংশয় বাতাসে মিলিয়ে গেল। মিলিয়ে গেল না বলে সে সংশয় ভুল প্রমাণ হলো বলাই বোধকরি যুক্তিযুক্ত হবে। আর সে কাজটা একা করলেন সাব্বির রহমান রুম্মন। ১৯৩ রানের (ওভার পিছু ৯.০৬) বড় লক্ষ্যের পিছু ছুটে যতটা সাহসী ও সাবলীল ব্যাটিং সম্ভব, তার সবটাই করে দেখালেন।

কত সহজে, অবলীলায় চার-ছক্কা হাঁকানো যায়, তার একটা প্রদর্শনী হয়ে গেল। যারা এবার বিপিএল দেখতে গত এক সপ্তায় শেরে বাংলায় একবারের জন্য হলেও এসেছিলেন, অথচ আজ আসেননি, তারা নিশ্চয়ই আফসোসে পুড়েছেন।

না গুনেই বলে দেয়া যায়, রোববার বিকেলে শাহরিয়ার নাফীস-মুশফিক আর পড়ন্ত বিকেল ও সন্ধ্যায় সাব্বিরের চার-ছক্কা বৃষ্টি মাঠে বসে দেখেছেন খুব কম সংখ্যক দর্শক। সাকুল্যে হাজার দুয়েকের মত হবে।

যে অল্প কিছু দর্শক গাঁটের টাকা খরচ করে বরিশাল বুলস ও রাজশাহী কিংসের খেলা দেখতে এসেছিলেন তাদের মাঠে আসা স্বার্থক। তারা এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে হাই স্কোরিং গেমটিই দেখেছেন।

যে ম্যাচে বিজয়ী বরিশালের সংগ্রহ ১৯২। আর বিজিত রাজশাহীর রান ১৮৮। মোট রান ৩৮০। গড় করলে দাঁড়ায় ১৯০। যে উইকেটে রান করাই কষ্টকর। চার-ছক্কা হাঁকানো আরও কঠিন। সেখানে এক ম্যাচে ২৭টি চার ও ২০ ছক্কা যে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি!

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

এক ম্যাচেই ২৭ বাউন্ডারি, ২০ ছক্কা দেখলো দর্শকরা

আপডেট টাইম : ০৫:২০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৬

অবশেষে কাটল রান খরা। হাসল ব্যাট। মিটল দর্শক প্রত্যাশা। বরিশাল বুলস আর রাজশাহী কিংস ম্যাচে রানের নহর। যেখানে ১৩০-এর ওপরে রান হচ্ছিল না। রান করা, আক্রমনাত্মক শটস খেলা এবং চার ও ছক্কার ফুলঝুরি ছোটানো যেখানে প্রায় সোনার হরিণ হয়ে উঠেছিল, ঠিক সেই শেরে বাংলার আজ রোববার বিকেল গড়াতেই অন্যরূপ!

বরিশাল বুলস আর রাজশাহী কিংস ম্যাচে উল্টো রান বন্যা। সাব্বির রহমান রুম্মন আর মুশফিকুর রহীম ও শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটে চার-ছক্কার ফলগুধারা। বিকেলে মুশফিক-শাহরিয়ার নাফীসের স্ট্রোক প্লে‘র অনুপম প্রদর্শনী।

গত কদিন খেলার যে অবস্থা ছিল, তাতে বিচ্ছিন্ন দু’একটা ম্যাচ বা ইনিংস বাদ দিলে গড়পড়তা এক ইনিংসে শতরান করতে লেগেছে ১৬ ওভার। সেখানে রোববার বিকেলে মুশফিক-শাহরিয়ার নাফীস জুটি ১১২ রান তুললেন ১১.৫ ওভারে।

শূন্য রানে প্রথম আর ২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর বিপর্যয় এড়াতে একটু সতর্ক-সাবধানী হয়ে ওঠা। তাই কিছুটা সময় রানের গতি কম ছিল। তারপর ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে শটস খেলায় মন দেয়া। বাড়তে থাকল চার-ছক্কা।

দুজনই সমান চারটি করে ছক্কা হাঁকালেন। এরপর শ্রীলঙ্কান থিসারা পেরেরার ব্যাট থেকেও আসল তিন ছক্কা। মুশফিকের হার না মানা ৮১, শাহরিয়ার নাফীসের ৬৩ ও পেরেরার ২৭- তিনটি কার্যকর ইনিংসের ওপর ভর করে বরিশাল বুলসের স্কোর দাঁড়াল ১৯২।

ওই স্কোরের পর প্রেস বক্সে কে একজন বলে উঠলেন, আগের দিন (১২ নভেম্বর) ঢাকা ও রংপুর ম্যাচের মত হবে না তো? বলে রাখা ভাল ওই ম্যাচে ঢাকার ১৭০ রানের জবাবে মাত্র ৯২ রানে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল রংপুরের ইনিংস।

কিন্তু সে সংশয় বাতাসে মিলিয়ে গেল। মিলিয়ে গেল না বলে সে সংশয় ভুল প্রমাণ হলো বলাই বোধকরি যুক্তিযুক্ত হবে। আর সে কাজটা একা করলেন সাব্বির রহমান রুম্মন। ১৯৩ রানের (ওভার পিছু ৯.০৬) বড় লক্ষ্যের পিছু ছুটে যতটা সাহসী ও সাবলীল ব্যাটিং সম্ভব, তার সবটাই করে দেখালেন।

কত সহজে, অবলীলায় চার-ছক্কা হাঁকানো যায়, তার একটা প্রদর্শনী হয়ে গেল। যারা এবার বিপিএল দেখতে গত এক সপ্তায় শেরে বাংলায় একবারের জন্য হলেও এসেছিলেন, অথচ আজ আসেননি, তারা নিশ্চয়ই আফসোসে পুড়েছেন।

না গুনেই বলে দেয়া যায়, রোববার বিকেলে শাহরিয়ার নাফীস-মুশফিক আর পড়ন্ত বিকেল ও সন্ধ্যায় সাব্বিরের চার-ছক্কা বৃষ্টি মাঠে বসে দেখেছেন খুব কম সংখ্যক দর্শক। সাকুল্যে হাজার দুয়েকের মত হবে।

যে অল্প কিছু দর্শক গাঁটের টাকা খরচ করে বরিশাল বুলস ও রাজশাহী কিংসের খেলা দেখতে এসেছিলেন তাদের মাঠে আসা স্বার্থক। তারা এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে হাই স্কোরিং গেমটিই দেখেছেন।

যে ম্যাচে বিজয়ী বরিশালের সংগ্রহ ১৯২। আর বিজিত রাজশাহীর রান ১৮৮। মোট রান ৩৮০। গড় করলে দাঁড়ায় ১৯০। যে উইকেটে রান করাই কষ্টকর। চার-ছক্কা হাঁকানো আরও কঠিন। সেখানে এক ম্যাচে ২৭টি চার ও ২০ ছক্কা যে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি!