পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, হত্যা-পুশ ইন বন্ধে কঠোর বার্তা Logo ১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ Logo পাটগ্রাম পৌরসভায় IUGIP প্রকল্পের আওতায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শকরণ সভা Logo বিআরটিএ মিরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৪ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo লালমনিরহাটে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আমন চাষিদের বিক্ষোভ Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ

থার্টি ফার্স্টে নিরাপত্তা কড়াকড়িতে মুহিতের অসন্তোষ

খ্রিস্টীয় নতুন বছরের প্রথম ক্ষণ উদযাপনের রাশ টেনে ধরা নিরাপত্তা কড়াকড়িতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

নিরাপত্তা জাতীয় উৎসবের ‘কাউন্টার’ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় হাজারো মানুষ সমবেত হয়ে পহেলা জানুয়ারির প্রথম প্রহরকে স্বাগত জানালেও এবার তা হয়নি।

গেল বছর গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলা দেখে আসা বাংলাদেশে এবার থার্টি ফার্স্ট ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই রাতে ঢাকার জনসমাগমের এলাকাগুলোতে সন্ধ্যার মধ্যে বাসিন্দাদের ঘরে ফিরতে নির্দেশ দেয় পুলিশ। সমুদ্র সৈকতগুলোতেও সন্ধ্যার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

রোববার মন্ত্রণালয়ের একদল কর্মকর্তা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পর মুহিত বলেন, “আমরা পহেলা বৈশাখ অত্যন্ত ধুমধাম করে উদযাপন করি। ওই দিন সরকারি ছুটিও। তবে আমরা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজে ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি। সেটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েই সেটা ব্যবহার করি। কারণ পৃথিবীর সাথে চলতে হবে। সেখানে মোটামুটিভাবে জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার সর্বত্র গৃহীত হয়েছে।

“সুতরাং দ্যাট ডে ইজ ভেরি ইমর্পটেন্ট। কালকে সাড়ে ৮টা-৯টার সময় সারা দেশ স্তব্ধ। মরা… ডেড সিটি… গাড়ি ঘোড়া সব বন্ধ। এই নববর্ষ পালন মন্দ না যে, আমি এই বছরটা এভাবে চালাব, এটা করব, সেটা করব।”

মানুষের উদযাপনে বাধা তৈরি করতে পারে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করে মুহিত বলেন, “এই দিবস উদযাপনে মানুষ দেশ ছেড়ে যায়-এটা খুব খারাপ কথা। সিকিউরিটির বিষয় থাকবে। কিন্তু সিকিউরিটি ন্যাশনাল প্রোগ্রামের কাউন্টার হতে পারে না।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলে ঢাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিয়মিত মুখ মুহিতের মতে, নববর্ষ বা এই ধরনের অনুষ্ঠান ভালো, এর খারাপ দিক নাই।

“হ্যাঁ, একটা বলতে পারেন, খরচ-টরচ হচ্ছে,” অর্থমন্ত্রী।

এর জবাবে তিনি বছরের প্রথমদিন বই উৎসবের প্রসঙ্গ টানেন, যে উৎসবের টাকা খরচের যৌক্তিকতা নিয়ে তার মনে এক সময় প্রশ্ন উঠলেও এখন আর সেটা নেই বলে জানান।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে মন্ত্রী হাসতে হাসতে শনিবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টানেন।

তিনি বলেন, “আমি আমার হোস্টকে বললাম, ‘আপনি যে এ রকম ডাকলেন, ছুটি দেবেন কখন?’ বলে যে, ৮টার সময়। আমি বললাম, ‘ঠিক আছে’।”

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র মুহিত আলোচনায় খ্রিস্টীয় নতুন বছর উদযাপনের ইতিহাসও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “ইংরেজি কালচারে নববর্ষ উদযাপনের কোনো সিস্টেম ছিল না। এটা শুরু হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জার্মানিতে। তারা এই ক্রিসমাস এবং নববর্ষ এ সব উদযাপন করতে শুরু করে।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের নেতৃত্বে বিভাগের কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তাদের আনা দুটি কেকও কাটেন অর্থমন্ত্রী।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, হত্যা-পুশ ইন বন্ধে কঠোর বার্তা

