অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo ১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ Logo পাটগ্রাম পৌরসভায় IUGIP প্রকল্পের আওতায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শকরণ সভা Logo বিআরটিএ মিরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৪ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo লালমনিরহাটে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আমন চাষিদের বিক্ষোভ Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪

১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ

নিজস্ব সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এ. এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। মাত্র পাঁচ পরীক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন ১১ জন শিক্ষক। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ায় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নারী শিক্ষার প্রসারে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ. এম. রথবাড়ী বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হলেও উচ্চ বিদ্যালয় শাখা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন সাতজন এমপিওভুক্ত ও চারজন নন-এমপিও শিক্ষক। এছাড়া আরও চারটি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যেই চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানে উদাসীনতা, যথাযথ তদারকির অভাব এবং শিক্ষার মান কমে যাওয়ায় বিদ্যালয়টির ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উচ্চ বিদ্যালয় শাখার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পাঠদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এর সঙ্গে রয়েছে শিক্ষক সংকট। মূলত কাঠামোগত ও আর্থিক সংকটের কারণেই ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুল আলম বলেন, বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ

১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ

আপডেট টাইম : ০৮:৩৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এ. এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। মাত্র পাঁচ পরীক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন ১১ জন শিক্ষক। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ায় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নারী শিক্ষার প্রসারে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ. এম. রথবাড়ী বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হলেও উচ্চ বিদ্যালয় শাখা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন সাতজন এমপিওভুক্ত ও চারজন নন-এমপিও শিক্ষক। এছাড়া আরও চারটি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যেই চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানে উদাসীনতা, যথাযথ তদারকির অভাব এবং শিক্ষার মান কমে যাওয়ায় বিদ্যালয়টির ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উচ্চ বিদ্যালয় শাখার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পাঠদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এর সঙ্গে রয়েছে শিক্ষক সংকট। মূলত কাঠামোগত ও আর্থিক সংকটের কারণেই ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুল আলম বলেন, বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।