অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

তিস্তার পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর ॥ পানি বন্দি ১০ হাজার মানুষ

বাংলার খবর২৪.কম,500x350_9514fa38c3bd345aad67f15c9136fef7_teesta-swiellingরংপুর : তিস্তার পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ১০ হাজার মানুষ আবারো পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে একটানা ৪ দিনের ভারি বর্ষণে রংপুর বিভাগে প্রায় ১৫ হাজার পুকুর, খাল ও বিলের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রাথমিক ভাবে ক্ষতির পারিমান ধারণা করা হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকা। পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় শত শত মৎস চাষির পুঁিজ হারিয়ে পথে বসার উপক্রমে হয়েছে। অপরদিকে রংপুর নগরের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নগরের শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, বাবুখা, গনেশপুর, গুড়াতিপাড়া, সাতগাড়া, ঠিকাদারপাড়া, হনুমানতলাসহ বিভিন্ন এলাকা হাটু নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে জনগনের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
রংপুর নগরের লোকমান হোসেন ৩০ লাখ টাকা দিয়ে কুকরুল বিল লিজ নিয়ে ছিলেন। ভারি বর্ষণে বিলের পানি উপচিয়ে মাছ ভেসে গেছে। ফলে তাকে লোকসান গুনতে হবে ১৫ লাখ টাকা। নগরে সাতামাথা এলাকার সোহেল মিয়ার পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। তিনি জানান তার ১ লাখ টাকার ওপর ক্ষতি হবে। মৎস বিভাগের মতে রংপুর বিভাগে প্রায় ১৫ হাজার পুকুর ও বিল রয়েছে। এর অধিকাংশই ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। ফলে শতশত মৎসজীবী পুজি হারিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে।
এদিকে তিস্তা নদী আবার ফুসে উঠেছে। সোমবার সকাল ৬ টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টি মিটার ওপর দিয়ে ৫২ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে তিস্তার দু কূল আবার প্লাবিত হযেছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ, আলমবিদিতর ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও আমন ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে অনেক এলাকায়। কোলকোন্দ ইউনিয়নের নির্মল, আবু ইসলাম, নজরুলসহ বেশ কজন চাষি জানান, পরপর তিন বার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে এবার তিস্তা পাড়ের চাষিদের। তারা জানান, তাদের অনেকের আমান ধানে শীষ বেরিয়েছিল। ভারি বর্ষণ ও তিস্তার পানিতে তাদের ক্ষেতের ফসল ডুবে গেছে। তারা এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান জানান, টানা বর্ষন ও তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া নদীর তীরবর্তি এলাকায় নতুন করে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। এই উপজেলার ৩ টি ইউনিয়নের পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। তিনি পানিবন্দি মানুষের সাহার্য্যে সরকাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে আবহাওয়াবিদ আতিকুর রহমান জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত শুক্রবার থেকে এই অঞ্চলে ভারি বর্ষণ শুরু হয়। গত ৪৮ ঘন্টায় এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪৩ মিলিমিটার ।
এদিকে ভারি বর্ষণের কারণে নগরীতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। সিটি করপোরেশনের আওতায় ৩৩ ওয়ার্ডের অধিকাংশ নিম্ন এলাকা পানিতে নিজ্জিত হয়ে পড়েছে। ফলে এস এলাকার লক্ষাধিক মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

তিস্তার পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর ॥ পানি বন্দি ১০ হাজার মানুষ

আপডেট টাইম : ০২:০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম,500x350_9514fa38c3bd345aad67f15c9136fef7_teesta-swiellingরংপুর : তিস্তার পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ১০ হাজার মানুষ আবারো পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে একটানা ৪ দিনের ভারি বর্ষণে রংপুর বিভাগে প্রায় ১৫ হাজার পুকুর, খাল ও বিলের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রাথমিক ভাবে ক্ষতির পারিমান ধারণা করা হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকা। পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় শত শত মৎস চাষির পুঁিজ হারিয়ে পথে বসার উপক্রমে হয়েছে। অপরদিকে রংপুর নগরের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নগরের শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, বাবুখা, গনেশপুর, গুড়াতিপাড়া, সাতগাড়া, ঠিকাদারপাড়া, হনুমানতলাসহ বিভিন্ন এলাকা হাটু নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে জনগনের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
রংপুর নগরের লোকমান হোসেন ৩০ লাখ টাকা দিয়ে কুকরুল বিল লিজ নিয়ে ছিলেন। ভারি বর্ষণে বিলের পানি উপচিয়ে মাছ ভেসে গেছে। ফলে তাকে লোকসান গুনতে হবে ১৫ লাখ টাকা। নগরে সাতামাথা এলাকার সোহেল মিয়ার পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। তিনি জানান তার ১ লাখ টাকার ওপর ক্ষতি হবে। মৎস বিভাগের মতে রংপুর বিভাগে প্রায় ১৫ হাজার পুকুর ও বিল রয়েছে। এর অধিকাংশই ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। ফলে শতশত মৎসজীবী পুজি হারিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে।
এদিকে তিস্তা নদী আবার ফুসে উঠেছে। সোমবার সকাল ৬ টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টি মিটার ওপর দিয়ে ৫২ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে তিস্তার দু কূল আবার প্লাবিত হযেছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ, আলমবিদিতর ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও আমন ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে অনেক এলাকায়। কোলকোন্দ ইউনিয়নের নির্মল, আবু ইসলাম, নজরুলসহ বেশ কজন চাষি জানান, পরপর তিন বার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে এবার তিস্তা পাড়ের চাষিদের। তারা জানান, তাদের অনেকের আমান ধানে শীষ বেরিয়েছিল। ভারি বর্ষণ ও তিস্তার পানিতে তাদের ক্ষেতের ফসল ডুবে গেছে। তারা এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান জানান, টানা বর্ষন ও তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া নদীর তীরবর্তি এলাকায় নতুন করে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। এই উপজেলার ৩ টি ইউনিয়নের পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। তিনি পানিবন্দি মানুষের সাহার্য্যে সরকাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে আবহাওয়াবিদ আতিকুর রহমান জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত শুক্রবার থেকে এই অঞ্চলে ভারি বর্ষণ শুরু হয়। গত ৪৮ ঘন্টায় এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪৩ মিলিমিটার ।
এদিকে ভারি বর্ষণের কারণে নগরীতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। সিটি করপোরেশনের আওতায় ৩৩ ওয়ার্ডের অধিকাংশ নিম্ন এলাকা পানিতে নিজ্জিত হয়ে পড়েছে। ফলে এস এলাকার লক্ষাধিক মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।