থার্টি ফার্স্টে নিরাপত্তা কড়াকড়িতে মুহিতের অসন্তোষ

আপডেট টাইম : ০৫:২৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০১৭

খ্রিস্টীয় নতুন বছরের প্রথম ক্ষণ উদযাপনের রাশ টেনে ধরা নিরাপত্তা কড়াকড়িতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

নিরাপত্তা জাতীয় উৎসবের ‘কাউন্টার’ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় হাজারো মানুষ সমবেত হয়ে পহেলা জানুয়ারির প্রথম প্রহরকে স্বাগত জানালেও এবার তা হয়নি।

গেল বছর গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলা দেখে আসা বাংলাদেশে এবার থার্টি ফার্স্ট ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই রাতে ঢাকার জনসমাগমের এলাকাগুলোতে সন্ধ্যার মধ্যে বাসিন্দাদের ঘরে ফিরতে নির্দেশ দেয় পুলিশ। সমুদ্র সৈকতগুলোতেও সন্ধ্যার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

রোববার মন্ত্রণালয়ের একদল কর্মকর্তা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পর মুহিত বলেন, “আমরা পহেলা বৈশাখ অত্যন্ত ধুমধাম করে উদযাপন করি। ওই দিন সরকারি ছুটিও। তবে আমরা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজে ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি। সেটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েই সেটা ব্যবহার করি। কারণ পৃথিবীর সাথে চলতে হবে। সেখানে মোটামুটিভাবে জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার সর্বত্র গৃহীত হয়েছে।

“সুতরাং দ্যাট ডে ইজ ভেরি ইমর্পটেন্ট। কালকে সাড়ে ৮টা-৯টার সময় সারা দেশ স্তব্ধ। মরা… ডেড সিটি… গাড়ি ঘোড়া সব বন্ধ। এই নববর্ষ পালন মন্দ না যে, আমি এই বছরটা এভাবে চালাব, এটা করব, সেটা করব।”

মানুষের উদযাপনে বাধা তৈরি করতে পারে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করে মুহিত বলেন, “এই দিবস উদযাপনে মানুষ দেশ ছেড়ে যায়-এটা খুব খারাপ কথা। সিকিউরিটির বিষয় থাকবে। কিন্তু সিকিউরিটি ন্যাশনাল প্রোগ্রামের কাউন্টার হতে পারে না।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলে ঢাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিয়মিত মুখ মুহিতের মতে, নববর্ষ বা এই ধরনের অনুষ্ঠান ভালো, এর খারাপ দিক নাই।

“হ্যাঁ, একটা বলতে পারেন, খরচ-টরচ হচ্ছে,” অর্থমন্ত্রী।

এর জবাবে তিনি বছরের প্রথমদিন বই উৎসবের প্রসঙ্গ টানেন, যে উৎসবের টাকা খরচের যৌক্তিকতা নিয়ে তার মনে এক সময় প্রশ্ন উঠলেও এখন আর সেটা নেই বলে জানান।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে মন্ত্রী হাসতে হাসতে শনিবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টানেন।

তিনি বলেন, “আমি আমার হোস্টকে বললাম, ‘আপনি যে এ রকম ডাকলেন, ছুটি দেবেন কখন?’ বলে যে, ৮টার সময়। আমি বললাম, ‘ঠিক আছে’।”

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র মুহিত আলোচনায় খ্রিস্টীয় নতুন বছর উদযাপনের ইতিহাসও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “ইংরেজি কালচারে নববর্ষ উদযাপনের কোনো সিস্টেম ছিল না। এটা শুরু হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জার্মানিতে। তারা এই ক্রিসমাস এবং নববর্ষ এ সব উদযাপন করতে শুরু করে।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের নেতৃত্বে বিভাগের কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তাদের আনা দুটি কেকও কাটেন অর্থমন্ত্রী।